জনৈক খ্রিষ্টান নারীর জিজ্ঞাসা মীলাদুন্নবী কী, মুসলিমের নিকট এ দিনের গুরুত্ব কত

বর্ণনা

জনৈক খৃস্টান নারীর প্রশ্ন উত্তর : নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যে দিন জন্ম গ্রহণ করেন, তার গুরুত্ব কী, কখন ও কিভাবে তা পালন করতে হয় ?

Download
এ পেইজ এর দায়িত্বশীলের কাছে টীকা লিখুন

সম্পূর্ণ বিবরণ

    জনৈক খ্রিস্টান নারীর জিজ্ঞাসা: মীলাদুন্নবী কী, মুসলিমের নিকট এ দিনের গুরুত্ব কত?

    نصرانية تسأل عن يوم مولد النبي صلى الله عليه وسلم وما هي أهميته للمسلمين؟

    < بنغالي- Bengal - বাঙালি>

    শাইখ মুহাম্মাদ সালেহ আল-মুনাজ্জিদ

    الشيخ محمد صالح المنجد

    —™

    অনুবাদক: সানাউল্লাহ নজির আহমদ

    সম্পাদক: ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া

    ترجمة: ثناء الله نذير أحمد

    مراجعة: د/ أبو بكر محمد زكريا

    জনৈক খিস্টান নারীর জিজ্ঞাসা: মীলাদুন্নবী কী, মুসলিমের নিকট এ দিনের গুরুত্ব কত?

    প্রশ্ন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে দিন জন্মগ্রহণ করেছেন, তার গুরুত্ব কী, কখন ও কীভাবে তা পালন করতে হয়?

    উত্তর: আল-হামদুলিল্লাহ

    প্রথমত: মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সকল মানুষের নিকট আল্লাহর প্রেরিত রাসূল, তার মাধ্যমে আল্লাহ তা‘আলা মানুষদেরকে অন্ধকার থেকে আলোয় বের করেছেন। তিনি মানুষদের হাত ধরে গোমরাহী থেকে হিদায়াত ও সঠিক পথে নিয়ে এসেছেন।

    আশা করছি এ প্রশ্ন ইসলাম সম্পর্কে আপনার গবেষণা ও অনুসন্ধানের প্রথম স্তর এবং এ সম্পর্কে জানা ও পড়া-শোনার প্রথম ধাপ। আপনি কুরআনের অনুবাদ পড়ার চেষ্টা করুন, তাহলে এ দীন সম্পর্কে আরও অধিক জানতে পারবেন। সন্দেহ নেই আপনি যদি ইসলাম গ্রহণ করে আমাদের দীনি বোন হয়ে যান, তাহলে আমরা অধিক খুশি হবো।

    দ্বিতীয়ত: দীন ইসলামে ইবাদাত কিছু মূলনীতির ওপর নির্ভরশীল। অর্থাৎ কুরআনে বর্ণিত আল্লাহ তা‘আলার নীতি ও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আনিত আদর্শের অনুসরণ ব্যতীত কারো ইবাদাত গ্রহণযোগ্য নয়। আল্লাহর নির্দেশিত ইবাদাত ব্যতীত অন্য পন্থায় যে ইবাদাত করবে, আল্লাহ তার ইবাদাত কবুল করবেন না। আমাদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ ব্যাপারে সতর্ক করে দিয়েছেন। আয়েশা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,

    «مَنْ أَحْدَثَ فِي أَمْرِنَا هَذَا مَا لَيْسَ فِيهِ فَهُوَ رَدٌّ»

    “আমাদের এ দীনে যে নতুন আবিষ্কার করল, যা এর অন্তর্ভুক্ত নয়, তা পরিত্যক্ত”(সহীহ বুখারী, হাদীস নং ২৪৯৯)

    ঈদ এসব ইবাদাতেরই অন্তর্ভুক্ত। আল্লাহ তা‘আলা আমাদের জন্য দু’টি ঈদের অনুমোদন দিয়েছেন, এ ছাড়া আর কোনো ঈদ উদযাপন করা বৈধ নয়।

    ঈদে মীলাদুন্নবী সম্পর্কে জানা প্রয়োজন যে, এ দিনে ঈদ উদযাপন করার অনুমতি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে দেন নি। তিনি নিজে এ দিনে ঈদ উদযাপন করেন নি, অনুরূপ তার সাহাবীগণও না। অথচ আমাদের চেয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি তাদের মহব্বত অধিক ছিল। এ জন্য এ দিনে আমরা ঈদ উদযাপন করব না। এতেই রয়েছে আল্লাহ ও তার রাসূলের অনুসরণ। আল্লাহ তা‘আলা বলেন :

    ﴿وَمَآ ءَاتَىٰكُمُ ٱلرَّسُولُ فَخُذُوهُ وَمَا نَهَىٰكُمۡ عَنۡهُ فَٱنتَهُواْۚ﴾ [الحشر: ٧]

    “রাসূল তোমাদের যা দেয় তা গ্রহণ কর, আর যা থেকে সে তোমাদের নিষেধ করে তা থেকে বিরত হও”[সূরা আল-হাশর, আয়াত: ৭]

    রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:

    «علَيْكُمْ بِسُنَّتِي وَسُنَّةِ الْخُلَفَاءِ الْمَهْدِيِّينَ الرَّاشِدِينَ تَمَسَّكُوا بِهَا وَعَضُّوا عَلَيْهَا بِالنَّوَاجِذِ وَإِيَّاكُمْ وَمُحْدَثَاتِ الأُمُورِ فَإِنَّ كُلَّ مُحْدَثَةٍ بِدْعَةٌ وَكُلَّ بِدْعَةٍ ضَلالَة»

    “তোমরা আমার সুন্নত ও আমার খোলাফায়ে রাশেদীনের সুন্নত আঁকড়ে থাক এবং মাড়ির দাঁত দিয়ে তা কামড়ে ধর। খবরদার! তোমরা নতুন আবিষ্কৃত বস্তু থেকে দূরে থাক। কারণ প্রত্যেক নতুন আবিষ্কৃত বস্তু বিদ‘আত, আর প্রত্যেক বিদ‘আত গোমরাহী”(আবু দাউদ, হাদীস নং ৩৯৯১) আলবানী সহীহ আবু দাউদে (৩৮৫১) হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন।

    আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মহব্বত যেসব জিনিস দ্বারা প্রকাশ পায়, তা হচ্ছে তার প্রতিটি আদেশ ও নিষেধ মেনে চলা। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্ম দিন বা মীলাদুন্নবী উদযাপন করা তার নিষেধাজ্ঞার অন্তর্ভুক্ত।

    আর যে ব্যক্তি ঈদে মীলাদুন্নবী উদযাপন করতে চায়, তার উচিৎ এর সপক্ষে দলিল পেশ করা, তবে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্মদিন সোমবার সিয়াম রাখার ফযীলত রয়েছে; কিন্তু এটা শুধু ঈদে মীলাদুন্নবীর সোমবার নয়, বরং বছরের প্রতিটি সোমবার এ ফযীলতের অন্তর্ভুক্ত। আবু কাতাদা আনসারী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সোমবারে সিয়াম সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, তিনি বলেন, “এ দিনে আমি জন্মগ্রহণ করেছি এবং এ দিনে আমার ওপর অহী নাযিল করা হয়েছে”(সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ১৯৭৮) সোমবার দিন বান্দার আমল আসমানে উঠানো হয় এবং তা আল্লাহর নিকট পেশ করা হয়।

    মোদ্দাকথা: ঈদে মীলাদুন্নবীর অনুষ্ঠান আয়োজনের অনুমতি আল্লাহ তা‘আলা বা তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রদান করেন নি, তাই আল্লাহ ও তার রাসূলের নির্দেশ অনুসারে এ দিনে ঈদে মীলাদুন্নবী পালন করা বৈধ নয়। দো‘আ করছি, আল্লাহ আপনাকে সঠিক পথের সন্ধান দান করুন। আল্লাহ ভালো জানেন।

    সমাপ্ত

    আপনার মতামত আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ