ইসলামের প্রথম খলীফা আবু বকর রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু

বর্ণনা

এতে ইসলামের প্রথম খলীফা কে ছিল তা আলোচনা করা হয়েছে। শিয়া সম্প্রদায়ের দাবি আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু ইসলামের প্রথম খলীফা, তাদের এ দাবীকে এ ফতোয়ায় খণ্ডন করা হয়েছে।

Download
এ পেইজ এর দায়িত্বশীলের কাছে টীকা লিখুন

সম্পূর্ণ বিবরণ

    ইসলামের প্রথম খলীফা আবু বকর রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু

    أول خليفة الإسلام أبو بكر رضي الله عنه

    < بنغالي >

    শাইখ সালেহ আল-মুনাজ্জেদ

    الشيخ صالح المنجد

    —™

    অনুবাদক: জাকেরুল্লাহ আবুল খায়ের

    সম্পাদক: ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া

    ترجمة: ذاكر الله أبو الخير

    مراجعة: د/ أبو بكر محمد زكريا

    ইসলামের প্রথম খলীফা আবু বকর রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু

    প্রশ্ন:

    শিয়ারা মনে করে আলী রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু হলেন প্রথম খলীফা। আর আমরা সুন্নীরা বিশ্বাস করি যে, আবু বকর রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু হলেন, প্রথম খলীফা। আশা করি বলে দেবেন প্রথম খলীফা কে? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর নিকটাত্মীয়কে যে অসিয়ত করতে চেয়েছিলেন তা কী ছিল? আর গাদিরে খুম-এ কী ঘটেছিল?

    উত্তর:

    আলহামদু লিল্লাহ।

    যাদের আহলে ইলম বলে গণনা করা হয়, তারা সবাই এ বিষয়ে একমত যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রথম খলীফা আবু বকর রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু। কারণ, আনসার ও মুহাজিরদের মধ্যে মতবিরোধের মীমাংসার পর আবু বকর সিদ্দিক রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু-এর হাতে বাইয়াতের বিষয়ে সমস্ত সাহাবীর ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত হয়। মুহাজিরদের সাথে সাথে আনসার সাহাবীরাও তার হাতে বাইয়াত গ্রহণ করে। এ ব্যাপারে তারা কেউ কারও কোনো প্রকার বিরোধিতা করেন নি। আলী ও আবু বকর রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা কারও বিষয়ে তারা সিদ্ধান্তহীনতায় ভোগেন নি। সাহাবীদের কেউ আবু বকর রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুর ‘আনহুর পর উমার রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুর খেলাফতের পূর্বে আলী রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুর হাতে বাইয়াত গ্রহণ করার জন্য কাউকে আহ্বান করেন নি। অনুরূপভাবে উমার রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুর পর সবার কাছ থেকে আলী রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুর ‘আনহুর হাতে বাইয়াত গ্রহণ করার আহ্বান জানান নি। সাহাবীদের মধ্যে মতবিরোধ ও বিবাদ দেখা দিয়েছে ওসমান রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুর শহীদ হওয়ার পর। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মৃত্যুর পর সাহাবীগণ তাদের দুনিয়াবী নেতৃত্বের জন্য তার (আবু বকর রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুর) প্রতি সন্তুষ্ট হন, যার প্রতি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার জীবদ্দশায় দীনের নেতৃত্বের বিষয়ে সন্তুষ্ট হয়েছিলেন। অর্থাৎ সালাতে আবু বকর রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু কর্তৃক রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর স্থানে তাঁর পক্ষে ইমামতি করা। রাসূলের জীবদ্দশায় সালাতের ইমামতি রাসূলের পক্ষ থেকে আবু বকর রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুই করেন।

    গাদির হলো মক্কা ও মদীনার মাঝে একটি কুপের নাম যাকে খুম বলা হয়। কুপ বিষয়ে ঘটনা হলো, ইমাম মুসলিম ২৪০৮ নং হাদীসে যায়েদ ইবন আরকাম রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণনা করেন, তাতে তিনি বলেন,

    «قام فينا رسول الله صلى الله عليه وسلم يوما خطيبا بماء يدعى خما بين مكة والمدينة، فحمد الله وأثنى عليه ووعظ وذكّر، ثم قال: وأنا تارك فيكم ثقلين أولهما كتاب الله، فحث على كتاب الله ورغّب فيه ثم قال: وأهل بيتي، أذكركم الله في أهل بيتي، أذكركم الله في أهل بيتي، أُذكّركم الله في أهل بيتي، قال زيد: نساؤه من أهل بيته، ولكن أهل بيته من حرم الصدقة بعده وهم آل علي، وآل عقيل، وآل جعفر، وآل عباس، كل هؤلاء حُرم الصدقة».

    “মক্কা ও মদীনা মাঝে খুম নামক একটি পানির কুপের নিকট একদিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ভাষণ দিতে দাঁড়ান। প্রথমে তিনি আল্লাহর প্রশংসা করেন, তার কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং তিনি আমাদের ওয়াজ ও নসিহত করেন। অতঃপর তিনি বলেন, আমি তোমাদের নিকট দু’টি জিনিস রেখে যাচ্ছি, যার প্রথমটি হলো আল্লাহর কিতাব। তারপর তিনি আল্লাহর কিতাব বিষয়ে উৎসাহ দেন এবং তারগীব দেন। তারপর তিনি বলেন, আরেকটি জিনিস আমার আহলে বাইত (পরিবার-পরিজন)। আমি তোমাদের আমার আহলে বাইত সম্পর্কে স্মরণ করিয়ে দিচ্ছি। আমি তোমাদেরকে আমার আহলে বাইত সম্পর্কে স্মরণ করিয়ে দিচ্ছি। আমি তোমাদের আমার আহলে বাইত সম্পর্কে স্মরণ করিয়ে দিচ্ছি। (এ কথাটি তিনি তিনবার বলেন) যায়েদ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বলেন, রাসূলের স্ত্রীগণও রাসূলের আহলে বাইতের অন্তর্ভুক্ত। তবে রাসূলের আহলে বাইত তারাও যাদের জন্য রাসূলের মৃত্যুর পর সদকা হারাম ঘোষণা করা হয়েছে। তারা হলেন, আলীর পরিবার, আকীলের পরিবার, জা‘ফরের পরিবার, ‘আব্বাসের পরিবার; এদের ওপর সদকা হারাম করা হয়।”

    বস্তুত: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আহলে বাইতদের প্রতি যে অসিয়ত করেন তা তাদের সম্মান ও ইজ্জত রক্ষার উদ্দেশ্যেই করেন। যাতে তাদের কেউ গালি ও কষ্ট না দেয়। এ অসিয়ত দ্বারা এ কথা বুঝা যায় না যে, তাদেরকে অন্যান্য সাহাবী, যারা তাদের থেকে উত্তম, তাদের ওপর প্রাধান্য দিতে হবে। যেমন, আবু বকর, উমার ও উসমান রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুম, যাদের উত্তম হওয়া বহু বিশুদ্ধ দলীল দ্বারা প্রমাণিত। আল্লাহই ভালো জানেন।

    আপনার মতামত আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ