কাজা সম্পন্ন করার পূর্বে সিয়াম বিলম্বিত করার ফিদিয়া আদায় প্রসঙ্গ

বর্ণনা

ফতোয়াটি একটি প্রশ্নের উত্তর। প্রশ্নটি হল, একজন নারীর জিম্মায় কাজা রোজা রয়েছে, এবং তাকে খাবারও দান করতে হবে। এমতাবস্থায় সেকি প্রতিদিনের খাবার প্রতিদিন দেবে না কি কাজা আদায়ের পর একসাথে খাবার দিয়ে দিলেই চলবে?

Download
এ পেইজ এর দায়িত্বশীলের কাছে টীকা লিখুন

সম্পূর্ণ বিবরণ

    কাযা সম্পন্ন করার পূর্বে সিয়াম বিলম্বিত করার ফিদিয়া আদায় প্রসঙ্গ

    حكم إخراج فدية تأخير الصيام قبل القضاء

    < بنغالي- Bengal - বাঙালি>

    ইসলাম কিউ, এ

    الإسلام سؤال وجواب

    —™

    অনুবাদক: সানাউল্লাহ নজির আহমদ

    সম্পাদক: ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া

    ترجمة: ثناء الله نذير أحمد

    مراجعة: د/ أبو بكر محمد زكريا

    কাযা সম্পন্ন করার পূর্বে সিয়াম বিলম্বিত করার ফিদিয়া আদায় প্রসঙ্গ

    প্রশ্ন: জনৈকা নারীর ওপর রমযানের কাযা ও ফিদিয়া ওয়াজিব। এখন সে আলাদা আলাদা প্রত্যেক দিনের ফিদিয়া আদায় করবে, না সম্পূর্ণ কাযা শেষে একসাথে সকল দিনের ফিদিয়া আদায় করবে?

    উত্তর: আল-হামদুলিল্লা­হ

    পরবর্তী রমযান পর্যন্ত যে কাযা বিলম্ব করে, আর এ বিলম্ব যদি কোনো অসুস্থতা অথবা গর্ভ ধারণ কিংবা দুগ্ধ পান করানো ইত্যাদি ওজরের ফলে হয়, তাহলে তার ওপর শুধু কাযাই ওয়াজিব। আর যদি কোনো ওজর ছাড়া হয়, তবে সে গুনাহগার হবে। তার ওপর কাযা ওয়াজিব। ফিদিয়া ওয়াজিব হবে কি না? এ ব্যাপারে আলেমদের মাঝে মতভেদ রয়েছে। অধিকাংশ আলেমের মতে তার ওপর ফিদিয়া ওয়াজিব হবে। অর্থাৎ প্রত্যেক দিনের পরিবর্তে একজন ফকিরকে খাদ্য দান করতে হবে। তবে বিশুদ্ধ মতানুযায়ী তার ওপর ফিদিয়া ওয়াজিব হবে না। সতর্কতামূলক কেউ আদায় করলে ভালো।

    যারা ফিদিয়া ওয়াজিব হওয়ার পক্ষে রায় দিয়েছেন, তাদের নিকট দ্বিতীয় রমযান প্রবেশ করলেই তা ওয়াজিব হয়। সে তা সে সময় আদায় কিংবা কাযা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে পারে, তবে দায়মুক্ত হওয়ার জন্য দ্রুত আদায় করাই উত্তম।

    الموسوعة الفقهية (28/76) গ্রন্থে রয়েছে: রমযানের কাযা ওয়াজিব দেরীতে হয়। জমহুর আলেমগণ বলেছেন, কিন্তু কাযার সময় শেষ করা যাবে না অর্থাৎ পরবর্তী রমযানের চাঁদ উদয় পর্যন্ত বিলম্ব করা যাবে না। যেমন, প্রথম ওয়াক্তের সালাত দ্বিতীয় ওয়াক্ত পর্যন্ত বিলম্ব করা দুরস্ত নয়। আয়েশা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা বলেছেন,

    «كان يكون عليّ الصّوم من رمضان، فما أستطيع أن أقضيه إلاّ في شعبان، لمكان النّبيّ صلى الله عليه وسلم ».

    ‘‘আমার ওপর রমযানের কাযা থাকত; কিন্তু রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপস্থিতির কারণে আমি তা শাবান ছাড়া কাযা করতে সক্ষম হতাম না।’’

    জমহুর আলেমের নিকট দ্বিতীয় রমযান পর্যন্ত কাযা বিলম্ব করা যাবে না, যদি কোনো কারণ ছাড়া বিলম্ব করে, তবে গুনাহগার হবে। এর দলীল হচ্ছে পূর্বোক্ত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহার হাদীস। যদি বিলম্ব করে, তাহলে তার ওপর ফিদিয়া ওয়াজিব হবে। প্রত্যেক দিনের জন্য একজন ফকিরকে খাদ্য প্রদান করতে হবে। যেমন, ইবন আব্বাস, ইবন উমার ও আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুম থেকে বর্ণিত, তারা জনৈক ব্যক্তির ব্যাপারে বলেছেন, যার ওপর কাযা ছিল; কিন্তু সে পরবর্তী রমযান পর্যন্ত কাযা করে নি,

    «عليه القضاء ، وإطعام مسكين لكلّ يوم».

    ‘‘তার ওপর কাযা এবং প্রত্যেক দিনের জন্য একজন ফকিরকে খাদ্য দান করা ওয়াজিব।’’ আর বিলম্বের এ ফিদিয়া কাযার পূর্বে, কাযার পর ও কাযার সাথে যখন ইচ্ছা আদায় করা বৈধ।

    মিরদাবি হাম্বলী রহ. বলেছেন: ‘‘কাফফারা পরিমাণ খাদ্য দান করবে। কাযার পূর্বে, কাযার সাথে ও কাযার শেষে সর্বাবস্থায় তা আদায় করা বৈধ।

    মাজদ অর্থাৎ শাইখুল ইসলামের দাদা ইবন তাইমিয়্যাহ রহ. বলেছেন: কাযার পূর্বে আদায় করাই আমাদের নিকট উত্তম। দ্রুত কল্যাণ সম্পাদন করা ও দেরী করার পাপ থেকে মুক্ত হওয়ার নিমিত্তে।’’ ইনসাফ: (৩/৩৩৩)