নারীদের হাই-হিল পরার হুকুম কি?

বর্ণনা

নারীদের হাই-হিল পরার হুকুম কি? ফতোয়াটি শায়খ মুহাম্মাদ সালেহ আল মুনাজ্জিদ কর্তৃক প্রদত্ত একটি প্রশ্নের উত্তর। প্রশ্নটি হল: শরিয়তের দৃষ্টিতে নারীদের হাই-হিল পরার হুকুম কি

Download
এ পেইজ এর দায়িত্বশীলের কাছে টীকা লিখুন

সম্পূর্ণ বিবরণ

    নারীদের হাই-হিল পরার হুকুম কী?

    ما حكم لبس الكعب العالي للنساء؟

    < بنغالي- Bengal - বাঙালি>

    শাইখ মুহাম্মাদ সালেহ আল-মুনাজ্জিদ

    الشيخ محمد صالح المنجد

    —™

    অনুবাদক: সানাউল্লাহ নজির আহমদ

    সম্পাদক: ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া

    ترجمة: ثناء الله نذير أحمد

    مراجعة: د/ أبو بكر محمد زكريا

    নারীদের হাই-হিল পরার হুকুম কী?

    আল-হামদুলিল্লাহ

    নারীদের জন্য হাই-হিল পরা বৈধ নয়। কেননা হাই-হিল পরে নারীদের পড়ে যাওয়ার আশংকা থাকে। আর ইসলামি শরী‘আত সাধারণ অর্থে আমাদেরকে আশঙ্কাজনক বিষয় থেকে বেঁচে থাকার নির্দেশ দিয়েছে। আল কুরআনে বলা হয়েছে:

    ﴿ وَلَا تَقۡتُلُوٓاْ أَنفُسَكُمۡۚ﴾ [النساء: ٢٩]

    “আর তোমরা নিজদেরকে হত্যা করো না”[সূরা আন-নিসা, আয়াত: ২৯]

    অন্য এক আয়াতে এসেছে:

    ﴿وَلَا تُلۡقُواْ بِأَيۡدِيكُمۡ إِلَى ٱلتَّهۡلُكَةِ﴾ [البقرة: ١٩٥]

    “তোমরা তোমাদের নিজদেরকে ধ্বংসে নিপতিত করো না”[সূরা আল-বাকারা, আয়াত: ১৯৫]

    হাই-হিল একজন নারীকে বাস্তবের তুলনায় অধিক দীর্ঘকায় করে দেখায় এবং তাদের নিতম্বকে করে তোলে অধিক দৃশ্যমান। এতে এক প্রকার প্রতারণা রয়েছে বললে ভুল হবে না। পাশাপাশি এর মাধ্যমে নারীর কিছু সৌন্দর্য্য প্রকাশিত হয়ে যায়, যা ঢেকে রাখার নির্দেশ তাকে দেওয়া হয়েছে। আল্লাহ তা‘আলা বলেন:

    ﴿وَقُل لِّلۡمُؤۡمِنَٰتِ يَغۡضُضۡنَ مِنۡ أَبۡصَٰرِهِنَّ وَيَحۡفَظۡنَ فُرُوجَهُنَّ وَلَا يُبۡدِينَ زِينَتَهُنَّ إِلَّا مَا ظَهَرَ مِنۡهَاۖ وَلۡيَضۡرِبۡنَ بِخُمُرِهِنَّ عَلَىٰ جُيُوبِهِنَّۖ وَلَا يُبۡدِينَ زِينَتَهُنَّ إِلَّا لِبُعُولَتِهِنَّ أَوۡ ءَابَآئِهِنَّ أَوۡ ءَابَآءِ بُعُولَتِهِنَّ أَوۡ أَبۡنَآئِهِنَّ أَوۡ أَبۡنَآءِ بُعُولَتِهِنَّ أَوۡ إِخۡوَٰنِهِنَّ أَوۡ بَنِيٓ إِخۡوَٰنِهِنَّ أَوۡ بَنِيٓ أَخَوَٰتِهِنَّ أَوۡ نِسَآئِهِنَّ أَوۡ مَا مَلَكَتۡ أَيۡمَٰنُهُنَّ أَوِ ٱلتَّٰبِعِينَ غَيۡرِ أُوْلِي ٱلۡإِرۡبَةِ مِنَ ٱلرِّجَالِ أَوِ ٱلطِّفۡلِ ٱلَّذِينَ لَمۡ يَظۡهَرُواْ عَلَىٰ عَوۡرَٰتِ ٱلنِّسَآءِۖ وَلَا يَضۡرِبۡنَ بِأَرۡجُلِهِنَّ لِيُعۡلَمَ مَا يُخۡفِينَ مِن زِينَتِهِنَّۚ وَتُوبُوٓاْ إِلَى ٱللَّهِ جَمِيعًا أَيُّهَ ٱلۡمُؤۡمِنُونَ لَعَلَّكُمۡ تُفۡلِحُونَ ٣١﴾ [النور: ٣١]

    “আর আপনি মুমিন নারীদেরকে বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টিকে সংযত রাখে এবং তাদের লজ্জাস্থানের হিফাযত করে। আর যা সাধারণত প্রকাশ পায় তা ছাড়া তাদের সৌন্দর্য তারা প্রকাশ করবে না। তারা যেন তাদের ওড়না দিয়ে তাদের বক্ষদেশকে আবৃত করে রাখে। আর তারা যেন তাদের স্বামী, পিতা, শ্বশুর, নিজদের ছেলে, স্বামীর ছেলে, ভাই, ভাইয়ের ছেলে, বোনের ছেলে, আপন নারীগণ, তাদের ডান হাত যার মালিক হয়েছে, অধীনস্থ যৌনকামনামুক্ত পুরুষ অথবা নারীদের গোপন অঙ্গ সম্পর্কে অজ্ঞ বালক ছাড়া কারো কাছে নিজদের সৌন্দর্য প্রকাশ না করে। আর তারা যেন নিজদের সৌন্দর্য প্রকাশ করার জন্য সজোরে পদচারণা না করে। হে মুমিনগণ তোমরা সকলেই আল্লাহর নিকট তাওবা কর, যাতে তোমরা সফলকাম হতে পার”[সূরা আন-নূর, আয়াত: ৩১] (উৎস: স্থায়ী পরিষদের ফতোয়া, ৯/৪৬)

    উপরন্তু হাই-হিল একজন নারীকে সামনের দিকে ঝুঁকিয়ে রাখে। ফলে হেলে-দুলে প্রলুব্ধকর ভঙ্গিমায় চলা নারীদের ব্যাপারে যে সতর্কবাণী এসেছে, এদের বেলায়ও তা বর্তানোর আশঙ্কা থেকে যায়। হাই-হিল, চিকিৎসা বিজ্ঞানের বক্তব্য অনুযায়ী, পিঠেরও ক্ষতি সাধন করে। হাই-হিল থেকে এক প্রকার টকটক আওয়াজও বের হয় যা পুরুষদেরকে আকৃষ্ট করে এবং কামপ্রবৃত্তিকে নাড়া দেয়।

    সমাপ্ত

    আপনার মতামত আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ