মঙ্গলবারে স্বামী-স্ত্রীর মিলন ক্ষতিকর, এ ধারণা অমূলক

বর্ণনা

একটি প্রশ্নের উত্তরে শায়খ মুহাম্মাদ সালেহ আল মুনাজ্জিদ ফাতওয়াটি প্রদান করেন। প্রশ্নটি হল- শুনেছি যে, মঙ্গলবারে সহবাস না করা আবশ্যক, কেননা সেদিনের রাত্রিতে একটি জিনিস আগমন করে, আর তা প্রত্যেক সহবাসকারীকে অভিসম্পাত করে। মনে করা হয়, এর ফলে ভবিষ্যতে তারা ক্ষতির সম্মুখিন হবে।

Download
এ পেইজ এর দায়িত্বশীলের কাছে টীকা লিখুন

সম্পূর্ণ বিবরণ

    মঙ্গলবারে স্বামী-স্ত্রীর মিলন ক্ষতিকর, এ ধারণা অমূলক

    خرافة ضرر الجماع يوم الثلاثاء

    < বাংলা - بنغالي - Bengali >

    শাইখ মুহাম্মাদ সালেহ আল-মুনাজ্জিদ

    الشيخ محمد صالح المنجد

    —™

    অনুবাদক: মু. সাইফুল ইসলাম

    সম্পাদক: ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া

    ترجمة: محمد سيف الإسلام

    مراجعة: د/ أبو بكر محمد زكريا

    মঙ্গলবারে স্বামী-স্ত্রীর মিলন ক্ষতিকর, এ ধারণা অমূলক

    প্রশ্ন: শুনেছি যে, মঙ্গলবারে সহবাস না করা আবশ্যক, কেননা সেদিন একটি জিনিস আগমন করে, যে প্রত্যেক সহবাসকারীকে অভিসম্পাত করে। মনে করা হয়, এর ফলে ভবিষ্যতে তারা ক্ষতির সম্মুখীন হবে।

    উত্তর: আল-হামদুলিল্লাহ

    আল্লাহ আমাকে ও আপনাকে সত্য বুঝার তাওফীক দান করুন। যা বললেন তা একান্তই কুসংস্কার এবং নব আবিষ্কৃত বিষয়। কুরআন ও হাদীসে এর কোনো দলীল নেই; বরং এসব হলো পথভ্রষ্ট ও বিপথগামীদের প্রচারণা। যেমন, তারা বলেছে: চাঁদ যখন বৃশ্চিকরাশি অথবা রশ্মির নিচে অথবা চাঁদ যখন পুরোপুরি আলোকরহিত পর্যায়ে পৌঁছে, চাঁদের এ জাতীয় ক্ষণে সহবাস করা তারা মাকরূহ বলেছে। (দেখুন: রায়েদ সাবরী, মুজামুল বিদায়ী: ৬৫৬)

    আল্লাহ তা‘আলা কিছু স্থান ও সময় ব্যতীত সব সময় ও সকল স্থানে স্ত্রী সহবাস হালাল করেছেন। যেমন,

    এক. রমযানের দিনে সহবাস করা। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

    ﴿أُحِلَّ لَكُمۡ لَيۡلَةَ ٱلصِّيَامِ ٱلرَّفَثُ إِلَىٰ نِسَآئِكُمۡۚ هُنَّ لِبَاسٞ لَّكُمۡ وَأَنتُمۡ لِبَاسٞ لَّهُنَّۗ عَلِمَ ٱللَّهُ أَنَّكُمۡ كُنتُمۡ تَخۡتَانُونَ أَنفُسَكُمۡ فَتَابَ عَلَيۡكُمۡ وَعَفَا عَنكُمۡۖ فَٱلۡـَٰٔنَ بَٰشِرُوهُنَّ وَٱبۡتَغُواْ مَا كَتَبَ ٱللَّهُ لَكُمۡۚ﴾ [البقرة: ١٨٧]

    “সিয়ামের রাতে তোমাদের জন্য তোমাদের স্ত্রীদের নিকট গমন হালাল করা হয়েছে। তারা তোমাদের জন্য পরিচ্ছদ এবং তোমরা তাদের জন্য পরিচ্ছদ। আল্লাহ জেনেছেন যে, তোমরা নিজদের সাথে খিয়ানত করছিলে। অতঃপর তিনি তোমাদের তাওবা কবূল করেছেন এবং তোমাদেরকে ক্ষমা করেছেন। অতএব, এখন তোমরা তাদের সাথে মিলিত হও এবং আল্লাহ তোমাদের জন্য যা লিখে দিয়েছেন, তা অনুসন্ধান কর”[সূরা আল-বাকারা, আয়াত: ১৮৭]

    দুই. হায়েয ও নিফাসের সময় সহবাস করা। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

    ﴿وَيَسۡ‍َٔلُونَكَ عَنِ ٱلۡمَحِيضِۖ قُلۡ هُوَ أَذٗى فَٱعۡتَزِلُواْ ٱلنِّسَآءَ فِي ٱلۡمَحِيضِ وَلَا تَقۡرَبُوهُنَّ حَتَّىٰ يَطۡهُرۡنَۖ فَإِذَا تَطَهَّرۡنَ فَأۡتُوهُنَّ مِنۡ حَيۡثُ أَمَرَكُمُ ٱللَّهُۚ﴾ [البقرة: ٢٢٢]

    “আর তারা তোমাকে ঋতুস্রাব সম্পর্কে প্রশ্ন করে। বল, তা কষ্ট। সুতরাং তোমরা ঋতুস্রাবকালে স্ত্রীদের থেকে দূরে থাক এবং তারা পবিত্র না হওয়া পর্যন্ত তাদের নিকটবর্তী হয়ো না। অতঃপর যখন তারা পবিত্র হবে তখন তাদের নিকট আস, যেভাবে আল্লাহ তোমাদেরকে নির্দেশ দিয়েছেন”[সূরা আল-বাকারা, আয়াত: ২২২]

    তিন. মসজিদে সহবাস করা। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

    ﴿وَلَا تُبَٰشِرُوهُنَّ وَأَنتُمۡ عَٰكِفُونَ فِي ٱلۡمَسَٰجِدِۗ تِلۡكَ حُدُودُ ٱللَّهِ فَلَا تَقۡرَبُوهَاۗ﴾ [البقرة: ١٨٧]

    “আর তোমরা মসজিদে ইতিকাফরত অবস্থায় স্ত্রীদের সাথে মিলিত হয়ো না -এটা আল্লাহর সীমারেখা। সুতরাং তোমরা তার নিকটবর্তী হয়ো না। [সূরা আল-বাকারা, আয়াত: ১৮৭]

    মুহরিম থাকা অবস্থায়ও স্ত্রী সহবাস হারাম। আর উপরের অমূলক কথার পক্ষে কোনো দলীল খোঁজে পাওয়া যাবে না; বরং এসব হচ্ছে বাতিল, গর্হিত ও অপছন্দনীয় জিনিস, যা ব্যাপক প্রচারণার ফলে কারো কারো নিকট মূল বিশ্বাসে পরিণত হয়েছে, তারা এ থেকে বিরত হচ্ছে না। এমন অনেক মানুষ রয়েছে, যারা মঙ্গলবার স্ত্রী সহবাস করে সুস্থ্য সন্তানের পিতা হয়েছে এবং এ কারণে তাদের বা তাদের সন্তানদের কোনো ক্ষতি হয় নি। আল্লাহ আমাকে ও আপনাকে অপছন্দনীয় বিষয় থেকে রক্ষা করুন। আল্লাহ-ই ভালো জানেন।

    সমাপ্ত

    উৎস:

    www.islamqa.info

    বিষয়ভিত্তিক ক্যাটাগরি:

    আপনার মতামত আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ