হজের পরে

বর্ণনা

যে কোনো সৎ আমল করার পর আমাদের নিকট যে বিষয়টি মুখ্য হয়ে দাঁড়ায় তা হলো: আমল কবূলের বিষয়, কবূল হলো কি হলো না। নিশ্চয় সৎ আমল করতে পারা বড় একটি নি‘আমত; কিন্তু অন্য একটি নি‘আমত ব্যতীত তা পূর্ণ হয় না, যা তার চেয়ে বড়, তা হলো কবূলের নি‘আমত। হজের পর এত কষ্ট ও ত্যাগ স্বীকার করে তা যদি কবূল না হয়, তবে অবশ্যই এক মহাবিপদ। এর চেয়ে আর বড় ক্ষতি কী রয়েছে যদি আমলটি প্রত্যাখ্যাত হয় এবং দুনিয়া ও আখেরাতে স্পষ্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়? উক্ত প্রবন্ধে হজের পর কী করণীয় তা আলোচনা করা হয়েছে।

Download
এ পেইজ এর দায়িত্বশীলের কাছে টীকা লিখুন

সম্পূর্ণ বিবরণ

    হজের পরে

    মুহাম্মাদ আব্দুর রব আফ্‌ফান

    সম্পাদনা : ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া

    وماذا بعد الحج

    (باللغة البنغالية)

    محمد عبد الرب عفان

    مراجعة: د/ أبو بكر محمد زكريا

    সংক্ষিপ্ত বর্ণনা.............

    যে কোনো সৎ আমল করার পর আমাদের নিকট যে বিষয়টি মুখ্য হয়ে দাঁড়ায় তা হলো: আমল কবূলের বিষয়, কবূল হলো কি হলো না। নিশ্চয় সৎ আমল করতে পারা বড় একটি নি‘আমত; কিন্তু অন্য একটি নি‘আমত ব্যতীত তা পূর্ণ হয় না, যা তার চেয়ে বড়, তা হলো কবূলের নি‘আমত। হজের পর এত কষ্ট ও ত্যাগ স্বীকার করে তা যদি কবূল না হয়, তবে অবশ্যই এক মহাবিপদ। এর চেয়ে আর বড় ক্ষতি কী রয়েছে যদি আমলটি প্রত্যাখ্যাত হয় এবং দুনিয়া ও আখেরাতে স্পষ্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়? উক্ত প্রবন্ধে হজের পর কী করণীয় তা আলোচনা করা হয়েছে।

    بسم الله الرحمن الرحيم

    যে কোনো সৎ আমল করার পর আমাদের নিকট যে বিষয়টি মুখ্য হয়ে দাঁড়ায় তা হলো: আমল কবূলের বিষয়, কবূল হলো কি হলো না।

    নিশ্চয় সৎ আমল করতে পারা বড় একটি নি‘আমত; কিন্তু অন্য একটি নি‘আমত ব্যতীত তা পূর্ণ হয় না, যা তার চেয়ে বড়, তা হলো কবূলের নি‘আমত। এটি নিশ্চিত যে, হজের পর এত কষ্ট ও ত্যাগ স্বীকার করে তা যদি কবূল না হয়, তবে অবশ্যই এক মহাবিপদ। এর চেয়ে আর বড় ক্ষতি কি রয়েছে যদি আমলটি প্রত্যাখ্যাত হয় এবং দুনিয়া ও আখেরাতে স্পষ্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়?

    বান্দা যেহেতু জানে, অনেক আমলই রয়েছে যা বিভিন্ন কারণে গ্রহণযোগ্য হয় না। অতএব, গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, আমল কবূলের কারণ ও উপায় সম্পর্কে জানা। যদি কারণগুলো তার মধ্যে বিদ্যমান থাকে, তবে যেন আল্লাহর প্রশংসা করে এবং ক্রমাগত তার ওপর অটল থাকে ও আমল করে যায়। আর যদি তা বিদ্যমান না পায় তবে এ মুহূর্তেই যে বিষয়ের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে তা হলো: ইখলাসের সাথে সেগুলোর মাধ্যমে আমল করায় সচেষ্ট হওয়া।

    কতিপয় আমল কবূলের কারণ ও উপায়

    ১। স্বীয় আমলকে বড় মনে না করা ও তার ওপর গর্ব না করা:

    মানুষ যত আমলই করুক না কেন আল্লাহ তার দেহ থেকে শুরু করে সার্বিকভাবে যত নি‘আমত তাকে প্রদান করেছেন, সে তুলনায় মূলত সে আল্লাহর কিছুই হক আদায় করতে পারে নি। সুতরাং একনিষ্ট ও খাঁটি মুমিনের চরিত্র হলো তারা তাদের আমলসমূহকে তুচ্ছ জ্ঞান করবে, বড় মনে করে গর্ব-অহংকার করবে না; যার ফলে তাদের সাওয়াব নষ্ট হয়ে যায় ও সৎ আমল করার ক্ষেত্রে অলসতা এসে যায়।

    স্বীয় আমলকে তু্চ্ছ জ্ঞান করার সহায়ক বিষয়: (১) আল্লাহ তা‘আলা সম্পর্কে যথাযথভাবে জানা (২) আল্লাহর নি‘আমতসমূহ উপলব্ধি করা ও (৩) নিজের গুনাহ-খাতা ও অসম্পূর্ণতাকে স্মরণ করা। যেমন, আল্লাহ তা‘আলা তাঁর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে গুরু দায়িত্ব অর্পণের পরে অসীয়ত করেন,

    ﴿وَلَا تَمۡنُن تَسۡتَكۡثِرُ ٦﴾ [المدثر: ٦]

    (নবুওয়াতের বোঝা বহন করতঃ) আপনি (আপনার রবের প্রতি) অনুগ্রহ প্রকাশ করবেন না, বরং বেশি বেশি আমল করতে সচেষ্ট থাকুন। [সূরা আল-মুদ্দাসসির, আয়াত: ৬]

    ২। আমলটি কবূল হবে কিনা, এ মর্মে শঙ্কিত থাকা:

    সালাফে সালেহীন-সাহাবায়ে কিরাম আমল কবূল হওয়ার ব্যাপারটিকে খুব বেশি গুরুত্ব দিতেন, এমনকি তারা ভয় ও আশঙ্কায় থাকতেন। যেমন, আল্লাহ তাদের অবস্থা বর্ণনা করে বলেন

    ﴿ وَٱلَّذِينَ يُؤۡتُونَ مَآ ءَاتَواْ وَّقُلُوبُهُمۡ وَجِلَةٌ أَنَّهُمۡ إِلَىٰ رَبِّهِمۡ رَٰجِعُونَ ٦٠ ﴾ [المؤمنون: ٦٠]

    “যারা ভীত কম্পিত হয়ে দান করে যা দান করার; কেননা তারা তাদের রবের নিকট প্রত্যাবর্তন করবে। [সূরা আল-মুমিনূন, আয়াত: ৬০]

    নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আয়াতটির ব্যাখ্যা করেন, তারা সাওম পালন করে, সালাত আদায় করে, দান-খয়রাত করে আর ভয় করে যে, মনে হয় তা কবূল হয় না।

    আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, তোমাদের পক্ষ থেকে তোমাদের আমলসমূহ কবূল হওয়ার ব্যাপারে তোমরা খুব বেশি গুরুত্ব প্রদান কর। তোমরা কি আল্লাহর বাণী শ্রবণ কর না,

    ﴿إِنَّمَا يَتَقَبَّلُ ٱللَّهُ مِنَ ٱلۡمُتَّقِينَ﴾ [المائ‍دة: ٢٧]

    “নিশ্চয় আল্লাহ মুত্তাকীদের পক্ষ হতেই কবূল করে থাকেন”[সূরা ­আল-মায়েদা, আয়াত: ২৭]

    ৩। আমল কবূলের আশা পোষণ ও দো‘আ করা:

    আল্লাহর প্রতি ভয়ই যথেষ্ট নয়, বরং অনুরূপ তাঁর নিকট আশা পোষণ করতে হবে। কেননা আশা বিহীন ভয় নিরাশ হওয়ার কারণ এবং ভয় বিহীন আশা আল্লাহর শাস্তি থেকে নিজেকে মুক্ত মনে করার কারণ। অথচ উভয়টিই দোষণীয়, যা মানুষের আকীদা ও আমলে মন্দ প্রভাব বিস্তার করে।

    জেনে রাখুন! আমল প্রত্যাখ্যান হয়ে যাওয়ার ভয়-আশঙ্কার সাথে সাথে আমল কবূলের আশা পোষণ মানুষের জন্যে বিনয়-নম্রতা ও আল্লাহ ভীতি এনে দেয়। যার ফলে তার ঈমান বৃদ্ধি পায়। যখন বান্দার মধ্যে আশা পোষণের গুণ সাব্যস্ত হয় তখন সে অবশ্যই তার আমল কবূল হওয়ার জন্য তার প্রভূর নিকট দু’হাত তুলে প্রার্থনা করে; যেমন করেছিলেন আমাদের পিতা ইবরাহীম খলীল ও তার পুত্র ইসমাঈল আলাইহিমাস সালাম, যা আল্লাহ তা‘আলা তাদের কা‘বাগৃহ নির্মাণের ব্যাপারটি উল্লেখ করে বর্ণনা করেন,

    ﴿وَإِذۡ يَرۡفَعُ إِبۡرَٰهِ‍ۧمُ ٱلۡقَوَاعِدَ مِنَ ٱلۡبَيۡتِ وَإِسۡمَٰعِيلُ رَبَّنَا تَقَبَّلۡ مِنَّآۖ إِنَّكَ أَنتَ ٱلسَّمِيعُ ٱلۡعَلِيمُ ١٢٧﴾ [البقرة: ١٢٧]

    “যখন ইবরাহীম ও ইসমাঈল বায়তুল্লাহ’র ভিত্তি বুলন্দ করেন, (দো‘আ করেন) হে আমাদের রব তুমি আমাদের দো‘আ কবূল করে নিও। নিশ্চয় তুমি সর্বশ্রোতা সর্বজ্ঞ”[সূরা আল-বাকারাহ, আয়াত: ১২৭]

    ৪। বেশি বেশি ইস্তেগফার-ক্ষমা প্রার্থনা:

    মানুষ তার আমলকে যতই পরিপূর্ণ করার জন্য সচেষ্ট হোক না কেন, তাতে অবশ্যই ত্রুটি ও অসম্পূর্ণতা থেকেই যাবে। এজন্যেই আল্লাহ তা‘আলা আমাদেরকে শিক্ষা দান করেছেন, কীভাবে আমরা সে অসম্পূর্ণতাকে দূর করবো। সুতরাং তিনি আমাদেরকে ইবাদাত-আমলের পর ইস্তেগফার-ক্ষমা প্রার্থনার শিক্ষা দান করেন। যেমন, আল্লাহ তা‘আলা হজের হুকুম বর্ণনার পর বলেন,

    ﴿ثُمَّ أَفِيضُواْ مِنۡ حَيۡثُ أَفَاضَ ٱلنَّاسُ وَٱسۡتَغۡفِرُواْ ٱللَّهَۚ إِنَّ ٱللَّهَ غَفُورٞ رَّحِيمٞ ١٩٩﴾ [البقرة: ١٩٩]

    “অতঃপর তোমরা (আরাফাত) থেকে প্রত্যাবর্তন করে, এসো যেখান থেকে লোকেরা প্রত্যাবর্তন করে আসে। আর আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করতে থাক, নিশ্চয় আল্লাহ মহা ক্ষমাশীল ও দয়াবান”[সূরা আল-বাকারাহ, আয়াত: ১৯৯]

    তাই তো নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রত্যেক সালাতের পর তিনবার করে “আস্তগফিরুল্লাহ” (আমি আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করছি) বলতেন।

    ৫। বেশি বেশি সৎ আমল করা:

    নিশ্চয় সৎ আমল একটি উত্তম বৃক্ষ। বৃক্ষ চায় তার পরিচর্যা, যেন সে বৃদ্ধি লাভ করে সুদৃঢ় হয়ে যথাযথ ফল দিতে পারে। সৎ আমলের পর সৎ আমল করে যাওয়া অবশ্যই আমল কবূলের একটি অন্যতম আলামত। আর এটি আল্লাহর বড় অনুগ্রহ ও নি‘আমত, যা তিনি তার বান্দাকে প্রদান করে থাকেন। যদি বান্দা উত্তম আমল করে ও তাতে ইখলাস বজায় রাখে তখন আল্লাহ তার জন্য অন্যান্য উত্তম আমলের দরজা খুলে দেন। যার ফলে তার নৈকট্যও বৃদ্ধি পায়।

    ৬। সৎ আমলের স্থায়ীত্ব ও ধারাবাহিকতা বজায় রাখা:

    যে ব্যক্তি নেকী অর্জনের মৌসুম অতিবাহিত করার পর সৎ আমলের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে চায়, তার জন্য জরুরি হলো সে যেন সৎ আমলে স্থায়ী ও অটল থাকার গুরুত্ব, ফযীলত, উপকারিতা, তার প্রভাব, তা অর্জনের সহায়ক বিষয় ও এক্ষেত্রে সালাফে সালেহীনের অবস্থা সম্পর্কে জ্ঞানার্জন করে।

    সৎ আমলের ওপর স্থায়ী ও অটল থাকার গুরুত্ব

    ইসলামী শরী‘আতে সৎ আমলের ওপর স্থায়ী ও অটল থাকার গুরুত্ব নিম্নের বিষয়গুলো থেকে ফুটে উঠে:

    ১। আল্লাহ তা‘আলার ফরয আমলসমূহ, যা অবশ্যই ধারাবাহিতকতার ভিত্তিতেই ফরয করা হয়েছে এবং তা আল্লাহর নিকট সর্বাধিক প্রিয় আমল।

    ২। সৎ আমলের স্থায়ীত্ব ও ধারাবাহিকতা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অন্যতম তরীকা ও নীতি।

    ৩। ক্রমাগত আমল ও তার ধারাবাহিকতা বজায় রাখা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের নিকট উত্তম আমলের অন্তর্ভুক্ত। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,

    «إِنَّ أَحَبَّ الأَعْمَالِ إِلَى اللهِ مَا دَامَ وَإِنْ قَلَّ»

    “আল্লাহর নিকট সর্বাধিক প্রিয় আমল হলো, যা নিয়মিত করা হয়, যদিও তা অল্প হয়”[1]

    সৎ আমলের ওপর স্থায়ী ও অটল থাকার প্রভাব ও উপকারিতা:

    আল্লাহ তা‘আলা তাঁর সৎ আমলের হিফাযতকারী বান্দাদেরকে বহুভাবে সম্মানিত ও উপকৃত করে থাকেন। যেমন,

    ১। স্রষ্টার সাথে তার সার্বক্ষণিক যোগাযোগ, যা তাকে অগাধ শক্তি, দৃঢ়তা, আল্লাহর সাথে নিবিড় সম্পর্ক ও তাঁর ওপর মহা আস্থা তৈরি করে দেয়। এমনকি তার দুঃখ-কষ্ট ও চিন্তা-ভাবনায় আল্লাহই যথেষ্ট হয়ে যান। যেমন, আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

    ﴿وَمَن يَتَوَكَّلۡ عَلَى ٱللَّهِ فَهُوَ حَسۡبُهُ﴾ [الطلاق: ٣]

    “যে ব্যক্তি আল্লাহর ওপর ভরসা করবে আল্লাহই তার জন্য যথেষ্ট”[সূরা আত-ত্বালাক, আয়াত: ৩]

    ২। অলসতা-উদাসীনতা থেকে অন্তরকে ফিরিয়ে রেখে সৎ আমলকে আঁকড়ে ধরার প্রতি অভ্যস্ত করা, যেন ক্রমান্নয়ে তা সহজ হয়ে যায়। যেমন, কথিত আছে, “তুমি তোমার অন্তরকে যদি সৎ আমলে পরিচালিত না কর, তবে সে তোমাকে গুনাহের দিকে পরিচালিত করবে”

    ৩। এ নীতি অবলম্বন হলো আল্লাহর মুহাব্বত ও অভিভাবকত্ব লাভের উপায়। যেমন, হাদীসে কুদসীতে আল্লাহ বলেন,

    «مَا يَزَالُ عَبْدِي يَتَقَرَّبُ إِلَيَّ بِالنَّوَافِلِ حَتَّى أُحِبَّهُ»

    “আমার বান্দা নফল ইবাদাতসমূহ দ্বারা আমার নৈকট্য অর্জন করতেই থাকে, এমনকি তাকে আমি মুহাব্বত করতে শুরু করি---”[2]

    ৪। সৎ আমলে অবিচল থাকা বিপদ-আপদে মুক্তির একটি কারণ। যেমন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমাকে উপদেশ দেন:

    «احفظ الله يحفظْك، احفظ الله تَجدْه أمامك، تَعَرَّف إليه في الرخاء يَعْرِفْك في الشدة»

    “আল্লাহকে হিফাযত কর তিনি তোমাকে হিফাযত করবেন, আল্লাহকে হিফাযত কর, তুমি তাঁকে তোমার সামনে পাবে; সুখে-শান্তিতে তাঁকে চেন, তিনি তোমাকে বিপদে চিনবেন”[3]

    ৫। সৎ আমলে অবিচলতা অশ্লীলতা ও মন্দ আমল থেকে বিরত রাখে। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

    ﴿إِنَّ ٱلصَّلَوٰةَ تَنۡهَىٰ عَنِ ٱلۡفَحۡشَآءِ وَٱلۡمُنكَرِۗ ﴾ [العنكبوت: ٤٥]

    “নিশ্চয় সালাত অশ্লীলতা ও অন্যায় কাজ থেকে বিরত রাখে”[সূরা আল-‘আনকাবূত, আয়াত: ৪৫]

    ৬। সৎ আমলে অবিচল থাকা গুনাহ-খাতা মিটে যাওয়ার একটি কারণ। যেমন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,

    «أَرَأَيْتُمْ لَوْ أَنَّ نَهَرًا بِبَابِ أَحَدِكُمْ يَغْتَسِلُ فِيهِ كُلَّ يَوْمٍ خَمْسًا، مَا تَقُولُ: ذَلِكَ يُبْقِي مِنْ دَرَنِهِ " قَالُوا: لاَ يُبْقِي مِنْ دَرَنِهِ شَيْئًا، قَالَ: «فَذَلِكَ مِثْلُ الصَّلَوَاتِ الخَمْسِ، يَمْحُو اللَّهُ بِهِ الخَطَايَا»

    “তোমাদের কারো দরজায় যদি একটি নদী থাকে, আর সে তাতে প্রতিদিন পাঁচবার করে গোসল করে, তবে তার দেহে কি কোনো ময়লা অবশিষ্ট থাকবে? সাহাবীগণ বলেন, না। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন: এমনই পাঁচ ওয়াক্ত সালাত, আল্লাহ যার দ্বারা গুনাহসমূহকে মিটিয়ে দেন”[4]

    ৭। সৎ আমলে স্থায়ী ও অটল থাকা, উত্তম শেষ পরিণামের কারণ। যেমন, আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

    ﴿وَٱلَّذِينَ جَٰهَدُواْ فِينَا لَنَهۡدِيَنَّهُمۡ سُبُلَنَاۚ وَإِنَّ ٱللَّهَ لَمَعَ ٱلۡمُحۡسِنِينَ ٦٩﴾ [العنكبوت: ٦٩]

    “যারা আমাদের পথে চেষ্টা-সাধনা করবে অবশ্যই আমরা তাদেরকে আমাদের পথ দেখিয়ে দিব। নিশ্চয় আল্লাহ সৎকর্মশীলদের সাথে আছেন”[সূরা আল-‘আনকাবূত: ৬৯]

    ৮। এটি কিয়ামতের দিন হিসাব সহজ হওয়া ও আল্লাহর ক্ষমা লাভের উপায়।

    ৯। এ নীতি মুনাফেকী থেকে অন্তরের পরিশুদ্ধতা ও জাহান্নামের আগুন থেকে পরিত্রাণের একটি উপায়। যেমন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,

    «مَنْ صَلَّى لِلَّهِ أَرْبَعِينَ يَوْمًا فِي جَمَاعَةٍ يُدْرِكُ التَّكْبِيرَةَ الأُولَى كُتِبَ لَهُ بَرَاءَتَانِ: بَرَاءَةٌ مِنَ النَّارِ، وَبَرَاءَةٌ مِنَ النِّفَاقِ»

    “যে ব্যক্তি চল্লিশ দিন (ক্রমাগত) জামা‘আতের সাথে প্রথম তাকবীর পেয়ে আল্লাহর জন্য সালাত আদায় করবে তার জন্য দু’প্রকার মুক্তির ঘোষণা: (১) জাহান্নামের আগুন থেকে মুক্তি ও (২) মুনাফেকী থেকে মুক্তি।[5]

    ১০। এটি জান্নাতে প্রবেশের উপায়: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন:

    «مَنْ أَنْفَقَ زَوْجَيْنِ فِي سَبِيلِ اللهِ نُودِيَ فِي الْجَنَّةِ: يَا عَبْدَ اللهِ، هَذَا خَيْرٌ، فَمَنْ كَانَ مِنْ أَهْلِ الصَّلَاةِ، دُعِيَ مِنْ بَابِ الصَّلَاةِ، وَمَنْ كَانَ مِنْ أَهْلِ الْجِهَادِ، دُعِيَ مِنْ بَابِ الْجِهَادِ، وَمَنْ كَانَ مِنْ أَهْلِ الصَّدَقَةِ، دُعِيَ مِنْ بَابِ الصَّدَقَةِ، وَمَنْ كَانَ مِنْ أَهْلِ الصِّيَامِ، دُعِيَ مِنْ بَابِ الرَّيَّانِ»

    “যে ব্যক্তি কোনো জিনিসের দু’প্রকার আল্লাহর রাস্তায় খরচ করল, তাকে জান্নাতের দরজাসমূহ থেকে আহ্বান করা হবে। জান্নাতের রয়েছে আটটি দরজা, সুতরাং যে ব্যক্তি সালাত আদায়কারী, তাকে সালাতের দরজা দিয়ে আহ্বান করা হবে, যে ব্যক্তি মুজাহিদ, তাকে জিহাদের দরজা দিয়ে আহ্বান করা হবে, যে ব্যক্তি দান-খয়রাতকারী, তাকে দান-খয়রাতের দরজা দিয়ে আহ্বান করা হবে এবং যে ব্যক্তি সাওম পালনকারী তাকে রাইয়্যান নামক দরজা দিয়ে আহ্বান করা হবে”[6]

    ১১। যে ব্যক্তি নিয়মিত সৎ আমল করে, অতঃপর অসুস্থতা, সফর বা অনিচ্ছাকৃত ঘুমের কারণে যদি সে আমল বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়, তবে তার জন্য সে আমলের সাওয়াব লিখা হবে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “বান্দা যখন অসুস্থ হয় বা সফর করে, তবে তার জন্য অনুরূপ সাওয়াব লিখা হয়, যা সে গৃহে অবস্থানরত অবস্থায় ও সুস্থ অবস্থায় করত”[7] এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,

    «مَا مِنَ امْرِئٍ تَكُونُ لَهُ صَلَاةٌ بِلَيْلٍ فَغَلَبَهُ عَلَيْهَا نَوْمٌ إِلَّا كَتَبَ اللَّهُ لَهُ أَجْرَ صَلَاتِهِ، وَكَانَ نَوْمُهُ صَدَقَةً عَلَيْهِ»

    “যে ব্যক্তির রাতে সালাত ছিল; কিন্তু তা হতে নিদ্রা তার ওপর প্রভাব বিস্তার করে, তবে আল্লাহ তার জন্য সে সালাতের সাওয়াব লিখে দিবেন এবং তার সে নিদ্রা হবে তার জন্য সদকাস্বরূপ।[8]

    অতএব, আমরা যারা হজ মৌসুমে নিজেকে সংশোধন ও পরিবর্তন করেছি তাদের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করি, আমরা যেন নিম্নের বিষয়টি গুরুত্বের সাথে লক্ষ্য করি:

    হজের পর করণীয়

    বিদায় তাওয়াফ শেষে যেন দুনিয়ায় নবাগত শিশু, ক্ষমাপ্রাপ্ত, প্রশংসনীয় চেষ্টা, গৃহীত আমল ও মাবরুর-গৃহীত হজ (যার প্রতিদান জান্নাত) সমাপ্ত করে ফিরে ধন্য হবেন হাজীগণ ।

    প্রত্যেকেই চায় হজ আদায়ের জন্য মক্কা যাবে, আল্লাহ তা‘আলাকে রাজী-খুশী করবে ও ইসলামের পাঁচটি রুকনের পঞ্চম রুকন বাস্তবায়ন করে ধন্য হবে। এ মর্মে হাজী সাহেবগণ কষ্টের পর কষ্ট সহ্য করেন। যাবতীয় কষ্ট অতিক্রম করে কুপ্রবৃত্তির ওপর বিজয় লাভ করে তাকওয়ার লেবাস অর্জন করেন।

    সুতরাং এ হজ আদায় শেষে নবজাতকের বেশে গুনাহ-খাতা মুক্ত দেশে ফিরে যাবেন। তারপর কি পুনরায় পূর্বের ন্যায় পাপাচারে প্রত্যাবর্তন বিবেক সম্মত হবে? অতএব, কীভাবে তিনি তার নব-ভুমিষ্ট সাদৃশ নিষ্পাপ অবস্থাকে সংরক্ষণ করবেন ও কীভাবে তাকওয়ার ওপর প্রতিষ্ঠিত থাকবেন এবং সঠিক আমলে অবিচল ও অটল থাকবেন? তার জন্যই নিম্নের বিষয়গুলো সবিনয়ে নিবেদন করছি:

    প্রথম: এ বছর আল্লাহ আমাদের মধ্যে যাকে হজ আদায়ের তাওফীক প্রদান করে ধন্য করেছেন, তার উচিৎ মাওলার কৃতজ্ঞতা প্রকাশ ও প্রশংসা করা। কেননা তিনিই তাকে এ মহান ইবাদাত সম্পাদন করার সুযোগ ও শক্তি দান করেছেন। যেমন, আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

    ﴿وَإِذۡ تَأَذَّنَ رَبُّكُمۡ لَئِن شَكَرۡتُمۡ لَأَزِيدَنَّكُمۡۖ وَلَئِن كَفَرۡتُمۡ إِنَّ عَذَابِي لَشَدِيدٞ ٧﴾ [ابراهيم: ٧]

    “যখন তোমাদের রব ঘোষণা করেন, তোমরা কৃতজ্ঞ হলে তোমাদেরকে অবশ্যই অধিক দিবো, আর অকৃতজ্ঞ হলে অবশ্যই আমার শাস্তি হবে কঠোর”[সূরা ইবরাহীম, আয়াত: ৭]

    দ্বিতীয়: যেভাবে হজ সফরে বেশি বেশি দো‘আ-যিকির, ইস্তেগফার-ক্ষমা প্রার্থনা ও নিজের অপারগতা তুলে ধরে কাকুতি-মিনতি পেশ করেছি, পরবর্তীতেও তার ধারাবাহিতকতা বজায় রাখব।

    তৃতীয়: আমরা হজ সফরে নিশ্চিত ছিলাম যে, এটি কোনো সাধারণ ও বিনোদনমূলক সফর ছিল না; বরং তা ছিল শিক্ষা-দীক্ষার প্রশিক্ষণ কোর্স ও একটি ঈমানী সফর। যাতে আমরা চেষ্টা করেছি যাবতীয় গুনাহ-খাতা থেকে মুক্তি পাওয়ার, স্বীয়কৃত অন্যায়-অত্যাচার থেকে মুক্ত হওয়ার। হজ মাবরুর পেয়ে মা‘সুম প্রত্যাবর্তন করার।

    সুতরাং হজ যেন পরিবর্তনের কেন্দ্র বিন্দু। উত্তম পথের নব উদ্যোগ, স্বভাব-চরিত্র, আদত-অভ্যাস, আকীদা-বিশ্বাস প্রতিটি ক্ষেত্রে পরিবর্তনের শুভ পদক্ষেপ। অতএব, আমরা কি উত্তমতার দিকে পরিবর্তন হবো না? অথচ আল্লাহ বলেন,

    ﴿إِنَّ ٱللَّهَ لَا يُغَيِّرُ مَا بِقَوۡمٍ حَتَّىٰ يُغَيِّرُواْ مَا بِأَنفُسِهِمۡۗ﴾ [الرعد: ١١]

    “নিশ্চয় আল্লাহ কোনো সম্প্রদায়ের অবস্থা পরিবর্তন করেন না যতক্ষণ না তারা নিজেদের অবস্থা নিজেরা পরিবর্তন করে”[সূরা রা‘দ, আয়াত: ১১]

    চতুর্থ: হজ সফরে আমরা ঈমানের মজা এবং সৎকর্মের স্বাদ অনুভব করেছি, আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের গুরুত্বও জেনেছি, হিদায়াতের পথে চলেছি। সুতরাং এ সবের পর আমরা কি তা পরবর্তী জীবনে জারী রাখব না? ভ্রষ্টতা থেকে বেঁচে থাকব না? আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

    ﴿إِنَّ ٱلَّذِينَ قَالُواْ رَبُّنَا ٱللَّهُ ثُمَّ ٱسۡتَقَٰمُواْ تَتَنَزَّلُ عَلَيۡهِمُ ٱلۡمَلَٰٓئِكَةُ أَلَّا تَخَافُواْ وَلَا تَحۡزَنُواْ وَأَبۡشِرُواْ بِٱلۡجَنَّةِ ٱلَّتِي كُنتُمۡ تُوعَدُونَ ٣٠﴾ [فصلت: ٣٠]

    “নিশ্চয় যারা বলে, আমাদের রব আল্লাহ, অতঃপর অবিচল থাকে, তাদের নিকট অবতীর্ণ হয় ফিরিশতা এবং বলে, তোমরা ভীত হয়ো না, চিন্তিত হয়ো না এবং তোমাদেরকে যে জান্নাতের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল তার সুসংবাদ পেয়ে আনন্দিত হও”[সূরা ফুসসিলাত, আয়াত: ৩০]

    আল্লাহ তা‘আলা অন্যত্র বলেন,

    ﴿فَٱسۡتَقِمۡ كَمَآ أُمِرۡتَ وَمَن تَابَ مَعَكَ وَلَا تَطۡغَوۡاْۚ إِنَّهُۥ بِمَا تَعۡمَلُونَ بَصِيرٞ ١١٢ ﴾ [هود: ١١٢]

    “অতএব, আপনি যেভাবে আদিষ্ট হয়েছেন, দৃঢ় থাকুন এবং সেই লোকেরাও যারা (কুফুরী থেকে) তাওবা করে আপনার সাথে রয়েছে, আর তোমরা সীমালঙ্ঘন করো না; নিশ্চয় তিনি তোমাদের কার্যকলাপ সম্যকভাবে প্রত্যক্ষ করেন”[সূরা হূদ, আয়াত: ১১২]

    পঞ্চম: হালাল অর্থে আমরা হজের সুযোগ গ্রহণ করেছি, পোশাক, পানাহার পবিত্র ও হালাল গ্রহণ করেছি এবং হালালের যে বরকত তাও উপলব্ধি করেছি। অতএব, অবশিষ্ট জীবনে তা কি ধরে রাখব না?

    ষষ্ঠ: সেই ঈমানী সফর থেকে আমরা বের হয়েছি যাতে আমরা মৃত্যু ও তার যন্ত্রণা, কবর ও তার আযাব এবং কিয়ামত ও তার ভয়াবহতা খুব করে স্মরণ করেছি বিশেষ করে কাফন সাদৃশ ইহরামের গোসল ও বস্ত্র পরিধানের সময়। এগুলো কি আমরা সর্বদা স্মরণ রাখব না? যে বিষয়গুলো আমাদেরকে হকের পথে, হিদায়াতের ওপর সুপ্রতিষ্ঠিত রাখবে এবং মৃত্যু পর্যন্ত সৎকর্মে অবিচল ও হারাম থেকে বেঁচে থাকার প্রতি উৎসাহ দিবে।

    সপ্তম: হজ সফরে আমরা স্মরণ করেছি নবীদের, অনুসরণ করেছি আমাদের পিতা ইবরাহীম খলীলের। যিনি তাওহীদের পতাকাকে সমুন্নত করেন ও ইখলাসের শিক্ষা দেন। অতএব, আমরা হজে আল্লাহর জন্য ইখলাসকে আঁকড়ে ধরি এবং আমাদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাত ও তরীকাকে অনুসরণ করি যেন আমাদের আমলগুলো গ্রহণযোগ্য হয়। অবশিষ্ট জীবন কি এমর্মে অতিবাহিত করা উচিৎ হবে না?

    অষ্টম: হজের পূর্বে আমরা তাওবায় সচেষ্ট হই এবং অন্যের প্রতি যুলুম-অন্যায় ও অবিচার হয়ে থাকলে তা থেকে মুক্ত হওয়ার চেষ্টা করেছি। মূলতঃ এ নীতি অবলম্বন তো সব সময়ের জন্যই।

    নবম: হজের পূর্বে আমরা তাকওয়া-আল্লাহভীতি যথাযথ অবলম্বন করেছি। আমাদের অন্তরকে পাপাচার, গুনাহ ও অশ্লীলতা থেকে দূরে রেখেছি। অনর্থক ঝগড়া-বিবাদ পরিত্যাগ করেছি, যা আল্লাহ তা‘আলা আমাদেরকে নির্দেশও করেন,

    ﴿ٱلۡحَجُّ أَشۡهُرٞ مَّعۡلُومَٰتٞۚ فَمَن فَرَضَ فِيهِنَّ ٱلۡحَجَّ فَلَا رَفَثَ وَلَا فُسُوقَ وَلَا جِدَالَ فِي ٱلۡحَجِّۗ وَمَا تَفۡعَلُواْ مِنۡ خَيۡرٖ يَعۡلَمۡهُ ٱللَّهُۗ وَتَزَوَّدُواْ فَإِنَّ خَيۡرَ ٱلزَّادِ ٱلتَّقۡوَىٰۖ وَٱتَّقُونِ يَٰٓأُوْلِي ٱلۡأَلۡبَٰبِ ١٩٧﴾ [البقرة: ١٩٧]

    “কেউ যদি ঐ মাসগুলোর মধ্যে হজের সংকল্প করে, তবে সে হজের মধ্যে সহবাস, দুষ্কার্য ও কলহ করতে পারবে না এবং তোমরা যে কোনো সৎকর্ম কর না কেন, আল্লাহ তা পরিজ্ঞাত আছেন; আর তোমরা (নিজেদের) পাথেয় সঞ্চয় করে নাও। বস্তুতঃ নিশ্চিত উৎকৃষ্টতম পাথেয় হচ্ছে আল্লাহভীতি এবং হে জ্ঞানবানগণ! তোমরা আমাকে ভয় কর”[সূরা আল-বাকারাহ, আয়াত: ১৯৭]

    আর তাকওয়া এমন জিনিস যা সর্বাবস্থায় জরুরি, হজের পূর্বে এবং পরেও। সুতরাং আমরা কি যাবতীয় হারাম থেকে বেঁচে থাকার, আমাদের ও আল্লাহ যা হারাম করেছেন তার মাঝে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির চেষ্টা করব না? আর তা সৃষ্টি হবে, তাঁর আদেশসমূহ মান্য করা ও নিষেধসমূহ থেকে বিরত থাকার মাধ্যমেই। যে এমন করবে অবশ্যই আল্লাহ তার জন্য এমন পথ খুলে দিবেন ও এমন রুযী দান করবেন যা সে কল্পনাও করে না।

    দশম: হজ পরবর্তীতে আমরা অহংকার-বড়ত্ব প্রকাশ ও রিয়া অর্থাৎ লোকদেরকে স্বীয় আমলের প্রদর্শন করে জানিয়ে শুনিয়ে দেখিয়ে নিজে তৃপ্ত হওয়া থেকে বিরত থাকব। কেননা এমন মানসিকতা সৎ আমল নষ্ট করে দেয়।

    একাদশ: নিজেকে হজের মাধ্যমে সম্মানিত জাহির করা; তা হাজী, আলহাজ ইত্যাদি টাইটেল গ্রহণ ও প্রচার করে বা এ টাইটেলকে পুঁজি করে দুনিয়াবী স্বার্থ অর্জন করা। এ নীতি আমলটিকে নষ্ট করার জন্য যথেষ্ট।

    * হজ পরবর্তীতে দুনিয়াবী লোভ-লালসার প্রাধান্য ও পূর্ণ দুনিয়াদার হওয়া, যেমন দোষণীয়, অনুরূপ হালাল রীতি অনুযায়ী ও উপযোগী পর্যায়ে দুনিয়াবী ব্যস্ততাকে বর্জন করে সংসার ত্যাগীও হওয়া ঠিক হবে না।

    দ্বাদশ: হজের সফরে আমরা বহু শিক্ষা-দীক্ষা গ্রহণ করেছি। তার মধ্যে অন্যতম হল আল্লাহর জন্য নিজেকে সোপর্দ করে দেওয়া, যেমন করেছেন পিতা ইবরাহীম আলাইহিস সালাম, তার ছেলে ইসমাঈল আলাইহিস সালাম ও তার মাতা হাজের আলাইহাস সালাম।

    আল্লাহ আমাদেরকে উক্ত বিষয়গুলো থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে হজের পর মৃত্যু পর্যন্ত পাপাচার থেকে বেঁচে থেকে সৎ আমলের ওপর অটল থাকার সামর্থ দান করুন। আমীন!

    আপনাদের দো‘আ কামনায়

    মু. আব্দুর রব আফ্ফান

    [email protected]/www.allahhuakber.com

    [1] সহীহ বুখারী হাদীস নং ৫৮৬১, ৬৪৬৪; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৭৮২, ৭৮৩।

    [2] সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৬৫০২।

    [3] মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং ২৮০৪।

    [4] সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৫২৮; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৬৬৭।

    [5] তিরমিযী, হাদীস নং ২৪১।

    [6] সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১৮৯৭, ৩৬৬৬; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ১০২৭।

    [7] সহীহ বুখারী।

    [8] নাসাঈ, হাদীস নং ১৭৮৪।

    আপনার মতামত আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ