মীলাদুন্নবীর মিষ্টি ক্রয় করা

বর্ণনা

প্রশ্ন : মীলাদুন্নবীর মিষ্টি খাওয়া কি হারাম, মাহফিলের আগের দিন, পরের দিন এবং মাহফিলের দিন, এ উপলক্ষে মিষ্টি খরিদ করার বিধান কী ? কারণ ইদানিং এর প্রচল দেখছি, আশা করছি উত্তর দিয়ে বাধিত করবেন।

Download
এ পেইজ এর দায়িত্বশীলের কাছে টীকা লিখুন

সম্পূর্ণ বিবরণ

    মীলাদুন্নবীর মিষ্টি ক্রয় করা

    حكم شراء حلوى المولد

    < بنغالي- Bengal - বাঙালি>

    শাইখ মুহাম্মাদ সালেহ আল-মুনাজ্জিদ

    الشيخ محمد صالح المنجد

    —™

    অনুবাদক: সানাউল্লাহ নজির আহমদ

    সম্পাদক: ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া

    ترجمة: ثناء الله نذير أحمد

    مراجعة: د/ أبو بكر محمد زكريا

    মীলাদুন্নবীর মিষ্টি ক্রয় করা

    প্রশ্ন: মীলাদুন্নবীর মিষ্টি খাওয়া কি হারাম, মাহফিলের আগের দিন, পরের দিন এবং মাহফিলের দিন, এ উপলক্ষে মিষ্টি খরিদ করার বিধান কী? কারণ ইদানীং এর প্রচল দেখছি, আশা করছি উত্তর দিয়ে বাধিত করবেন।

    উত্তর: আল-হামদুলিল্লাহ

    প্রথমত: মীলাদুন্নবী বিদ‘আত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অথবা তার কোনো সাহাবী অথবা কোনো তাবেঈ‘ অথবা কোনো ইমাম থেকে এর প্রচলন করা সাব্যস্ত নেই; বরং এর প্রচলন শুরু করেছে উবাইদী-শিয়া সম্প্রদায়, যেরূপ তারা অন্যান্য বিদ‘আত ও গোমরাহী সৃষ্টি করেছে।

    দ্বিতীয়ত: ক্ষতিকর কোনো উপাদান না থাকলে মিষ্টি খাওয়া ও কেনা বৈধ, যদি এতে নিষিদ্ধ কর্মের প্রতি উৎসাহ না থাকে অথবা নিষিদ্ধ কর্মের প্রচার ও স্থায়িত্বের কারণ না হয়।

    তবে আমাদের কাছে স্পষ্ট যে, মীলাদুন্নবীর সময় মিষ্টি খরিদ করা মীলাদুন্নবী প্রচার করা এবং তার প্রতি এক ধরণের সমর্থন; বরং প্রকারান্তরে মীলাদুন্নবী উদযাপন করা হয়। কারণ, মানুষের অভ্যাসে যা পরিণত হয় তাই ঈদ, যদি তাদের অভ্যাস হয় এ দিনে এ ধরণের খাদ্য ভক্ষণ করা অথবা মীলাদুন্নবী উপলক্ষে মিষ্টি তৈরি করা, বছরের অন্যান্য দিন যেরূপ হয় না, তাহলে এ দিনে এ মিষ্টি বিক্রি করা, খাওয়া অথবা হাদিয়া দেওয়া এক ধরণের মীলাদ মাহফিল উদযাপন করার শামিল। তাই এ দিনে এসব পরিহার করাই উত্তম।

    এ বিষয়ে আপনার দৃষ্টি আকর্ষণ করছি, ভালোবাসা দিবসের সাথে সম্পৃক্ত যাবতীয় বস্তু এবং এ দিবস উদযাপনের নিদর্শন লাল রঙের মিষ্টি ক্রয় ও হৃদপিণ্ডের ছবি সম্বলিত জিনিস আদান-প্রদান, ক্রয়-বিক্রয় ও ব্যবহার সম্পর্কে ‘লাজনায়ে দায়েমার’ ফাতওয়ার প্রতি: “কুরআন-হাদীসের স্পষ্ট দলীল ও উম্মতের ঐক্যমত যে, ইসলামের ঈদ দু’টি: ঈদুল আযহা ও ঈদুল ফিতর। এ ছাড়া অন্যান্য ঈদ বিদ‘আত, হোক না তা কোনো ব্যক্তির সাথে সম্পৃক্ত অথবা কোনো দলের সাথে সম্পৃক্ত অথবা কোনো ঘটনার সাথে সম্পৃক্ত অথবা অন্য কোনো জিনিসের সাথে সম্পৃক্ত। কোনো মুসলিমের পক্ষে এসব ঈদ পালন করা, সমর্থন করা, এতে আনন্দ প্রকাশ করা ও কোনোভাবে এর সহযোগিতা প্রদান করা বৈধ নয়। কারণ, এগুলো আল্লাহর সীমারেখার লঙ্ঘন, আর যে আল্লাহর সীমালঙ্ঘন করল সে নিজের ওপরই যুলুম করল। অনুরূপ যে কোনো জিনিসের মাধ্যমে এ ঈদ বা এ ধরণের অন্যান্য ঈদে সাহায্য করা হয় তাও হারাম। যেমন, খাওয়া, পান করা, বিক্রি করা, কেনা, তৈরি করা, হাদিয়া দেওয়া, প্রেরণ করা অথবা প্রচার করা ইত্যাদি। কারণ, এসবের মধ্যে রয়েছে গুনাহ, অবাধ্যতা এবং আল্লাহ ও তার রাসূলের বিরুদ্ধাচরণে সহযোগিতা প্রদান করা। আল্লাহ তা'আলা বলেন,

    ﴿تَعَاوَنُواْ عَلَى ٱلۡبِرِّ وَٱلتَّقۡوَىٰۖ وَلَا تَعَاوَنُواْ عَلَى ٱلۡإِثۡمِ وَٱلۡعُدۡوَٰنِۚ وَٱتَّقُواْ ٱللَّهَۖ إِنَّ ٱللَّهَ شَدِيدُ ٱلۡعِقَابِ﴾ [المائ‍دة: ٢]

    “সৎকর্ম ও তাকওয়ায় তোমরা পরস্পরের সহযোগিতা কর। মন্দকর্ম ও সীমালঙ্ঘনে পরস্পরের সহযোগিতা করো না। আর আল্লাহকে ভয় কর। নিশ্চয় আল্লাহ আযাব প্রদানে কঠোর”[সূরা আল-মায়েদা, আয়াত: ২]

    আল্লাহ ভালো জানেন।

    উৎস:

    www.islamqa.info

    বিষয়ভিত্তিক ক্যাটাগরি: