জনৈক নারীর উপর রমজানের কাজা রয়েছে, যার সংখ্যা মনে নেই

বর্ণনা

ফতোয়াটি একটি প্রশ্নের উত্তর। প্রশ্নটি হল: আমার স্ত্রীর উপর পূর্বের কিছু সিয়াম কাজা রয়েছে, কিন্তু সে তার নির্দিষ্ট সংখ্যা ভুলে গেছে, এখন সে কি করবে ?

Download
এ পেইজ এর দায়িত্বশীলের কাছে টীকা লিখুন

সম্পূর্ণ বিবরণ

    জনৈক নারীর ওপর রমযানের কাযা রয়েছে, যার সংখ্যা মনে নেই

    عليها قضاء أيام من رمضان ولكن نسيت عددها

    < بنغالي- Bengal - বাঙালি>

    ইসলাম কিউ, এ

    الإسلام سؤال وجواب

    —™

    অনুবাদক: সানাউল্লাহ নজির আহমদ

    সম্পাদক: ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া

    ترجمة: ثناء الله نذير أحمد

    مراجعة: د/ أبو بكر محمد زكريا

    জনৈক নারীর ওপর রমযানের কাযা রয়েছে, যার সংখ্যা মনে নেই

    প্রশ্ন: আমার স্ত্রীর ওপর পূর্বের কিছু সিয়াম কাযা রয়েছে; কিন্তু সে তার নির্দিষ্ট সংখ্যা ভুলে গেছে, এখন সে কী করবে?

    উত্তর: আল-হামদুলিল্লাহ

    কোনো কারণে যে ব্যক্তি রমযানের সিয়াম ভঙ্গ করে, যেমন সফর, অসুস্থতা, হায়েয অথবা নিফাস, সে তার সিয়ামের কাযা করবে। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

    ﴿فَمَن كَانَ مِنكُم مَّرِيضًا أَوۡ عَلَىٰ سَفَرٖ فَعِدَّةٞ مِّنۡ أَيَّامٍ أُخَرَۚ ﴾ [البقرة: ١٨٤]

    “তবে তোমাদের মধ্যে যে অসুস্থ হবে কিংবা সফরে থাকবে, তাহলে অন্যান্য দিনে সংখ্যা পূরণ করে নেবে”[সূরা আল-বাকারা, আয়াত: ১৮৪]

    অনুরূপভাবে আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহাকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল:

    «مَا بَالُ الْحَائِضِ تَقْضِي الصَّوْمَ وَلَا تَقْضِي الصَّلَاةَ، فَقَالَتْ: كَانَ يُصِيبُنَا ذَلِكَ، فَنُؤْمَرُ بِقَضَاءِ الصَّوْمِ، وَلَا نُؤْمَرُ بِقَضَاءِ الصَّلَاةِ».

    “ঋতুবতী নারী সিয়াম কাযা করে; কিন্তু সালাত কাযা করে না কেন? তিনি বললেন: আমরা এর শিকার হতাম, তখন আমাদেরকে সিয়াম কাযা করার নির্দেশ দেওয়া হতো, সালাত কাযা করার নির্দেশ দেওয়া হতো না”(সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৩৩৫)

    আপনার স্ত্রী যেহেতু কাযার সংখ্যা ভুলে গেছে এবং তার সন্দেহ সৃষ্টি হয়েছে যে তা ছয় দিন ছিল, না সাত দিন ছিল উদাহরণস্বরূপ। তাহলে তার ওপর ছয় দিনই ওয়াজিব হবে। কারণ, “মৌলিক নীতি হচ্ছে: দায়মুক্ত থাকা” (অতিরিক্ত একদিনের দায়বদ্ধতার কোনো বাধ্যবাধকতা না থাকাই মূলনীতি)

    কিন্তু যদি সে সতর্কতামূলক সাত দিন সিয়াম পালন করে, তাহলে এটাই উত্তম। যাতে নিশ্চিতভাবে সে দায়মুক্ত হতে পারে।

    শাইখ ইবন উসাইমীনকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল: জনৈক নারীর ওপর রমযানের কাযা রয়েছে; কিন্তু তার সন্দেহ সৃষ্টি হয়েছে, তিন দিন, না চার দিন। সে দিন সিয়াম পালন করেছে, এখন সে কী করবে?

    তিনি উত্তর দিয়েছেন: কাযার ব্যাপারে কারো সন্দেহ হলে, কম সংখ্যা গ্রহণ করবে। যেমন, কোনো নারী বা পুরুষের সন্দেহ হয় যে, তার ওপর তিন দিন, না চার দিনের কাযা রয়েছে? তখন সে কম সংখ্যা গ্রহণ করবে। কারণ, কম সংখ্যা নিশ্চিত আর অতিরিক্তটা হচ্ছে সন্দেহযুক্ত। আর “মৌলিক নীতি হচ্ছে, দায়মুক্ত থাকা”। তবে সন্দেহযুক্ত দিন সিয়াম পালন করাই উত্তম। যদি এ দিনটি তার ওপর ওয়াজিব থাকে, তবে নিশ্চিতভাবে তার কাযা আদায় হলো। অন্যথায় নফল হিসেবে পরিগণিত হলো। আল্লাহ কোনো ব্যক্তির আমল বিনষ্ট করেন না।”

    সূত্র: ‘ফতোয়া নূরুন আলাদ্দারব’ আল্লাহই ভালো জানেন।

    আপনার মতামত আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ