কষ্টসাধ্য কাজে জড়িত ব্যক্তির সাওমের বিধান

বর্ণনা

যে ব্যক্তি রমযান মাসে কষ্টসাধ্য কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করে থাকে তার জন্য সাওম ভঙ্গ করা কি বৈধ হবে? ইলমী গবেষণা ও ফাতওয়া বিষয়ক স্থায়ী কমিটি এ জাতীয় একটি প্রশ্নের উত্তর দেন, যা হলো নিম্নরূপ:
এক ব্যক্তি কৃষিক্ষেত্রে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করে থাকে। সাওম রাখা তার পক্ষে কষ্টসাধ্য ব্যাপার। এমতাবস্থায় তার জন্য কি সাওম ভেঙ্গে ফেলার অনুমতি রয়েছে ?

Download
এ পেইজ এর দায়িত্বশীলের কাছে টীকা লিখুন

সম্পূর্ণ বিবরণ

    কষ্টসাধ্য কাজে জড়িত ব্যক্তির সাওমের বিধান

    حكم صوم من يعمل عملا شاقاً

    < বাংলা - بنغالي - Bengali >

    উচ্চতর গবেষণা এবং ফাতওয়া বিষয়ক স্থায়ী কমিটি

    اللجنة الدائمة للبحوث العلمية والإفتاء

    —™

    অনুবাদক: আখতারুজ্জামান মুহাম্মদ সুলাইমান

    সম্পাদক: ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া

    ترجمة: أختر الزمان محمد سليمان

    مراجعة: د/ أبو بكر محمد زكريا

    কষ্টসাধ্য কাজে জড়িত ব্যক্তির সাওমের বিধান

    প্রশ্ন: এক ব্যক্তি রমযানে সাওম রাখার পর পনের রমযানের পর এ অজুহাতে সাওম ভেঙ্গে ফেলল, যে সে মজুরীর বিনিময়ে বকরি চরায়। এ ব্যাপারে সে একজনকে প্রশ্ন করেছিল যে ছাত্র বলে দাবি করে। সে সাওম ভাঙ্গার ফতোয়া দিয়েছিল এবং বলেছিল: প্রতিটি সাওমের জন্য এক-চতুর্থ দীনার সদকা করবে। সে প্রমাণ হিসেবে কুরআনের এ আয়াত উপস্থাপন করেছিল:

    ﴿وَعَلَى ٱلَّذِينَ يُطِيقُونَهُۥ فِدۡيَةٞ طَعَامُ مِسۡكِينٖۖ﴾ [البقرة: ١٨٤]

    “সাওম যাদেরকে কষ্ট দেয় তাদের কর্তব্য হলো এর পরিবর্তে ফিদয়া দেওয়া”[সূরা আল-বাকারা, আয়াত ১৮৪]

    আমি উপরোক্ত প্রশ্ন উত্তরের সময় উপস্থিত ছিলাম। এ ব্যাপারে শরী‘আতসম্মত সমাধান কী?

    উত্তর: আল-হামদুলিল্লাহ

    প্রথমত: যে ব্যক্তি বকরি চরায় তার অনুমতি নেই যে, সে সাওম ভেঙ্গে ফেলবে, হ্যাঁ তখন ভাঙ্গতে পারবে, যখন সে সম্পূর্ণ অপারগ অবস্থায় পৌঁছে যাবে এতটুকু পরিমাণ সে আহার করবে, যার দ্বারা সে ঐ অবস্থা থেকে মুক্তি পায়। পেট ভরে আহার করবে না। অতঃপর পূর্ণদিন সাওমের মতো থাকবে। পরে অবস্থার পরিবর্তন হলে সাওমটি কাযা করবে।

    দ্বিতীয়ত: ছাত্র নামধারী উত্তর দাতা যে বলেছে, যে প্রতিটি সাওমের জন্য এক-চতুর্থাংশ দীনার দিলে যথেষ্ট হবে, তা সঠিক নয়; বরং তার জন্য কাযা করা ওয়াজিব।

    প্রমাণ: আল্লাহ তা‘আলার বাণী-

    ﴿يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ كُتِبَ عَلَيۡكُمُ ٱلصِّيَامُ كَمَا كُتِبَ عَلَى ٱلَّذِينَ مِن قَبۡلِكُمۡ لَعَلَّكُمۡ تَتَّقُونَ ١٨٣ أَيَّامٗا مَّعۡدُودَٰتٖۚ فَمَن كَانَ مِنكُم مَّرِيضًا أَوۡ عَلَىٰ سَفَرٖ فَعِدَّةٞ مِّنۡ أَيَّامٍ أُخَرَۚ وَعَلَى ٱلَّذِينَ يُطِيقُونَهُۥ فِدۡيَةٞ طَعَامُ مِسۡكِينٖۖ فَمَن تَطَوَّعَ خَيۡرٗا فَهُوَ خَيۡرٞ لَّهُۥۚ وَأَن تَصُومُواْ خَيۡرٞ لَّكُمۡ إِن كُنتُمۡ تَعۡلَمُونَ ١٨٤ شَهۡرُ رَمَضَانَ ٱلَّذِيٓ أُنزِلَ فِيهِ ٱلۡقُرۡءَانُ هُدٗى لِّلنَّاسِ وَبَيِّنَٰتٖ مِّنَ ٱلۡهُدَىٰ وَٱلۡفُرۡقَانِۚ فَمَن شَهِدَ مِنكُمُ ٱلشَّهۡرَ فَلۡيَصُمۡهُۖ ١٨٥﴾ [البقرة: ١٨٣، ١٨٥]

    “হে মুমিনগণ, তোমাদের ওপর সিয়াম ফরয করা হয়েছে, যেভাবে ফরয করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর। যাতে তোমরা তাকওয়া অবলম্বন কর। নির্দিষ্ট কয়েকদিন। তবে তোমাদের মধ্যে যে অসুস্থ হবে কিংবা সফরে থাকবে, তাহলে অন্যান্য দিনে সংখ্যা পূরণ করে নেবে। আর যাদের জন্য তা কষ্টকর হবে, তাদের কর্তব্য ফিদয়া- একজন দরিদ্রকে খাবার প্রদান করা। অতএব, যে স্বেচ্ছায় অতিরিক্ত সৎকাজ করবে, তা তার জন্য কল্যাণকর হবে। আর সিয়াম পালন তোমাদের জন্য কল্যাণকর, যদি তোমরা জান। রমযান মাস, যাতে যাতে কুরআন নাযিল করা হয়েছে মানুষের জন্য হিদায়াত স্বরূপ এবং হিদায়াতের সুস্পষ্ট নিদর্শনাবলি ও সত্য মিথ্যার পাথ্যর্ক্যকারীরূপে। সুতরাং তোমাদের মধ্যে যে মাসটিতে উপস্থিত হবে, সে যেন তাতে সিয়াম পালন করে”[সূরা আল-বাকারা, আয়াত: ১৮৩-১৮৫]

    ইবন জারীর রহ. আয়াতের এ অংশের وَعَلَى الَّذِينَ يُطِيقُونَهُ فِدْيَةٌ طَعَامُ مِسْكِينٍ “আর যাদের জন্য তা কষ্টকর হবে, তাদের কর্তব্য ফিদয়া- একজন দরিদ্রকে খাবার প্রদান করা”

    বেশ কয়েকটি ব্যাখ্যা উল্লেখ করার পর বলেন: এ সমস্ত ব্যাখ্যার মধ্যে ঐ ব্যাখ্যাটাই উত্তম যে ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে আয়াতের পরের অংশ فَمَنْ شَهِدَ مِنْكُمُ الشَّهْرَ فَلْيَصُمْهُ “সুতরাং তোমাদের মধ্যে যে মাসটিতে উপস্থিত হবে, সে যেন তাতে সিয়াম পালন করে” দ্বারা আগের অংশের হুকুম وَعَلَى الَّذِينَ يُطِيقُونَهُ فِدْيَةٌ طَعَامُ مِسْكِينٍ “আর যাদের জন্য তা কষ্টকর হবে, তাদের কর্তব্য ফিদয়া- একজন দরিদ্রকে খাবার প্রদান করা” রহিত হয়ে গেছে কেননা, وَعَلَى الَّذِينَ يُطِيقُونَهُ এর ভিতর যে ‘হা’ বা সর্বনাম আছে তার দ্বারা সিয়াম বুঝানো হয়েছে। এর অর্থ এই দাড়াচ্ছে যে যার সাওম রাখার সামর্থ নেই সেই মিসকীনকে খাদ্য দানের মাধ্যমে ফিদিয়া দিবে। সমস্ত মুসলিমগণ এ কথার ওপর ঐকমত্য পোষণ করেন যে, সুস্থ্য নিজ গৃহে বসবাসকারী পুরুষের ওপর রমযানের সাওম পালন করতেই হবে। সাওম ভেঙ্গে তার জন্য ফিদিয়া প্রদান করা বৈধ নয়। এ থেকে বোঝা যায় যে আয়াতটির হুকুম রহিত। এ ছাড়াও এ ব্যাখ্যার সমর্থনে মা‘আয ইবন জাবাল, ইবন উমার, সালামা ইবন আকওয়া রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুম-এর আমল প্রমাণ হিসেবে পেশ করা যেতে পারে। তারা সবাই আগের আয়াত অনুযায়ী সাওম রাখতেন আবার কখনও ভেঙ্গে ফেলে তার পরিবর্তে ফিদিয়া দিতেন; কিন্তু যখন এ অংশ: فَمَنْ شَهِدَ مِنْكُمُ الشَّهْرَ فَلْيَصُمْهُ “সুতরাং তোমাদের মধ্যে যে মাসটিতে উপস্থিত হবে, সে যেন তাতে সিয়াম পালন করে” অবতীর্ণ হওয়ার পর অবশ্যই সাওম রাখতে লাগলেন এবং আগের মতো ফিদিয়া দেওয়াটা করা বন্ধ করে দিলেন।

    উচ্চতর গবেষণা এবং ফাতওয়া বিষয়ক স্থায়ী কমিটির ফাতওয়া

    আব্দুল্লাহ ইবন কুউদ: সদস্য

    আব্দুল্লাহ ইবন গুদাইয়ান: সদস্য

    আব্দুর রাযযাক আফীফী: উপ-প্রধান

    আব্দুল আযীয ইবন আব্দুল্লাহ ইবন বায

    সমাপ্ত