ইসলাম বিনষ্টকারী কারণসমূহ

বর্ণনা

এমন কিছু আমল আছে, যার কোনো একটিও যদি কোনো মুসলিম সম্পাদন করে তবে সে দীন থেকে বের হয়ে গেছে বলে বিবেচিত হবে। ফলে তার সমস্ত আমল নষ্ট হয়ে যাবে এবং চিরস্থায়ীভাবে (জাহান্নামের) আগুনে প্রবেশ করবে। সেসব গুনাহ মহান আল্লাহ তাওবা ব্যতীত ক্ষমা করেন না। বক্ষ্যমাণ প্রবন্ধে আমলগুলো সংক্ষিপ্তাকারে তুলে ধরা হয়েছে।

Download
এ পেইজ এর দায়িত্বশীলের কাছে টীকা লিখুন

সম্পূর্ণ বিবরণ

 ইসলাম বিনষ্টকারী কারণসমূহ

نواقض الإسلام


 সংক্ষিপ্ত বর্ণনা.............

এমন কিছু আমল আছে, যার কোনো একটিও যদি কোনো মুসলিম সম্পাদন করে তবে সে দীন থেকে বের হয়ে গেছে বলে বিবেচিত হবে। ফলে তার সমস্ত আমল নষ্ট হয়ে যাবে এবং চিরস্থায়ীভাবে (জাহান্নামের) আগুনে প্রবেশ করবে। সেসব গুনাহ মহান আল্লাহ তাওবা ব্যতীত ক্ষমা করেন না। বক্ষ্যমাণ প্রবন্ধে আমলগুলো সংক্ষিপ্তাকারে তুলে ধরা হয়েছে।


 ইসলাম বিনষ্টকারী কারণসমূহ

এমন কিছু কাজ আছে, তার কোনো একটিও যদি কোনো মুসলিম সম্পাদন করে তবে সে ইসলাম গ্রহণ করার পর দীন থেকে বের হয়ে গেছে বলে বিবেচিত হবে। ফলে তার সমস্ত আমল নষ্ট হয়ে যাবে এবং চিরস্থায়ীভাবে (জাহান্নামের) আগুনে প্রবেশ করবে। মহান আল্লাহ তাওবা ব্যতীত তাকে ক্ষমা করবেন না। নিম্নে সেসব কাজের কিছু বর্ণনা দেওয়া হলো:

 ১। আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারও নিকট দো‘আ করা:

 এ সম্বন্ধে আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

﴿وَلَا تَدۡعُ مِن دُونِ ٱللَّهِ مَا لَا يَنفَعُكَ وَلَا يَضُرُّكَۖ فَإِن فَعَلۡتَ فَإِنَّكَ إِذٗا مِّنَ ٱلظَّٰلِمِينَ ١٠٦[يونس: ١٠٦] 

“আর তাঁকে ছেড়ে এমন কাউকে ডেকো না, যে না তোমার উপকার করতে পারে, না কোনো ক্ষতি করতে পারে। আর যদি তা কর, তবে অবশ্যই তুমি যালিমদের (মুশরিকদের) অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাবে। [সূরা ইউনুস, আয়াত: ১০৬]

 রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ ব্যাপারে বলেছেন:

«منْ مَاتَ وَهُوَ يَدْعُو مِنْ دُوْنِ اللهِ نِدًّا دخَلَ النَّارَ»

“যে ব্যক্তি আল্লাহকে বাদ দিয়ে তার কোনো সমকক্ষকে ডাকা অবস্থায় মারা যাবে তাহলে সে (জাহান্নামের) আগুনে প্রবেশ করবে।” (সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৪৪৯৭)

 ২। তাওহীদের কথা শুনলে যাদের অন্তরে ঘৃণা আসে, একমাত্র আল্লাহর নিকট দো‘আ করা কিংবা বিপদে সাহায্য কেবল আল্লাহর কাছে চাওয়াকে অপছন্দ করে। আর রাসূলুল্লাহ, মৃত আউলিয়া কিংবা অদৃশ্য কারো নিকট দো‘আ করার সময় যাদের অন্তর খুশিতে ভরে উঠে। তাদের নিকট সাহায্য চাওয়া ফলপ্রসূ মনে করে। এগুলো সবই মুশরিকদের নিদর্শন। এদের সম্বন্ধে আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

﴿وَإِذَا ذُكِرَ ٱللَّهُ وَحۡدَهُ ٱشۡمَأَزَّتۡ قُلُوبُ ٱلَّذِينَ لَا يُؤۡمِنُونَ بِٱلۡأٓخِرَةِۖ وَإِذَا ذُكِرَ ٱلَّذِينَ مِن دُونِهِۦٓ إِذَا هُمۡ يَسۡتَبۡشِرُونَ ٤٥[الزمر: ٤٥]

“যারা আখিরাতে বিশ্বাস করে না, এক আল্লাহর কথা বলা হলে তাদের অন্তর সঙ্কুচিত হয়ে যায়। আর আল্লাহ ছাড়া অন্য উপাস্যগুলোর কথা বলা হলে তখনই তারা আনন্দে উৎফুল্ল হয়।” [সূরা আয-যুমার, আয়াত: ৪৫]

এ আয়াত সেসব লোকদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য যারা একমাত্র আল্লাহর নিকট সাহায্য প্রার্থনাকারীদের সাথে শত্রুতায় লিপ্ত হয়। তাদেরকে তারা (তথাকথিত) ওহাবী বলে সম্বোধন করে।

 ৩। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কিংবা কোনো ওলীর নামে পশু জবাই করা। কারণ, আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

﴿فَصَلِّ لِرَبِّكَ وَٱنۡحَرۡ ٢ ﴾ [الكوثر: ٢]

“তুমি তোমার রবের উদ্দেশ্যে সালাত আদায় কর ও জবাই কর। [সূরা আল-কাওসার, আয়াত: ২]

 রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: 

«لَعَنَ اللهُ مَنْ ذَبَحَ لِغَيْرِ اللهِ»

“যে ব্যক্তি আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারও নামে জবাই করে, আল্লাহ তার উপর লা‘নত করেন।” (সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ১৯৭৮)

 ৪। নৈকট্য হাসিল ও ইবাদতের নিয়তে কোনো সৃষ্টিকে নযর-নেয়াজ দেওয়া। কারণ, নযর অথবা কিছু উৎসর্গ করা যাবে কেবল আল্লাহ তা‘আলার উদ্দেশ্যে। যেমন আল-কুরআনে বলা হয়েছে:

﴿رَبِّ إِنِّي نَذَرۡتُ لَكَ مَا فِي بَطۡنِي مُحَرَّرٗا﴾ [ال عمران: ٣٥]

“হে আমার রব, আমার গর্ভে যা আছে নিশ্চয় আমি তা খাসভাবে আপনার জন্য মানত করলাম।” [সূরা আলে ইমরান, আয়াত: ৩৫]

 ৫। নৈকট্য হাসিল বা ইবাদতের নিয়তে কবরের চতুর্পাশ্বে তাওয়াফ করা। কারণ, তাওয়াফ শুধু কা‘বা শরীফের সাথেই নির্দিষ্ট। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

﴿وَلۡيَطَّوَّفُواْ بِٱلۡبَيۡتِ ٱلۡعَتِيقِ﴾ [الحج: ٢٩] 

“আর তারা যেন তওয়াফ করে প্রাচীন গৃহের।” [সূরা আল-হাজ, আয়াত: ২৯]

 ৬। গাইরুল্লাহ তথা আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারও ওপর তাওয়াক্কুল করা। কারণ, আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

﴿فَعَلَيۡهِ تَوَكَّلُوٓاْ إِن كُنتُم مُّسۡلِمِينَ ٨٤[يونس: ٨٤] 

“সুতরাং একমাত্র তাঁরই ওপর তায়াক্কুল কর, যদি তোমরা মুসলিম হয়ে থাক। [সূরা ইউনুস, আয়াত: ৮৪]

 ৭। কোনো রাজা-বাদশাহ বা জীবিত বা মৃত সম্মানিত কোনো ব্যক্তিকে জেনে বুঝে ইবাদতের নিয়তে রুকু বা সাজদাহ করা। কারণ, রুকু সাজদাহ হচ্ছে ইবাদত, আর ইবাদত একমাত্র আল্লাহর জন্যই নির্দিষ্ট।

 ৮। দলীল দ্বারা সমর্থিত ইসলামের পরিচিত কোনো রোকন অস্বীকার করা। যেমন সালাত, যাকাত, সাওম ও হজ। অথবা ঈমানের ভিত্তিসমূহ যেমন আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস, তাঁর ফিরিশতাকুল, কিতাবসমূহ, নবী-রাসূল, কিয়ামত দিবস ও তাকদীরের ভালো-মন্দের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন এসবের যে কোনো একটিকে অস্বীকার করা। এমনিভাবে দীনের অবিচ্ছেদ্য বিষয়াদির কোনোটিকে অস্বীকার করা।

 ৯। ইসলাম বা ইসলামী অর্থনৈতিক বা চারিত্রিক কোনো রীতি, অনুরূপভাবে ইবাদত, মু‘আমালাত। মোটকথা ইসলাম প্রতিষ্ঠিত কোনো বিষয়কে অপছন্দ করা। কারণ, আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

﴿ذَٰلِكَ بِأَنَّهُمۡ كَرِهُواْ مَآ أَنزَلَ ٱللَّهُ فَأَحۡبَطَ أَعۡمَٰلَهُمۡ ٩﴾ [محمد: ٩] 

“তা এজন্য যে, আল্লাহ যা নাযিল করেছেন তারা তা অপছন্দ করে। অতএব, তিনি তাদের আমলসমূহ বিনষ্ট করে দিয়েছেন।” [সূরা মুহাম্মাদ, আয়াত: ৯]

 ১০। কুরআন কিংবা সহীহ হাদীস দ্বারা প্রমাণিত ইসলামের কোনো হুকুম-আহকামকে নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রূপ করা। কারণ, আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

﴿قُلۡ أَبِٱللَّهِ وَءَايَٰتِهِۦ وَرَسُولِهِۦ كُنتُمۡ تَسۡتَهۡزِءُونَ ,لَا تَعۡتَذِرُواْ قَدۡ كَفَرۡتُم بَعۡدَ إِيمَٰنِكُمۡۚ﴾ [التوبة: ٦٥،  ٦٦]

“বল, আল্লাহ, তাঁর আয়াতসমূহ ও তাঁর রাসূলের সাথে তোমরা বিদ্রূপ করছিলে? তোমরা ওযর পেশ করো না। তোমরা তোমাদের ঈমানের পর অবশ্যই কুফুরী করেছ।” [সূরা আত-তাওবাহ, আয়াত: ৬৫-৬৬]

 ১১। কুরআনুল কারীম কিংবা সহীহ হাদীসের কোনো হুকুম জেনে বুঝে ইচ্ছাকৃতভাবে অস্বীকার করা।

 ১২। আল্লাহ রাব্বুল ইজ্জতকে তিরষ্কার-র্ভৎসনা করা, দীনকে অভিশাপ দেওয়া, রাসূলল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে গালি দেওয়া কিংবা তাঁর কোনো কাজকে বিদ্রূপ করা অথবা তিনি যে আহকাম দিয়েছেন তার কোনো সমালোচনা করা। এর যে কোনো একটির সাথে জড়িত হলেই ব্যক্তি ইসলাম থেকে বের হয়ে যাবে।

 ১৩। কুরআন ও সহীহ হাদীস দ্বারা প্রমাণিত আল্লাহ তা‘আলার সুন্দর সুন্দর নাম ও সিফাতসমূহ, তাঁর কার্যাদির যে কোনো একটি অস্বীকার করা; তবে অজ্ঞতাবশত কিংবা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ভুল করলে সেটা ভিন্ন কথা।

 ১৪। মানুষের হিদায়াতের উদ্দেশ্যে আল্লাহ তা‘আলা কর্তৃক প্রেরিত নবী-রাসূল সকলের প্রতি ঈমান আনয়ন না করা অথবা তাদের কারো প্রতি খারাপ ধারণা পোষণ করা। কারণ, আল্লাহ তা‘আলা পবিত্র কুরআনে বলেন,

﴿لَا نُفَرِّقُ بَيۡنَ أَحَدٖ مِّن رُّسُلِهِ﴾ [البقرة: ٢٨٥]

“আমরা তাঁর রাসূলদের কারো মধ্যে কোনো পার্থক্য করি না।” [সূরা আল-বাকারাহ, আয়াত: ২৮৫]

 ১৫। আল্লাহ তা‘আলা প্রদত্ত বিধান মত বিচার না করা এই ধারণার বশবর্তী হয়ে যে, এ যুগে ইসলামের সেসব নীতি সঙ্গত ও উপযোগী নয় অথবা অন্য যে সব (কুফুরী) আইন চালু আছে তা সঠিক। কারণ, আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

﴿وَمَن لَّمۡ يَحۡكُم بِمَآ أَنزَلَ ٱللَّهُ فَأُوْلَٰٓئِكَ هُمُ ٱلۡكَٰفِرُونَ ٤٤﴾ [المائ‍دة: ٤٤]

“আর যারা আল্লাহ প্রদত্ত আইনে বিচার করে না তারাই কাফের।” [সূরা আল-মায়েদাহ, আয়াত: ৪৪]

 ১৬। ইসলাম বহির্ভূত আইনে বিচার করা কিংবা ইসলামী বিচারকে অপছন্দ করা। কারণ, আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

﴿فَلَا وَرَبِّكَ لَا يُؤۡمِنُونَ حَتَّىٰ يُحَكِّمُوكَ فِيمَا شَجَرَ بَيۡنَهُمۡ ثُمَّ لَا يَجِدُواْ فِيٓ أَنفُسِهِمۡ حَرَجٗا مِّمَّا قَضَيۡتَ وَيُسَلِّمُواْ تَسۡلِيمٗا ٦٥﴾ [النساء: ٦٥]

“অতএব, তোমার রবের কসম, তারা মুমিন হবে না যতক্ষণ না তাদের মধ্যে সৃষ্ট বিবাদের ব্যাপারে তোমাকে বিচারক নির্ধারণ করে। তারপর তুমি যে ফয়সালা দিবে সে ব্যাপারে নিজদের অন্তরে কোনো দ্বিধা অনুভব না করে এবং পূর্ণ সম্মতিতে মেনে নেয়।” [সূরা আন-নিসা, আয়াত: ৬৫]

 ১৭। গাইরুল্লাহকে আইন প্রণয়নের অধিকার দেওয়া। যেমন, একনায়কত্ব, পশ্চিমা গণতন্ত্র কিংবা ইসলামের সাথে সাংঘর্ষিক অন্য কোনো মতবাদপুষ্ট যারা আল্লাহর শরী‘আত বিরোধী আইন প্রণয়ন করে। কারণ, আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

﴿أَمۡ لَهُمۡ شُرَكَٰٓؤُاْ شَرَعُواْ لَهُم مِّنَ ٱلدِّينِ مَا لَمۡ يَأۡذَنۢ بِهِ ٱللَّهُۚ﴾ [الشورى: ٢١]

“তাদের কি এমন কিছু শরীক আছে, যারা তাদের জন্য দীনের বিধান দিয়েছে, যার অনুমতি আল্লাহ দেন নি?” [সূরা আল-ক্বালাম, আয়াত: ৪১]

 ১৮। আল্লাহ কর্তৃক হালালকৃত বিষয়াদিকে হারাম করা বা হারামকৃত বিষয়াদিকে হালাল করা। যেমন, কিছু সংখ্যক আলেম বিকৃত ব্যাখ্যা দ্বারা সূদকে হালাল বলেন। অথচ আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

﴿وَأَحَلَّ ٱللَّهُ ٱلۡبَيۡعَ وَحَرَّمَ ٱلرِّبَوٰاْۚ ﴾ [البقرة: ٢٧٥]

“আর আল্লাহ ব্যবসাকে হালাল করেছেন এবং সুদকে করেছেন হারাম।” [সূরা আল-বাকারাহ, আয়াত: ২৭৫]

 ১৯। ধ্বংসকারী চিন্তা ও মতবাদের ওপর বিশ্বাস স্থাপন করা। যেমন, নাস্তিক্যবাদ, ম্যাসনবাদ, ইয়াহূদীবাদ, মার্কসবাদ, ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ, জাতীয়তাবাদ যা আরব দেশীয় অমুসলিমদেরকে অনারব মুসলিমদের ওপর প্রাধান্য দেয় ইত্যাদি। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

﴿وَمَن يَبۡتَغِ غَيۡرَ ٱلۡإِسۡلَٰمِ دِينٗا فَلَن يُقۡبَلَ مِنۡهُ وَهُوَ فِي ٱلۡأٓخِرَةِ مِنَ ٱلۡخَٰسِرِينَ ٨٥﴾ [ال عمران: ٨٥]

“আর যে ইসলাম ছাড়া অন্য কোনো দীন চায় তবে তার কাছ থেকে তা কখনো গ্রহণ করা হবে না এবং সে আখিরাতে ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হবে।” [সূরা আলে ইমরান, আয়াত: ৮৫]

 ২০। দীনের মধ্যে পরিবর্তন সাধন করা বা ইসলামকে পরিত্যাগ করে অন্য ধর্মকে গ্রহণ করা। কারণ, আল্লাহ তা‘আলা এ সম্পর্কে বলেন,

﴿وَمَن يَرۡتَدِدۡ مِنكُمۡ عَن دِينِهِۦ فَيَمُتۡ وَهُوَ كَافِرٞ فَأُوْلَٰٓئِكَ حَبِطَتۡ أَعۡمَٰلُهُمۡ فِي ٱلدُّنۡيَا وَٱلۡأٓخِرَةِۖ وَأُوْلَٰٓئِكَ أَصۡحَٰبُ ٱلنَّارِۖ هُمۡ فِيهَا خَٰلِدُونَ ٢١٧ ﴾ [البقرة: ٢١٧]

“আর যে তোমাদের মধ্য থেকে তাঁর দীন থেকে ফিরে যাবে, অতঃপর কাফির অবস্থায় মারা যাবে, বস্তুত এদের আমলসমূহ দুনিয়া ও আখিরাতে বিনষ্ট হয়ে যাবে এবং তারাই আগুনের অধিবাসী। তারা সেখানে স্থায়ী হবে।” [সূরা আল-বাকারাহ, আয়াত: ২১৭]

অনুরূপ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ সম্বন্ধে বলেন,

«مَنْ بَدَّلَ دِينَهُ فاقْتُلُوهُ»

“যে নিজ দীনকে পরিত্যাগ করবে, তাকে হত্যা করে ফেল।” (সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৩০১৭, ৬৯২২)  

 ২১। ইসলাম বিরোধী ইয়াহূদী, নাসারা অথবা নাস্তিকদেরকে মুসলিমদের বিরুদ্ধে সাহায্য সহযোগিতা করা। কারণ, আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেন,

﴿لَّا يَتَّخِذِ ٱلۡمُؤۡمِنُونَ ٱلۡكَٰفِرِينَ أَوۡلِيَآءَ مِن دُونِ ٱلۡمُؤۡمِنِينَۖ وَمَن يَفۡعَلۡ ذَٰلِكَ فَلَيۡسَ مِنَ ٱللَّهِ فِي شَيۡءٍ إِلَّآ أَن تَتَّقُواْ مِنۡهُمۡ تُقَىٰةٗۗ﴾ [ال عمران: ٢٨]

“মুমিনরা যেন মুমিনদের ছাড়া কাফিরদেরকে বন্ধু না বানায়। আর যে কেউ এরূপ করবে, আল্লাহর সাথে তার কোনো সম্পর্ক নেই। তবে যদি তাদের পক্ষ থেকে তোমাদের কোনো ভয়ের আশঙ্কা থাকে। আর আল্লাহ তোমাদেরকে তাঁর নিজের ব্যাপারে সতর্ক করছেন এবং আল্লাহর নিকটই প্রত্যাবর্তন।” [সূরা আলে ইমরান, আয়াত: ২৮]

 ২২। নাস্তিক যারা আল্লাহর অস্তত্বকেই স্বীকার করে না, অনুরূপভাবে ইয়াহূদী কিংবা নাসারা যারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর ঈমান আনে না, তাদেরকে কাফির মনে না করা। কারণ, আল্লাহ তা‘আলা তাদের কাফির বলে সম্বোধন করে বলেন,

﴿ إِنَّ ٱلَّذِينَ كَفَرُواْ مِنۡ أَهۡلِ ٱلۡكِتَٰبِ وَٱلۡمُشۡرِكِينَ فِي نَارِ جَهَنَّمَ خَٰلِدِينَ فِيهَآۚ أُوْلَٰٓئِكَ هُمۡ شَرُّ ٱلۡبَرِيَّةِ ٦﴾ [البينة: ٦]

“নিশ্চয় কিতাবীদের মাধ্যে যারা কুফুরী করেছে ও মুশরিকরা, জাহান্নামের আগুনে থাকবে স্থায়ীভাবে। তারাই হলো নিকৃষ্ট সৃষ্টি।” [সূরা আল-বায়্যিনাহ, আয়াত: ৬]

২৩। সূফী বা পীর নামে খ্যাত কিছু লোক আছে যারা অদ্বৈতবাদের কথা বলে। তারা বলে জগতে আল্লাহ ছাড়া কিছুই নেই। তাদের প্রসিদ্ধ একজন এমন কথাও বলে, কুকুর শূকর সবই আমাদের মা‘বুদ। সে আরও বলে, আল্লাহতো গির্জার পাদ্রি ছাড়া কেউ নন! এদের নেতা হুসাইন ইবন মনসুর হাল্লাজ বলত, ‘আমি-ই তিনি, তিনি-ই আমি’। ফলে আলেমরা তাকে হত্যার নির্দেশ দিয়েছিলেন এবং তাকে হত্যা করা হয়েছিল। এ ধরনের আকীদা পোষণ করাও ইসলাম থেকে বিচ্যুতির কারণ।

 ২৪। দীনকে রাষ্ট্রীয় কার্য হতে, অনুরূপ রাষ্ট্রকে দীন থেকে আলাদা করে ফেলা, আর এটা বলা যে, ইসলামে রাজনীতি নেই। কারণ, এসব মতবাদ কুরআন-হাদীস অথবা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবনীকে মিথ্যা সাব্যস্ত করে।

 ২৫। কোনো কোনো সূফী বলে যে, মহান আল্লাহ দুনিয়া নির্বাহের জন্য তার কার্যসমূহ কিছু কিছু আউলিয়ার হাতে অর্পণ করেছেন। তাদের কুতুব বলা হয়। এমন সব ধারণা আল্লাহর কার্যাবলির মধ্যে শির্ক বলে পরিগণিত। এর মাধ্যমে সে ইসলাম থেকে বেরিয়ে যাবে এবং স্থায়ীভাবে জাহান্নামী হয়ে যাবে। কারণ, আল্লাহ আল্লাহ বলেন,

﴿لَّهُۥ مَقَالِيدُ ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَٱلۡأَرۡضِۗ﴾ [الزمر: ٦٣]

“তাঁর হাতেই রয়েছে আসমান ও যমীন পরিচালনার ক্ষমতা।” [সূরা আয-যুমার, আয়াত: ৬৩]

 ২৬। এসব বাতিল আকীদা ও আমল অযু নষ্টকারী আমলসমূহের মতো। এর কোনো একটাও যদি কোনো মুসলিম বিশ্বাস করে কিংবা আমল করে তবে তার ইসলাম বিনষ্ট হয়ে যাবে। জাহান্নাম থেকে মুক্তি পাওয়া ও নিজ সম্পাদিত আমল নষ্ট হয়ে যাওয়া থেকে রক্ষ পেতে হলে তাকে তাওবা করে আবারো ইসলাম গ্রহণ করতে হবে। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

﴿لَئِنۡ أَشۡرَكۡتَ لَيَحۡبَطَنَّ عَمَلُكَ وَلَتَكُونَنَّ مِنَ ٱلۡخَٰسِرِينَ﴾ [الزمر: ٦٥]

“যদি তুমি শির্ক কর তবে তোমার আমলসমূহ নষ্ট হয়ে যাবে এবং তুমি অবশ্যই ক্ষতিগ্রস্তদের অর্ন্তভুক্ত হয়ে যাবে।” [সূরা আয-যুমার, আয়াত: ৬৫]

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর উম্মতকে এ দো‘আ শিখিয়েছেন,  

اللّهمَّ انّا نَعُوذُبِكَ مِنْ اَنْ نُشْرِكَ بِكَ شيئاً نَعْلَمُهُ وَنَسْتَغْفِرُكَ لِمَا لا نَعْلَمُ

 “হে আল্লাহ! আমরা আপনার নিকট জেনে বুঝে আপনার সাথে কোনো কিছুকে শরীক করা থেকে পানাহ চাই আর যা আমাদের জানা নাই তা হতে ক্ষমা চাই।” (মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং ২৯৫৪৭, হাসান সনদ)

সমাপ্ত

আপনার মতামত আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ