প্রত্যেক শীয়ার প্রতি আমার নসিহত

শায়খ আবু বকর জাবের আল-জাযায়েরি

অনুবাদ: সানাউল্লাহ নজির আহমদ

সম্পাদনা: ড. আব্দুল কাদের

 উপহার

প্রত্যেক শীয়ার প্রতি, যে স্বাধীন মন ও চিন্তার অধিকারী, সত্য ও কল্যাণকামী এবং ইলম দ্বীন ও জ্ঞান অন্বেষী। এ সংক্ষিপ্ত পুস্তিকা তাকে উপহার হিসেবে দিচ্ছি, তার কাছে আমার এতটুকুই শুধু আশা থাকবে সে বইটি শুধু সে পাঠ করুক, এর চেয়ে বেশী কিছু নয়, কারণ এখানে আমি তার সামনে যা পেশ করেছি তা আমার বিশ্বাস ও বাস্তব অভিজ্ঞতা। ওয়াস্‌সালাম।

 প্রত্যেক শীয়ার প্রতি আমার নসিহত

ভূমিকা

সকল প্রশংসা আল্লাহ তা‘আলার জন্য, দরূদ ও সালাম তাঁর রাসূল ও নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপর এবং তার পরিবার ও সাথী সকলের উপর, অতঃপর:

সত্য বলতেই হয়, আমি মনে করতাম আহলে বাইতের শীয়ারা মুসলিমদের একটি দল, তারা আহলে বাইতের মহব্বতে বাড়াবাড়ি করে ও তাদের পক্ষ নেয়। আরো মনে করতাম তারা শুধু ইসলামের আনুষঙ্গিক বিষয়ে আহলে সুন্নাহর সাথে দ্বিমত পোষণ করে বিভিন্ন ব্যাখ্যার আশ্রয়ে, কুরআন ও হাদিসের সাথে যার নিকটতম বা দূরতম সম্পর্ক রয়েছে। এ জন্য আমি অনেক বিরক্তি বোধ করতাম, বরং দুঃখিত হতাম সেসব ভাইদের কারণে, যারা শীয়াদের ফাসেক বলে ও তাদের সম্পর্কে এমন মন্তব্য করে যা তাদেরকে ইসলামের গণ্ডি থেকে বের করে দেয়, তবে এ অবস্থা বেশী দীর্ঘ হয়নি, আমার জনৈক দীনি ভাই আমাকে শীয়াদের কিতাব দেখার পরামর্শ দিলেন, যেন আমি তাদের ব্যাপারে সঠিক সিদ্ধান্তে উপনীত হতে পারি। এ জন্য “আল-কাফি” গ্রন্থটি নির্বাচন করা হল। এ কিতাবটি শীয়া মাযহাবের শ্রেষ্ঠ দলিল। আমি তা পড়লাম এবং তা থেকে কতক বাস্তবতা নির্ণয় করলাম, যা আমাকে বাধ্য করেছে সেসব ভাইদের নিকট ওজর পেশ করার জন্য, যারা আমাকে ভুল বলতেন ও নিষেধ করতেন শীয়াদের প্রতি আমার দুর্বলতা ও তাদের প্রতি আমার ঝোঁক দেখে। আমি আশা করি এর ফলে কতক ভুল-বোঝাবুঝির অবসান হবে যা নিঃসন্দেহে আহলে সুন্নাহ ও হক বা না-হক পন্থায় ইসলামের দাবিদার শীয়াদের মাঝে বিদ্যমান।

আমি শীয়াদের গুরুত্বপূর্ণ কিতাব “আল-কাফি” থেকে আমার বাস্তব অভিজ্ঞতা পেশ করছি, তারা এ কিতাবের ওপরই নিজেদের মাযহাব প্রমাণ করার জন্য নির্ভর করে। আমি প্রত্যেক শীয়াকে পূর্ণ ইখলাস ও ইনসাফের সাথে এসব বাস্তবতায় চিন্তা করে শীয়া মাযহাব ও শীয়াদের সাথে সম্পর্ক রাখা-না রাখার সিদ্ধান্ত নেয়ার জন্য আহ্বান করছি। যদি তার সিদ্ধান্ত বলে যে, এ মাযহাব বিশুদ্ধ, তার সাথে সম্পর্ক রাখা নিরাপদ, তাহলে সে তার ওপর অটল ও অবিচল থাক, আর যদি তার সিদ্ধান্ত হয় এ মাযহাব বাতিল ও ভ্রান্ত এবং তার সাথে সম্পর্ক রাখার অর্থ দুনিয়া ও আখেরাতে নিজেকে ক্ষতিগ্রস্ত করা, তাহলে প্রত্যেক শীয়ার কর্তব্য নিজের কল্যাণ কামনা ও মুক্তির আশায় তা পরিত্যাগ করা ও তওবা করে তার থেকে মুক্ত হওয়া। আবু বকর, ওমর, উসমান ও আলী রা. সহ সকল সাহাবি এবং তাদের পরবর্তী হাজারো মুসলিম যে কুরআন ও হাদিসের ওপর সন্তুষ্ট ছিলেন, তাদেরও উচিত তাতে সন্তুষ্ট থাকা।

আমিও সে মুসলিম থেকে নিরাপদ থাকতে চাই, যে সত্য জাহির হওয়ার পর অন্ধ অনুকরণ বা সাম্প্রদায়িক গোঁড়ামি বা পার্থিব কোন স্বার্থের কারণে বাতিলের ওপর অটল থাকে, সে মূলত নেফাক ও ধোঁকার আশ্রয়ে নিজের সাথে প্রতারণা করছে, সে নিজ সন্তান, জাতি ও আগত প্রজন্মের জন্য ফেতনার কারণ। নিঃসন্দেহে তার উদ্দেশ্য না-হক দ্বারা হক থেকে দূরে রাখা, বিদআত দ্বারা সুন্নত থেকে বিরত রাখা, তার ভ্রান্ত মাযহাব দ্বারা ইসলাম থেকে দূরে রাখা।

হে শীয়া, আমি তোমার সামনে (আকিদা বিষয়ে) এমন কিছু ইলমী বাস্তব অভিজ্ঞতা পেশ করছি, যা প্রকৃতপক্ষে তোমার মাযহাবের উৎস ও মূল ভিত্তি! ষড়যন্ত্রের অপরাধী হাত ও পাপিষ্ঠ অন্তর যা তোমার ও তোমার পূর্বে তোমার জাতির সামনে যা পেশ করেছে, উদ্দেশ্য তোমাকে ও তোমার জাতিকে ইসলামের নামে ইসলাম থেকে দূরে রাখা, সত্যের নামে সত্য থেকে বিচ্যুত করা।

হে শীয়া, এখানে আমি তোমাদের মৌলিক গ্রন্থ “আল-কাফি” থেকে সাতটি বাস্তব অভিজ্ঞতা পেশ করছি, মনে রেখ এ গ্রন্থটিই তোমার মাযহাবের ভিত্তি ও মৌলিক গ্রন্থ। তুমি এতে নজর দাও, অতঃপর তোমার বিচারকি বিবেক দ্বারা চিন্তা কর ও সিদ্ধান্ত নাও, আল্লাহর নিকট দোয়া করি তিনি তোমাকে সত্য দেখার তাওফিক দিন। সত্য গ্রহণ করে তার ওপর চলার ক্ষমতা দিন, নিশ্চয় তিনি ব্যতীত কোন ইলাহ নেই, তিনি ব্যতীত কেউ সক্ষম নয়।

 প্রথম বাস্তবতা

শীয়াদের “আল-কাফি” গ্রন্থের একটি অধ্যায়ের শিরোনাম হচ্ছে: [আহলে বাইত কুরআনের মুখাপেক্ষী নয়, কারণ তাদের কাছে রয়েছে পূর্বের আসমানি কিতাবসমূহ!]

হে শীয়া, তুমি যদি শীয়া হও এ আকিদায় তোমাকে বিশ্বাসী হতে হবে, এর ওপর তোমার আমল করা জরুরী, কারণ “আল-কাফি”: (খ.১), কিতাবুল হুজ্জাহ, (পৃ.২০৭)-তে একটি অধ্যায় রয়েছে:

(باب إن الأئمة عليهم السلام عندهم جميع الكتب التي نزلت من الله عز وجل وأنهم يعرفونها كلها على اختلاف ألسنتها)

“অধ্যায়: ইমাম আলাইহিমুস সালামগণের নিকট সকল আসমানি কিতাব রয়েছে, যা আল্লাহর পক্ষ থেকে নাযিল হয়েছে, ভিন্ন ভিন্ন ভাষা সত্ত্বেও তার সব তারা বুঝেন”। এর দলিল আবু আব্দুল্লাহ থেকে মরফু সনদে বর্ণিত “আল-কাফি” গ্রন্থের দু’টি হাদিস: তিনি [আবু আব্দুল্লাহ] ইঞ্জিল, তাওরাত ও জবুর সুরিয়ানি ভাষায় পাঠ করতেন। এর পশ্চাতে লেখকের উদ্দেশ্য কারো নিকট গোপন থাকার কথা নয়, অর্থাৎ আহলে বাইত ও শীয়ারা ইহুদী-খ্রীস্টানদের অনুসারী, তাই কুরআন ত্যাগ করা তাদের জন্য দোষণীয় নয়, কারণ তাদের নিকট পূর্বের আসমানি কিতাবসমূহ রয়েছে। শীয়াদেরকে ইসলাম ও মুসলিম থেকে দূরে রাখার এটা এক সুদূর পরিকল্পনা শীয়াগুরুদের। কুরআন থেকে বিমুখ হওয়ার আকিদা যে পোষণ করে, সে ইসলাম থেকে খারিজ হয়ে যায়, মুসলিম জামাত থেকে ছিটকে পড়ে। বিকৃত, পরিবর্তিত ও কুরআনের কারণে মনসুখ বা রহিত এসব আসমানি কিতাব পড়া, তার প্রতি মনোনিবেশ করা ও তার ওপর আমল করা কি কুরআন ত্যাগ করা নয়?! অথচ এ কুরআন-ই তো নিজস্ব আকিদা, আহকাম ও আদব দ্বারা মুসলিম জাতিকে ঐক্যবদ্ধ রেখেছে, বরং মুসলিম জাতির পরিচয় এ কুরআন, মুসলিম কুরআনের উম্মত।

সন্দেহ নেই কুরআন থেকে বিমুখ হওয়া কুফরি ও ইসলাম ত্যাগ করার শামিল। ওমর ইব্‌ন খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহুর হাতে তাওরাতের কয়েকটা পৃষ্ঠা দেখে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে শাসিয়ে বলেন: “আমি কি তোমাদের নিকট সুস্পষ্ট গ্রন্থ [পবিত্র কুরআন] নিয়ে আসেনি”?! অর্থাৎ আমাদের জন্য কুরআন যথেষ্ট, অন্য কোন আসমানি কিতাব আমাদের প্রয়োজন নেই, যা কুরআন দ্বারাই রহিত। অতএব কুরআন থেকে বিমুখ হওয়ার এ আকিদা পোষণ করে শীয়ারা কিভাবে নিজেদের মুসলিম ও আহলে বাইতের অনুসারী দাবি করে!

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যেখানে ওমর ইব্‌ন খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহুর হাতে নিয়ে তাওরাতের কয়েকটা পৃষ্ঠা দেখা পছন্দ করেননি, সেখানে কোন বিবেকে বলা হয় আহলে বাইত এসব কিতাব সংগ্রহ করেন, তার প্রতি মনোনিবেশ করেন ও বিভিন্ন ভাষায় তা পাঠ করেন!!! কোন প্রয়োজন ও কি উদ্দেশ্যে এসব বলা হয়? নিশ্চয় এতে গভীর ষড়যন্ত্র রয়েছে! না, শীয়ারা কুরআনের উম্মত নয়, মুহাম্মদের উম্মত নয়, আহলে বাইত তথা নবী পরিবার এসব কুফরি থেকে মুক্ত ও পবিত্র।

নিশ্চয় আহলে বাইতের ওপর এসব মিথ্যারোপ, ইসলাম ও মুসলিম ধ্বংসের গভীর ষড়যন্ত্র। প্রত্যেক শীয়া জেনে নিক, আল্লাহর কিতাব কুরআন থেকে বিমুখ হওয়ার বিশ্বাস পোষণ করা কুফরি, এ কুরআন আল্লাহ তা'আলা মুসলিমদের অন্তরে অন্তরে সংরক্ষণ করেছেন, খোদ শীয়াদের সামনেও রয়েছে মুসলিমদের এ কুরআন-ই, যার থেকে একটি বাক্য হ্রাস হয়নি, যাতে একটি বাক্যের বৃদ্ধি ঘটেনি, কখনো সম্ভবও হবে না ইনশাআল্লাহ, কারণ আল্লাহ তার হিফাজতের দায়িত্ব নিয়েছেন, ইরশাদ হচ্ছে:

﴿ إِنَّا نَحۡنُ نَزَّلۡنَا ٱلذِّكۡرَ وَإِنَّا لَهُۥ لَحَٰفِظُونَ ٩ ﴾ [الحجر: ٩] 

“নিশ্চয় আমি কুরআন নাযিল করেছি, আর আমিই তার হিফাযতকারী”। সূরা হিজর: (৯), তাই জিবরীল আলাইহিস সালাম যে কুরআন নিয়ে অবতরণ করেছেন আজো তা বিদ্যমান। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তার সাহাবিগণসহ হাজারো মুসলিম যে কুরআন পাঠ করেছেন আজো তা বিদ্যমান। কুরআন থেকে বা তার কোন অংশ থেকে বিমুখ হওয়ার আকিদা ইসলাম ও মুসলিম জামাত থেকে খারিজ করে দেয়, এ বিশ্বাস পোষণ করে কেউ ইসলাম ও মুসলিমের সাথে সম্পৃক্ত হতে পারে না।

 দ্বিতীয় বাস্তবতা

শীয়াদের বিশ্বাস: “সাহাবিদের কেউ কুরআন একত্র করেননি, সংরক্ষণও করতে পারেনি শুধু আলি ও আহলে বাইতের ইমামগণ ব্যতীত”

এ আকিদা কুলাইনি তার “আল-কাফি” গ্রন্থে (খ.১), (পৃ.২৬)-তে উল্লেখ করেছেন। তিনি দৃঢ়ভাবে বলেন: জাবের থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন: আমি আবু জাফর আলাইহিস সালামকে বলতে শুনেছি:

ما ادعى أحد من الناس أنه جمع القرآن كله إلا كذاب وما جمعه وحفظه كما نزل إلا علي بن أبي طالب والأئمة من بعده.

“মিথ্যুক ব্যতীত কেউ দাবি করেনি যে, সে পূর্ণ কুরআন জমা করেছে, কুরআন যেভাবে নাযিল হয়েছে সেভাবে কেউ জমা করেনি, সংরক্ষণও করেনি একমাত্র আলি ইব্‌ন আবি তালেব ও তার পরবর্তী ইমামগণ ব্যতীত”

হে শীয়া, আল্লাহ তোমাকে ও আমাকে হিদায়েত দান করুন, এরূপ বিশ্বাস অর্থাৎ আহলে বায়েত ও তার অনুসারী শীয়া ব্যতীত কেউ কুরআন জমা ও সংরক্ষণ করেনি মিথ্যাচার, বাতিল ও ভ্রষ্টতা নয় কি! আল্লাহর নিকট পানাহ চাই, তোমাদের এ দাবির পরিণতি শোন।

১. তোমাদের এ দাবি প্রমাণ করে যে, যারা কুরআন হিফয ও সংরক্ষণ করার দাবি করে তারা মিথ্যাবাদী, যেমন উসমান, উবাই ইব্‌ন কাব, জায়েদ ইব্‌ন সাবেত ও আব্দুল্লাহ ইব্‌ন মাসউদ প্রমুখসহ হাজারো সাহাবি। তোমাদের এ দাবি আরো প্রমাণ করে যে, তারা ছিল অসৎ ও পাপাচারী, অথচ আহলে বায়েতের কেউ তা বলেনি। এ তো ইসলামের দুশমন ও প্রতিপক্ষের মুসলিমের মাঝে ফিতনার জন্ম দেয়া ও তাদের পরস্পরে বিভেদ সৃষ্টি করা বৈ কিছু নয়।

২. তোমাদের এ দাবি প্রমাণ করে যে, আহলে বাইতের অনুসারী ব্যতীত সাধারণ মুসলিমগণ গোমরাহ ও পথভ্রষ্ট। তারা কুরআনের কতক অংশের ওপর আমল করে ও কতক অংশের ওপর আমল করে না, কারণ উল্লেখিত দাবি মোতাবেক তারা সম্পূর্ণ কুরআন সংরক্ষণ করেনি, তাই পূর্ণ শরীয়তের ওপর আমলও তাদের পক্ষে সম্ভব নয়, আর যে কুরআনের কতক অংশের ওপর আমল করে ও কতক অংশের ওপর আমল করে না তার কুফরি ও পথভ্রষ্টতা সম্পর্কে কারো দ্বিমত নেই। কারণ তারা কুরআনের যে অংশের ওপর আমল করেনি তা হয়তো আকিদা, ইবাদত ও আহকাম সম্পর্কিত ছিল, অতএব তারা গোমরাহ!

জেনে রেখ তোমাদের এ বিশ্বাস মূলত আল্লাহকে মিথ্যা প্রমাণ করে, কারণ আল্লাহ তা'আলা বলেছেন:

﴿ إِنَّا نَحۡنُ نَزَّلۡنَا ٱلذِّكۡرَ وَإِنَّا لَهُۥ لَحَٰفِظُونَ ٩ ﴾ [الحجر: ٩] 

“নিশ্চয় আমি কুরআন নাযিল করেছি, আর আমিই তার হিফাযতকারী”। সূরা হিজর: (৯) আল্লাহকে মিথ্যা বলা কুফরি, কোন জাতীয় কুফরি?! আল্লাহকে মিথ্যারোপকারী মুসলিম দল থেকে খারিজ, ইসলামে তার কোন অংশ নেই।

দ্বিতীয়ত আহলে বাইত ব্যতীত অন্যান্য সাধারণ মুসলিম থেকে কুরআন গোপন করা কিভাবে তাদের জন্য বৈধ হল?! এ কি আল্লাহর রহমত সংকীর্ণ করা ও কুরআন আত্মসাতের শামিল নয়?! নিঃসন্দেহে আহলে বাইত এ নাপাক আকিদা থেকে মুক্ত। হে আল্লাহ, আমরা অবশ্যই জানি তোমার রাসূলের পরিবার/আহলে বাইত এসব মিথ্যা অপবাদ থেকে পবিত্র। হে আল্লাহ, যারা তাদের ওপর মিথ্যা রচনা করে, তাদের সম্পর্কে বানোয়াট কাহিনী তৈরি করে তাদের ওপর লানত কর।

৩. তোমাদের এ দাবি প্রমাণ করে যে, শীয়ারা একমাত্র আহলে হক ও হকের ওপর প্রতিষ্ঠিত, কারণ তাদের হাতে রয়েছে সম্পূর্ণ কিতাব, তারা আল্লাহর পূর্ণ শরীয়ত মোতাবেক আমল করে, তারা ব্যতীত সাধারণ মুসলিমগণ গোমরাহ, তারা কুরআনের অধিকাংশ অংশের ওপর ইমান ও তার হিদায়েত থেকে বঞ্চিত!!

হে শীয়া, এ ধরনের অসার কথা কোন বিবেকবান ব্যক্তির মুখ থেকে বের হতে পারে না, ইসলাম ও মুসলিমের সাথে সম্পৃক্ত কোন ব্যক্তি থেকে তো দূরে থাক। জেনে রেখ, যতক্ষণ কুরআন পরিপূর্ণ নাযিল ও তার ব্যাখ্যা সম্পূর্ণ হয়নি, যতক্ষণ মুসলিমদের অন্তর ও লিখনি তা সংরক্ষণ করিনি, যতক্ষণ কুরআনের সর্বব্যাপী প্রসার ঘটেনি, যতক্ষণ সাধারণ ও বিশেষ ব্যক্তিগণ সমানভাবে তা হিফাজত করেনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মৃত্যু হয়নি। কুরআন একত্রকরণ ও হিফাযত করার ক্ষেত্রে আহলে বাইত সাধারণ মুসলিমদের মত, এতে তাদের কোন বিশেষ বৈশিষ্ট্য নেই। অতএব কিভাবে বলা হয়: আহলে বাইত ব্যতীত কেউ কুরআন জমা ও হিফাজত করেনি, যে তার দাবি করবে সে মিথ্যাবাদী!!

তোমার কি ধারণা, যদি এ ব্যক্তিকে বলা হয়: আমাদেরকে সে কুরআন দেখাও, যা আহলে বাইতের অনুসারীগণ সংরক্ষণ করেছে, তার কয়েক কপি বা একটি কপি আমাদের সামনে পেশ কর, তখন তার অবস্থা কি হবে? সুবহাল্লাহ এ তো মারাত্মক অপবাদ ব্যতীত কিছু নয়!

 তৃতীয় বাস্তবতা

শীয়াদের আকিদা: “শুধু আহলে বাইত ও তার অনুসারীগণ নবীদের আলামত অর্জন করেছেন, যেমন পাথর ও লাঠি, সাধারণ মুসলিমগণ নয়”

দলিল: “আল-কাফি” গ্রন্থের লেখক কুলাইনি বলেছেন:

عن أبي بصير عن جعفر عليه السلام قال: خرج أمير المؤمنين عليه السلام في ليلة مظلمة وهو يقول: همهمة، همهمة، وليلة مظلمة، خرج عليكم الإمام عليه قميص آدم، وفي يده خاتم سليمان، وعصا موسى!!.

আবু বসির, জাফর আলাইহিস সালাম থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমিরুল মুমেনিন আলাইহিস সালাম এক অন্ধকার রাতে বের হন, তিনি বলতে ছিলেন: হামহামাহ, হামহামাহ [অর্থ: গুন্, গুন্] ও অন্ধকার রাত। তোমাদের ইমাম বের হয়েছেন, তার গায়ে রয়েছে আদমের কোর্তা, তার হাতে রয়েছে সুলাইমানের আংটি ও মুসার লাঠি”!। তিনি অন্যত্র বলেন:

عن أبي حمزة عن أبي عبد الله عليه السلام قال سمعته يقول ألواح موسى عندنا وعصا موسى عندنا، ونحن ورثة النبيين!!.

আবু হামযাহ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আবু আব্দুল্লাহ আলাইহিস সালামকে বলতে শুনেছি: “মুসার কিতাব আমাদের নিকট, মুসার লাঠি আমাদের নিকট এবং আমরা নবীদের ওয়ারিশ”!! দেখুন: “আল-কাফি” (খ.১), কিতাবুল হুজ্জাহ, (পৃ.২২৭)

হে শীয়া, এ বিশ্বাস তোমাকে কয়েকটি বিষয় স্বীকার করতে বাধ্য করে, যা একেবারেই ভ্রান্ত ও বাতিল, যদি বিবেকি হও তা থেকে তুমি নিজেকে মুক্ত ঘোষণা করতে পার না, বা তা অস্বীকার করার সুযোগ তোমার নেই, যেমন:

১. আলি রাদিয়াল্লাহু আনহুকে মিথ্যা সাব্যস্ত করা, কারণ তিনি বলেছেন: যখন তাকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি আপনাকে ও আহলে বাইতকে কোন বিষয়ে খাস করেছেন? তিনি বলেন: না, তবে আমার তলোয়ারের খাপে যা রয়েছে তা ব্যতীত, অতঃপর তিনি সেখান থেকে একটি সহিফা বের করেন, তাতে চারটি বিষয় লেখা ছিল, আহলে হাদিস যেমন বুখারি ও মুসলিম প্রমুখগণ তা উল্লেখ করেছেন ।

২. অথবা আলি রাদিয়াল্লাহু আনহু এ কথা আলি বলেননি মর্মে তার ওপর মিথ্যারোপ করা।

৩. প্রকৃতপক্ষে এ বিশ্বাস ধারণকারী নিজের সাথে হঠকারীকারী, বরং এটা তার বোকামি, নির্বুদ্ধিতা ও নিজের প্রতি অসম্মান বোধের অকাট্য প্রমাণ, কারণ যদি তাকে বলা হয়: কোথায় সে আঙটি, কোথায় সে লাঠি? তাহলে উত্তর প্রদানে হতভম্ব হয়ে যাবে সে, কখনো সে লাঠি বা আঙটি বের করতে পারবে না। এ থেকে প্রমাণ হয় ঘটনাটি আদ্যোপান্ত মিথ্যা রচনা। এখানে আরো প্রশ্ন ওঠে যে, বিষয়টি যদি এমনি হয় তাহলে আহলে বায়েত কেন শত্রুদের দমন ও নিঃশেষ করার জন্য সে লাঠি ও আঙটির ব্যবহার করে না, অথচ ইতিপূর্বে তারা অনেক কষ্ট ও দুর্ভোগের শিকার হয়েছে?!

৪. এসব আকিদার মূল উদ্দেশ্য শীয়াদের হিদায়েত ও সাধারণ মুসলিমদের গোমরাহি প্রমাণ করে শীয়া মাযহাব প্রতিষ্ঠা করা, কারণ মুসলিম উম্মাহ থেকে তার অস্তিত্ব একেবারে বিচ্ছিন্ন ও আলাদা। এভাবে ইসলাম ও মুসলিমদের ধ্বংসকামী ষড়যন্ত্রকারী শীয়া নেতৃবর্গ ও তাদের অনুসারীরা নিজেদের হীন আশা পূরণ করতে চায়। যদি এ বিশ্বাস দ্বারা শীয়াদের এটাই উদ্দেশ্য হয় তাহলে এটা খুব খারাপ উদ্দেশ্য, এ বিশ্বাস পোষণকারী খুব খারাপ, এ বিশ্বাসের প্রতি সন্তুষ্টি জ্ঞাপনকারীও খারাপ।

 চতুর্থ বাস্তবতা

শীয়াদের আকিদা: “আহলে বাইত ও তাদের অনুসারীগণ বিশেষ ইলম, নববী দর্শন ও ইলাহি জ্ঞানের অধিকারী, সাধারণ মুসলিমগণ নয়”

দলিল: “আল-কাফি” (খ.১), কিতাবুল হুজ্জাহত, (পৃ.১৩৮) এর লেখক কুলাইনি বলেন:

عن أبي بصير قال دخلت على أبي عبد الله عليه السلام فقلت جعلت فداك إن شيعتك يتحدثون أن رسول الله صلى الله عليه وسلم، علم عليا عليه السلام ألف باب من العلم يفتح منه ألف باب قال: فقال: يا أبا محمد علم رسول الله صلى الله عليه وسلم: عليا عليه السلام ألف باب يفتح له من كل باب ألف باب. قال: قلت: هذا بذاك، قال: ثم قال يا أبا محمد وإن عندنا الجامعة وما يدريك ما الجامعة ؟ قال: قلت: جعلت فداك وما الجامعة ؟ قال: صحيفة طولها سبعون ذراها بذراع النبي صلى الله عليه وسلم، وأملاه من فلق فيه، وخط علي بيمينه كل حلال وحرام وكل شيء يحتاج له الناس حتى الإرش والخدش. قال: قلتك هذا والله العلم ! قال: إنه لعلم وليس بذاك، ثم سكت ساعة، ثم قال: عندنا الجفر ما يدريكم ما الجفر ؟ قال: وعاء من أدم فيه علم النبيين والوصيين وعلم العلماء الذين مضوا من بني إسرائيل، قال: قلت: إن هذا العلم ! قال: إنه العلم وليس بذاك، ثم سكت ساعة، ثم قال: وإن عندنا لمصحف فاطمة عليها السلام،وما يدريهم ما مصحف فاطمة؟ قال: قلت: وما مصحف فاطمة ؟ قال: مصحف فيه مثل قرآنكم هذا ثلاث مرات ! والله مافيه من قرآنكم هذا حرف واحد ! قال: قلت: هذا والله العلم ! قال: وإن عندنا علم ما كان، وما هو كائن إلى أن تقم الساعة!!!!. انتهى بالحرف الواحد.

অর্থ: “আবু বসির থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি আবু আব্দুল্লাহর নিকট প্রবেশ করে তাকে জিজ্ঞাসা করি, আমি আপনার প্রতি উৎসর্গ, আপনার অনুসারীরা বলে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আলি আলাইহিস সালামকে ইলমের এক হাজার দরজা শিক্ষা দিয়েছেন, যার থেকে এক হাজার দরজা উন্মুক্ত হয়। তিনি বলেন: আবু আব্দুল্লাহ বললেন: হে আবু মুহাম্মদ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আলি আলাইহিস সালামকে এক হাজার দরজা শিক্ষা দিয়েছেন, যার প্রত্যেক দরজা থেকে এক হাজার দরজা উন্মুক্ত হয়। তিনি বলেন: আমি বললাম: এটা ঐটার মোকাবিলায়। [অর্থাৎ একহাজার থেকে একহাজার দরজার পরিবর্তে প্রত্যেক হাজার থেকে একহাজার দরজা উন্মুক্ত হয়। অনুবাদক] তিনি বলেন: অতঃপর বললেন: হে আবু মুহাম্মদ, নিশ্চয় আমাদের নিকট “আল-জামেয়াহ” রয়েছে, তুমি কি জান “আল-জামেয়াহ” কি? তিনি বলেন: আমি বললাম: আমি আপনার প্রতি উৎসর্গ “আল-জামেয়াহ” কি? তিনি বললেন: একটি সহিফা, যার দৈর্ঘ্য নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাতে ষাট হাত, তাতে বিদ্যমান খোদাইয়ে তিনি তা লিখিয়েছেন, আলি নিজ ডান হাতে প্রত্যেক হালাল ও হারাম এবং মানুষের প্রয়োজনীয় প্রত্যেক বস্তু তাতে লিপিবদ্ধ করেছেন, এমনকি হত্যা ও নখের আঁচড় এর বিনিময় পর্যন্ত। তিনি বলেন: আমি বললাম: আল্লাহর শপথ একেই বলে ইলম! তিনি বলেন: অবশ্যই তা ইলম, তবে সে রকম ইলম নয়। অতঃপর কিছুক্ষণ চুপ থাকলেন। অতঃপর বললেন: আমাদের নিকট “জাফর” রয়েছে, তুমি জান “জাফর” কি? তিনি বলেন: চামড়ার পাত্র, তাতে রয়েছে সকল নবী, ওসী ও বনি ইসরাইলের আলেমদের ইলম, যারা অতীত হয়েছে। তিনি বলেন: আমি বললাম: অবশ্যই একেই বলে ইলম! তিনি বলেন: নিশ্চয় ইহা ইলম, তবে সে রকম নয়। অতঃপর কিছুক্ষণ চুপ থাকলেন, অতঃপর বললেন: “আমাদের নিকট মাসহাফে ফাতেমা আলাইহাস সালাম রয়েছে, তারা কিভাবে জানবে মাসহাফে ফাতেমা কি? তিনি বলেন: আমি বললাম: মাসহাফে ফাতেমা কি? তিনি বলেন: তাতে তোমাদের কুরআনের তিনগুণ রয়েছে! আল্লাহর শপথ সেখানে তোমাদের কুরআনের একটি অক্ষরও নেই! তিনি বলেন: আমি বললাম: অবশ্য একেই বলে ইলম! তিনি বলেন: নিশ্চয় যা হয়েছে এবং কিয়ামত পর্যন্ত যা হবে আমাদের নিকট তার সব ইলম রয়েছে!!! হুবহু উল্লেখ শেষ করলাম।

বাতিল ও ভ্রান্ত এসব আকিদার পরিণতি নিন্মরূপ:

১. এ আকিদার মূলে রয়েছে আল্লাহর কিতাব কুরআন থেকে বিমুখ হওয়া, যা স্পষ্ট কুফরি।

২. এ থেকে প্রমাণ হয় আহলে বাইত বিশেষ ইলম ও জ্ঞানের অধিকারী, সাধারণ মুসলিম নয়। এ আকিদা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর খিয়ানতের অপবাদ আরোপ করে যে, তিনি আল্লাহর নির্দেশ মোতাবেক সবার নিকট ব্যাপকভাবে নবুওয়ত পৌঁছাননি! তার ওপর এ অপবাদ আরোপ করা কুফরি, এতে কারো সন্দেহ নেই।

৩. এ আকিদা পোষণ করে আলি রাদিয়াল্লাহু আনহু সম্পর্কে মিথ্যা রটানো হয়, কারণ তিনি বলেছেন: আমাদের আহলে বাইতকে রাসূলুল্লাহ কোন বিষয়ে খাস করেননি। আলি রাদিয়াল্লাহু আনহু সম্পর্কে মিথ্যা বলা অন্যদের সম্পর্কে মিথ্যা বলার ন্যায় হারাম।

৪. এ আকিদা পোষণ করে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর মিথ্যা রটানো হয়, যা কবিরা ও নিকৃষ্টতম পাপ, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:

((إن كذبا علي ليس ككذب على أحدكم من كذب علي متعمدا فل يلج النار)).

“আমার ওপর মিথ্যারোপ করা তোমাদের কারো ওপর মিথ্যারোপ করার ন্যায় নয়, আমার ওপর যে স্বেচ্ছায় মিথ্যা বলল সে যেন আগুনে প্রবেশ করে”

৫. এ থেকে ফাতেমা রাদিয়াল্লাহু আনহার ওপর মিথ্যারোপ করা হয় যে, তার স্বতন্ত্র কুরআন রয়েছে, যা মূল কুরআনের তিনগুণ, তাতে কুরআনের একটি হরফও নেই।

৬. এ বিশ্বাস পোষণকারী কখনো মুসলিম হতে পারে না, অথবা তাকে মুসলিমদের অন্তর্ভুক্ত জ্ঞান করা হালাল নয়, কারণ সে এমন জ্ঞান, দর্শন ও হিদায়েতের ওপর বাস করে, যেখানে মুসলিমদের কোন অংশ নেই।

৭. এ ধরনের অসারতা, স্পষ্ট বাতিল ও মিথ্যার নেসবত ইসলামের সাথে করা কখনো ঠিক নয়। ইসলাম একমাত্র আল্লাহর দীন, তিনি এ দীন ব্যতীত কোন দীন গ্রহণ করবেন না।

আল্লাহ তা'আলা বলেন:

﴿ وَمَن يَبۡتَغِ غَيۡرَ ٱلۡإِسۡلَٰمِ دِينٗا فَلَن يُقۡبَلَ مِنۡهُ وَهُوَ فِي ٱلۡأٓخِرَةِ مِنَ ٱلۡخَٰسِرِينَ ٨٥ ﴾ [ال عمران: ٨٥] 

“আর যে ইসলাম ছাড়া অন্য কোন দীন চায়, তবে তার কাছ থেকে কখনো তা গ্রহণ করা হবে না এবং সে আখেরাতে ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হবে”। সূরা আলে-ইমরান: (৮৫)

হে শীয়া, ইসলামের ওপর এসব মিথ্যা অপবাদ থেকে মুক্তির জন্য আস একসাথে উচ্চারণ করি: হে আল্লাহ যারা তোমার বান্দাদেরকে পথভ্রষ্ট, তোমার দীনকে ক্ষতিগ্রস্ত ও তোমার নবীর উম্মতকে বিভক্ত করার জন্য তোমার ওপর, তোমার রাসূল ও আহলে বায়েতের ওপর এসব মিথ্যা রচনা করেছে, তাদের থেকে আমরা পানাহ চাই।

 পঞ্চম বাস্তবতা

শীয়াদের বিশ্বাস: “মুসা কাজেম নিজেকে শীয়াদের মুক্তির জন্য বলি দিয়েছেন”!!!

“আল-কাফি” (খ.১), কিতাবুল হুজ্জাহ: (পৃ.২৬০) এর লেখক কুলাইনি এ বাস্তবতা বর্ণনা করেছেন এভাবে:

إن أبا الحسن الكاظم (وهو الإمام السابع من أئمة الشيعة الاثنى عشرية) قال: الله عز وجل، غضب على الشيعة فخيرني نفسي أو هم، فوقيتهم نفسي.

“আবু হাসান কাজেম (শীয়াদের বারো ইমামের সাত নাম্বার ইমাম), বলেন: আল্লাহ তা'আলা শীয়াদের ওপর গোস্বা করেছেন, অতঃপর আমাকে স্বাধীনতা দিয়েছেন আমাকে গ্রহণ করব অথবা তাদেরকে গ্রহণ করব, ফলে আমি নিজেকে বিসর্জন দিয়ে তাদের রক্ষা করেছি”

হে শীয়া, এখন চিন্তা কর এ ঘটনার পরিণাম কি, কারণ এর ওপর ইমান রাখা ও তার অর্থ বিশ্বাস করা তোমার ওপর ফরয যে, মুসা কাজেম রহ. নিজের অনুসারীদের মুক্তির জন্য নিজেকে বলি দানে রাজি হয়েছেন যেন আল্লাহ শীয়াদের ক্ষমা করেন ও বিনা হিসেবে তাদেরকে জান্নাতে দাখিল করেন।

হে শীয়া, -আল্লাহ তোমাকে ও আমাকে সঠিক আকিদা পোষণ করা ও তার সন্তুষ্টি মোতাবেক কথা-কর্ম সম্পাদন করার তাওফিক দিন- তুমি এ মিথ্যায় চিন্তা কর, আমি তা মিথ্যা ব্যতীত কিছু ভাবছি না, এতে সত্যের লেশমাত্র নেই, বরং তা বাস্তবতা ও সত্য থেকে বহু দূরে। তুমি চিন্তা কর, তোমার বুঝে আসবে। কারণ এ আকিদার ফলে তোমাকে কয়েকটি বিষয় অবশ্যই স্বীকার করতে হবে, যার একটির সাথে তোমার সম্পর্ক হোক তুমি তা পছন্দ কর না, যদি তুমি রব হিসেবে আল্লাহকে, দীন হিসেবে ইসলামকে ও নবী হিসেবে মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে গ্রহণ কর। এবার তা শোন:

১. এ আকিদার কারণে আল্লাহর ওপর মিথ্যারোপ করা জরুরী হয় যে, তিনি মুসা কাজেমের নিকট ওহী প্রেরণ করেছেন। এ মর্মে যে তিনি শীয়াদের ওপর চটেছেন, অতঃপর তিনি তাকে অথবা তার অনুসারীদের গ্রহণ করার ইখতিয়ার দিয়েছেন, ফলে তিনি তাদের মুক্তির জন্য নিজেকে বিসর্জন দিয়েছেন। সন্দেহ নেই এটা আল্লাহর ওপর নিরেট মিথ্যা রচনা, আল্লাহ তা'আলা বলেন:

﴿وَمَنۡ أَظۡلَمُ مِمَّنِ ٱفۡتَرَىٰ عَلَى ٱللَّهِ كَذِبًا ٢١﴾ [الانعام: ٢١] 

“আর তার চেয়ে বড় যালিম আর কে যে আল্লাহর ওপর মিথ্যা রটনা করে”। সূরা আল-আনআম: (২১)

২. এ আকিদার কারণে মূসা কাজেম রহ. এর ওপর মিথ্যা রচনা করা হয়, কারণ তিনি নবী বা রাসূল নন, অথচ তার কথা তাই প্রমাণ করে। যেমন সে বলেছে: “আল্লাহ মুসা কাজেমকে সংবাদ দিয়েছেন যে তিনি শীয়াদের ওপর নারাজ! অতঃপর তিনি তাকে নিজের নফস ও শীয়াদের মাঝে ইখতিয়ার দিয়েছেন, আর মুসা কাজেম তাদের মুক্তির জন্য নিজেকে বিসর্জন দানে রাজি হয়েছেন। এ কথার অর্থ স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে যে, মুসা কাজেম নবী ছিলেন!!! অথচ সকল মুসলিম এ ব্যাপারে একমত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পর যে কেউ কারো সম্পর্কে নবুওয়তের বিশ্বাস করবে সে কাফের। কারণ এটা সরাসরি আল্লাহর বাণীর সাথে সংঘর্ষিক, তিনি বলেন:

﴿مَّا كَانَ مُحَمَّدٌ أَبَآ أَحَدٖ مِّن رِّجَالِكُمۡ وَلَٰكِن رَّسُولَ ٱللَّهِ وَخَاتَمَ ٱلنَّبِيِّ‍ۧنَۗ ٤٠﴾ [الاحزاب : ٤٠] 

“মুহাম্মদ তোমাদের কোন পুরুষের পিতা নয়, তবে আল্লাহর রাসূল ও সর্বশেষ নবী”। সূরা আহযাব: (৪০)

৪. শীয়াদের এ আকিদা খ্রীস্টানদের আকিদার ন্যায়, যেমন খ্রীস্টানরা বিশ্বাস করে ঈসা আলাইহিস সালাম মানব জাতির মুক্তির জন্য নিজেকে উৎসর্গ করেছেন। তিনি মানব জাতিকে আল্লাহর গোস্বা ও শাস্তি থেকে সুরক্ষা দেয়া এবং তাদের পাপের  প্রায়শ্চিত্ত হিসেবে নিজেকে ক্রুশে চড়াতে রাজি হয়েছেন, অনুরূপ শীয়ারা বিশ্বাস করে যে, মূসা কাজেমকে তার রব দু’টির একটি বেছে নেয়ার ইখতিয়ার দিয়েছেন: তার অনুসারীদের ধ্বংস অথবা তার নিজের বিসর্জন, ফলে তিনি নিজেকে বিসর্জন দিয়ে শীয়াদেরকে আল্লাহর গোস্বা ও শাস্তি থেকে রক্ষা করেছেন। অতএব শীয়া ও খ্রীস্টানদের আকিদা এক, খ্রীস্টানরা কুরআনের ভাষায় কাফের, শীয়ারা কি ইমান দাবি করে কুফরি গ্রহণে সম্মত?! জনৈক কবি বলেছেন:

قد هيؤوك لأمر لو فطنت له ********** فاربأ بنفسك أن ترعى مع الهمل

[তোমাকে প্রস্তুত করেছে এক বস্তুর জন্য যদি তা বুঝ,

নিজেকে হিফাজত কর, যেন অশ্রুর সাথে ভেসে না যাও।]

হে শীয়া তুমি নিজেকে হিফাজত কর, এসব বাতিল ও অসারতা থেকে মুক্ত হও, তোমার সামনে রয়েছে আল্লাহ ও মুমিনদের পথ।

 পঞ্চম বাস্তবতা

শীয়াদের বিশ্বাস: “শীয়াদের ইমামগণ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মর্যাদায়: শুধু নারী ব্যতীত নিষ্পাপ, ওহী লাভ ও আনুগত্যের হকদার ইত্যাদি বিষয়ে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্য নারীদের যে সংখ্যা হালাল ছিল তাদের জন্য তা নয়”

এ আকিদা “আল-কাফি” গ্রন্থের প্রণেতা কুলাইনি দু’টি বর্ণনা দ্বারা প্রমাণ করেছেন:

এক. কুলাইনি “আল-কাফি” (খ.১), কিতাবুল হুজ্জাহ, (পৃ.২২৯)-তে তিনি বলেন:

كان المفضل عند أبي عبد الله فقال له: جعلت فداك، أيفرض الله طاعة عبد على العباد ويحجب عنه خبر السماء ؟ فقال له أبو عبد الله -الإمام- لا، الله أكرم وأرحم وأرأف بعباده، من أن يفرض طاعة عبد على العباد ثــم يحجب عنه خبر السماء صباحا ومساء.

“মুফাদ্দাল আবু আব্দুল্লাহর নিকট উপস্থিত ছিল, তিনি তাকে বলেন: আমি আপনার ওপর উৎসর্গ, আল্লাহ কি বান্দাদের ওপর নির্দিষ্ট বান্দার আনুগত্য ফরয করে তার থেকে আসমানের সংবাদ আদান-প্রদান বন্ধ করে দেন? ইমাম আবু আব্দুল্লাহ তাকে বলেন: না, বান্দার ওপর মেহেরবান, দয়াশীল ও করুণাময় আল্লাহ এর থেকে ঊর্ধ্বে যে, তিনি বান্দাদের ওপর নির্দিষ্ট বান্দার আনুগত্য ফরয করে তার থেকে সকাল-সন্ধ্যা আসমানের সংবাদ আদান-প্রদান বন্ধ করে দিবেন”

এসব বর্ণনা থেকে প্রমাণ হয় যে, (শীয়াদের) ইমামদের আনুগত্য আল্লাহ মানুষের ওপর ফরয করে দিয়েছেন, যেমন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আনুগত্য ফরয করে দিয়েছেন। তাদের প্রতি ওহী প্রেরণ করা হয়, সকাল-সন্ধ্যা তারা আসমানের সংবাদ গ্রহণ করেন, অতএব এ বিবেচনায় তারা নবী ও রাসূলদের বরাবর।

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পরবর্তী ওহীর দাবিদার কোন নবীর আকিদা পোষণ করা ইসলাম ত্যাগ করার শামিল, সকল মুসলিমের নিকট কুফরি। সুবহানাল্লাহ একজন শীয়া কিভাবে এমন আকিদা পোষণ করতে পারে যার কারণে মানুষ ইসলাম থেকে খারিজ হয়ে যায়, অথচ সে ইমান ও ইসলামের নামেই এসব ভ্রান্ত আকিদা গ্রহণ করেছে!

হে আল্লাহ তুমি এ বাতিল ফেরকার প্রথম অপরাধী হাতকে বিচ্ছিন্ন কর, যেরূপ সে মানুষকে তোমার থেকে বিচ্ছিন্ন করেছে।

দ্বিতীয় বর্ণনা:  “আল-কাফি” (খ.১), কিতাবুল হুজ্জাহ, (পৃ.২২৯)-তে কুলাইনি বলেন:

عن محمد بن سالم قال سمعت أبا عبد الله عليه السلام يقول: الأئمة بمنزلة رسول الله صلى الله عليه وسلم، إلا أنهم ليسوا بأنبياء، ولا يحل لهم من النساء ما يحل للنبي، فأما ما خلا ذلك فهم بمنزلة رسول الله صلى الله عليه وسلم.

মুহাম্মদ ইব্‌ন সালেম থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি আবু আব্দুল্লাহকে বলতে শুনেছি: ইমামগণ রাসূলের মর্তবায়, তবে তারা নবী নয়, অনুরূপ নবীর জন্য যত নারী হালাল তাদের জন্য তা হালাল নয়। এ ছাড়া অন্যান্য বিষয়ে তারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সমান।

এসব বর্ণনায় যদিও কিছু বৈপরীত্য রয়েছে, তবে পূর্বের ন্যায় এ বর্ণনাতেও ইমামগণ নিষ্পাপ, তাদের আনুগত্য করা ফরয এবং তাদের প্রতি ওহী প্রেরণ করা হয় ইত্যাদি বিষয় প্রমাণিত হয়। নারী ব্যতীত অন্যসব বিষয়ে ইমামগণ রাসূলের মর্তবায় এ কথায় প্রমাণ করে যে, তারা নিষ্পাপ, তাদের আনুগত্য করা ওয়াজিব, তারা সেসব গুণাগুণ ও বৈশিষ্ট্যের অধিকারী যা নবীদের রয়েছে। এ আকিদা ও মিথ্যা রচনার মূল উদ্দেশ্যে হচ্ছে শীয়া সম্প্রদায়কে ইসলাম ও মুসলিম সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন করা এবং ইসলাম ও মুসলিম ধ্বংস করা। কারণ শীয়া সম্প্রদায়ের নিকট যেহেতু মাসহাফে ফাতেমা রয়েছে যা কুরআনের চেয়ে শ্রেষ্ঠ, আরো রয়েছে জাফর, আল-জামেয়াহ ও পূর্ববর্তী নবীদের ইলম, নিষ্পাপ ইমামদের ওহী যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের রিসালাতের সমান, শুধু নারীর বিষয় ব্যতীত! উল্লেখ্য শীয়ারা অন্যান্য ধর্ম থেকে যে পরিমাণ আকিদা ও আদর্শ গ্রহণ করেছে তার তুলনায় ইসলাম থেকে গ্রহণ করা আকিদা ও আদর্শের পরিমাণ খুব সামান্য, যেরূপ এখানে কতগুলো কুফরি আকিদার পাশে ইসলাম থেকে মাত্র একটি বিষয় তথা নারী বিয়ে করার বিধান গ্রহণ করেছে! আঁটার খামির থেকে চুল বের করার ন্যায় তারা ইসলাম থেকে খুব সামান্যই গ্রহণ করে!!!

আল্লাহ ধ্বংস করুন ষড়যন্ত্রকারীদের, যারা মুসলিম উম্মাহ থেকে একটি অংশকে বিচ্ছিন্ন করেছে ইসলামের নামে, নবী পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন করেছে আহলে বায়েতের অনুসারী বলে।

 সপ্তম বাস্তবতা:

শীয়াদের বিশ্বাস: “রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মৃত্যুর পর আহলে বাইত ও অল্প সংখ্যক সাহাবি যেমন সালমান ফারসি, আম্মার ইব্‌ন ইয়াসির ও বেলাল প্রমুখগণ ব্যতীত সকল সাহাবি কুফরিতে ফিরে যান”

শীয়াদের প্রায় সকল পণ্ডিত বিশ্বাস করে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মৃত্যুর পর আহলে বাইত ও অল্প সংখ্যক সাহাবি যেমন সালমান ফারসি, আম্মার ইব্‌ন ইয়াসির ও বেলাল প্রমুখগণ ব্যতীত সকল সাহাবি কাফের হয়ে যান। ছোট-বড় প্রত্যেক শীয়া লেখক তাদের গ্রন্থ ও লিখনিতে কমবেশি এ বিষয়টি উল্লেখ করেছেন, সবাই এর ঘোষণা দিয়েছেন, হয়তো তাকিয়ার আশ্রয়ে কেউ তা গোপন করেছেন, কারণ তাকিয়া তাদের নিকট ওয়াজিব।

এ বাস্তবতার দলিল হিসেবে আমরা নিম্নের প্রমাণসমূহ পেশ করছি:

 এক. ‌ “আল-কাফি” গ্রন্থের প্রণেতা কুলাইনি নিজ রচনা “রাওদাতুল কাফি”, (পৃ.২০২)-তে বলেন:

عن حنان عن أبيه عن أبي جعفر قال: هم المقداد، وسلمان، وأبو ذر كما جاء في تفسير الصافي - والذي هو من أشهر وأجل تفاسير الشيعة وأكثرها اعتبارا - روايات كثيرة تؤكد هذا المعتقد وهو أن أصحاب رسول الله قد ارتدوا بعد وفاته إلا آل البيت ونفرا قليلا كسلمان وعمار وبلال رضى الله تعالى عنهم.

হানান থেকে বর্ণিত, তিনি তার পিতা থেকে, তিনি আবু জাফর থেকে বর্ণনা করেন: তারা হচ্ছে [অর্থাৎ যারা নবীর মৃত্যুর পর কাফের হয়নি] মিকদাদ, সালমান, আবু যর যেমন “তাফসিরে সাফি” গ্রন্থে রয়েছে। “তাফসির সাফি” শীয়াদের নিকট প্রসিদ্ধ ও সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য তাফসির। এ ছাড়া আরো বর্ণনা রয়েছে, যা থেকে প্রমাণিত হয় যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মৃত্যুর পর তার সাথীগণ মুরতাদ হয়ে গিয়েছিল, অর্থাৎ ইসলাম ত্যাগ করে ছিলেন শুধু আহলে বায়েত ও অল্প সংখ্যক সাহাবি ব্যতীত যেমন সালমান ফারসি, আম্মার ইব্‌ন ইয়াসির ও বেলাল রাদিয়াল্লাহু আনহুম প্রমুখগণ।

২. আবু বকর ও ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহুমের কুফরির বিষয়টি তাদের বই-পুস্তক ও লিখনিতে বিশেষ গুরুত্বসহ উল্লেখ করা হয়, যেমন কুলাইনির কিতাব “রাওদাতুল কাফি” (পৃ.২০)-তে রয়েছে:

سألت أبا جعفر عن الشيخين فقال: فارقا الدنيا ولم يتوبا، ولم يتذكرا ما صنعا بأمير المؤمنين فعليهما لعنة الله والملائكة والناس أجمعين.!!!

আমি আবু জাফরকে শায়খাইন (আবু বকর ও ওমর) সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছি, তিনি বলেন: তারা দুনিয়া ত্যাগ করেছে কিন্তু তওবা করেনি, আমিরুল মুমেনিন (আলি রা.) এর সাথে তারা কি আচরণ করেছে সে কথা স্মরণ করেনি, তাদের ওপর আল্লাহ, ফেরেশতা ও সকল মানুষের লানত”!!!

৩. কুলাইনি “রাওদাতুল কাফি” গ্রন্থের (১০৭নং) পৃষ্ঠায় বলেন:

تسألني عن أبي بكر وعمر ؟ فلعمري لقد نافقا وردا على الله كلامه وهزئا برسوله، وهما الكافران عليهما لعنة الله والملائكة والناس أجمعين. !!!  

“তোমরা আমাকে আবু বকর ও ওমর সম্পর্কে জিজ্ঞাসা কর? আমার বয়সের কসম তারা উভয়ে নেফাকি করেছে, আল্লাহর কালাম আল্লাহর প্রতি ছুড়ে মেরেছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে উপহাস করেছে। তিনি বলেন: তারা উভয়ে কাফের, তাদের ওপর আল্লাহ, ফেরেশতা ও মানব জাতির লানত!!!

হে শীয়া, তোমার বিবেক সমর্থন করে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথীগণ তার মৃত্যুর পর কাফের হয়ে গিয়েছিল? তুমি জান না তারাই ছিল তার সাথী, তার দীনের সাহায্যকারী ও তার আনিত শরীয়তের ধারক-বাহক! তুমি জান না আল্লাহ তা'আলা নিজ কিতাব পবিত্র কুরআনে তাদের ওপর সন্তুষ্টির ঘোষণা দিয়েছেন, তার নবীর ভাষায় তাদেরকে জান্নাতের সুসংবাদ প্রদান করেছেন! তুমি জান না তাদের দ্বারা আল্লাহ ইসলামের সুরক্ষা ও সম্মান বৃদ্ধি করেছেন, কিয়ামত পর্যন্ত তাদের প্রশংসাই মানুষের মুখে মুখে অনুরণিত হবে!

হে শীয়া আমাকে বল, রাসূলের সাহাবিদের কাফের বলা, তাদের ওপর লানত করা, তাদের থেকে সম্পর্ক ছিন্ন করার পশ্চাতে কোন ষড়যন্ত্র নেই?!

হে শীয়া, নিশ্চয় এর পশ্চাতে গভীর ষড়যন্ত্র কাজ করছে, আর তা হচ্ছে ইসলাম ধ্বংস করা এবং ইসলামের দুশমন ইহুদী, অগ্নিপূজক ও প্রত্যেক মুশরিক-মূর্তিপূজকদের পক্ষাবলম্বন করা!!

নিশ্চয় এর অন্তরালে শীয়াদের মূল উদ্দেশ্য ইসলাম ও তার রোকনসমূহ সমূলে ধ্বংস করা, ইসলাম ও তার নিদর্শনসমূহ নিঃশেষ করা এবং পারস্যের জমিতে অগ্নিপূজক কিসরার রাজত্ব পুনরায় প্রতিষ্ঠা করা। ইনশাআল্লাহ কখনো তা সম্ভব হবে না। এখানে স্মরণ করিয়ে দেই: মুসলিমদের দ্বিতীয় খলিফা ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহুকে পারস্যের (ইরানি) অগ্নিপূজক গোলাম আবু লুলু শহীদ করেছিল।

মুসলিম দেশে দেশে ফিতনার সূচনা করে ইসলাম ও মুসলিম ধ্বংসের ষড়যন্ত্রকারী ইহুদী আব্দুল্লাহ ইব্‌ন সাবা মুসলিমদের তৃতীয় খলিফা উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহুর বিরুদ্ধে ফিতনা আরম্ভ করেছিল, সে পাপিষ্ঠ ঔরসেই জন্ম নেয় শীয়া শয়তান ও তার অনুসারীরা, তারা ইসলাম ও মুসলিমের বিরুদ্ধে উন্মুক্ত তলোয়ারের ন্যায় “ইমামত ও বিলায়েত” নামে দু’টি অযৌক্তিক ও বিদআতি দাবি উত্থাপন করে। বিলায়েতের দাবিতে তারা সাহাবিদের কাফের বলে, লানত করে, মুসলিম উম্মাহ যাদেরকে বলে রাদিয়াল্লাহু আনহুম।

তারা ইমামতের দাবিতে মুসলিম খিলাফতের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে, মুসলিমদের মাঝে যুদ্ধ উসকে দেয়, তাদের রক্তপাত ঘটায়, বাড়ি-ঘর ধ্বংস করে মূলত ইসলামকে চূর্ণবিচূর্ণ করা ও তার বিধানে বিকৃতি সৃষ্টির লক্ষ্যেই। ইসলামের অন্যান্য দুশমনদের মত শীয়ারা মুসলিম উম্মাহর দুশমন। অন্যান্য কাফেরদের ন্যায় শীয়ারা ইসলাম ও মুসলিমদের প্রতিপক্ষ, বরং তার চেয়ে অধিক।

শীয়া তুমি জেনে রাখ, এ মূলনীতির ওপরই শীয়া আকিদার ভিত্তি ও শীয়া মাযহাবের পত্তন, তাই ইসলাম ধর্মের বিপরীত শীয়া একটি আলাদা ধর্ম, যার রয়েছে স্বতন্ত্র বিশ্বাস, মূলনীতি, কিতাব, হাদিস এবং দর্শন ও বিদ্যা, নমুনা স্বরূপ পূর্বে কতক উল্লেখ করা হয়েছে, যা সম্পূর্ণ ইসলামী আকিদা, বিশ্বাস, কুরআন ও হাদিসের বিপরীত।

হে শীয়া, তোমার অন্তরে যদি সন্দেহের সৃষ্টি হয় শীয়া ধর্ম ত্যাগ কর, চিন্তা কর যদি তোমার কোন অসৎ উদ্দেশ্য না থাকে, কারণ শীয়াদের বিলায়েতের মূল উদ্দেশ্য মুসলিমদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করা, ফিতনার বীজ বপন করা এবং তাদের মাঝে শত্রুতা ও ঝগড়া উসকে দেয়া।

আলে সুন্নাহ ওয়াল জামাতই প্রকৃত মুসলিম, মুসলিম শব্দ তাদের ওপরই যথাযথ প্রয়োগ হয়। তাদের মধ্যে এমন কেউ নেই যে রাসূলের পরিবারের কোন সদস্যকে অপছন্দ করে, তাহলে কেন শীয়ারা বিলায়েত নাম ধারণ করে, একে আসল উদ্দেশ্য ও মূল লক্ষ্য স্থির করেছে! কেন তারা এ জন্য মুসলিমদের সাথে শত্রুতা পোষণ করে, বরং তাদেরকে কাফের বলে, তাদের ওপর লানত করে, যেমন পূর্বে উল্লেখ করেছি, কেন?!

অনুরূপ ইমামতের বিষয়টি: ইসলাম কর্তৃক মুসলিমদের এ স্বাধীনতা দেয়া যে, যার মধ্যে ইমামত ও নেতৃত্বের যোগ্যতা রয়েছে তাকেই তারা ইমামতের জন্য গ্রহণ করবে, যে তাদেরকে তাদের রবের শরীয়ত ও নবীর আদর্শ মোতাবেক পরিচালনা করবে, এ স্বাধীনতা কি তামাশা বা উপহাস! কিন্তু শীয়ারা বলে: না, না, বরং মুসলিমদের নেতা হবেন ওসী, তার সম্পর্কে নস তথা কুরআন ও হাদিসের সরাসরি নির্দেশ থাকা জরুরী, তার নিষ্পাপ হওয়া, ওহী লাভ করাও জরুরী। অদ্ভুত কথা মুসলিমগণ এমন ইমাম কোথায় পাবে?! এ জন্যই কি শীয়ারা মুসলিম থেকে আলাদা, মুসলিমদেরকে লানত করে, তাদের সাথে শত্রুতা পোষণ করে!

হে শীয়া, তুমি কেন নিজের ওপর রহম কর না, কেন তুমি নিজেকে এসব বাতিল-ভ্রান্ত আকিদা থেকে পবিত্র কর না, কেন নিজেকে এ অন্ধকার মাযহাব থেকে মুক্ত কর না!!

হে শীয়া জেনে রেখ, তুমি তোমার নিজের ও পরিবারের মুক্তির ব্যাপারে দায়িত্বশীল, অতএব তুমি নিজেকে ও তোমার পরিবারকে আল্লাহর শাস্তি থেকে বাঁচানোর চেষ্টা কর। জেনে রেখ সঠিক ইমান ও নেক আমল ব্যতীত তা কখনো সম্ভব নয়, যা তুমি আল্লাহর কিতাব ও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নত ব্যতীত কোথাও পাবে না। আমি নিশ্চিত তুমি শীয়া মাযহাবের অন্ধকার গণ্ডিরে আবদ্ধ, তোমার পক্ষে সম্ভব নয় সঠিক ইমান ও সঠিক আমল জানা, যতক্ষণ না তুমি পলায়ন করে আহলে সুন্নাহ ওয়াল জামাতের পরিবেশে প্রবেশ কর, সেখানে তুমি পাবে আল্লাহর কিতাব পরিচ্ছন্ন ও অপব্যাখ্যা মুক্ত, যা শীয়ারা মানুষকে গোমরাহ ও পথভ্রষ্ট করার জন্য সময়ে সময়ে কুরআন ও হাদিসে অনুপ্রবেশ ঘটিয়েছে।

তুমি আহলে সুন্নাহ ওয়াল জামাতের নিকট পাবে সুন্নতে নববী  অপব্যাখ্যা ও বানোয়াট কাহিনী মুক্ত। আরো পাবে তুমি সঠিক ইমান, ইসলামি আকিদা ও সঠিক আমলের সন্ধান, যা আল্লাহ তার বান্দাদের জন্য অনুমোদন করেছেন, যেন তারা নিজেদের পবিত্র করে সফলতা ও কামিয়াবি অর্জনে সক্ষম হয়। হে শীয়া তুমি আল্লাহর কিতাব ও সুন্নতের জন্য হিজরত কর, তুমি নিশ্চয় অনেক প্রশস্ততা ও সচ্ছলতা পাবে আল্লাহর জমিনে।

জেনে রেখ, আমি তোমার থেকে কোন আশায় এ উপদেশ দিচ্ছি না, না তুমি ছাড়া কারো থেকে কিছুর আশায়; না তোমার ভয়ে, না তুমি ছাড়া কোন মানুষের ভয়ে; কখনোই না, বরং এ হচ্ছে ইসলামী ভ্রাতৃত্ব ও তোমার জন্য হিতকামনা। কারণ দীন হচ্ছে আল্লাহ, তার রাসূল, মুসলিমদের নেতা ও জনসাধারণের জন্য হিতকামনা করা। এ প্রেরণাই আমাকে উদ্বুদ্ধ করেছে তোমাকে উদ্দেশ্য করে এ উপদেশ লেখার জন্য, হয়ত আল্লাহ তোমার অন্তর খুলে দিবে, তুমি দুনিয়া ও আখেরাতের সফলতা অর্জনের তাওফিক লাভ করবে।

দুরূদ ও সালাম আমাদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর, সকল প্রশংসা আল্লাহ তা'আলার জন্য।

সমাপ্ত