রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সালাত আদায় পদ্ধতি ()

 

|

 নবী [ﷺ‬]-এর সালাত আদায়ের পদ্ধতি

[ بنغالي – Bengali – বাংলা ]

আব্দুল আযীয ইবন  আব্দুল্লাহ ইবন বায

—™

অনুবাদ: আব্দুন নূর ইবন আব্দুল জব্বার

সম্পাদনা: ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া

 ভূমিকা

الحمد لله وحده والصلاة والسلام على عبده ورسوله محمد وآله وصحبه.

যাবতীয় প্রশংসা একমাত্র আল্লাহর জন্য এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর বান্দা ও তাঁর রাসূল মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, তাঁর পরিবার-পরিজন এবং সাহাবীগণের প্রতি।

আমি প্রত্যেক মুসলিম নারী ও পুরুষের উদ্দেশ্যে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সালাত আদায়ের পদ্ধতি সম্পর্কে সংক্ষিপ্তাকারে বর্ণনা করতে ইচ্ছা করছি। এর উদ্দেশ্য হলো যে, যারা পুস্তিকাটি পাঠ করবেন তারা যেন প্রত্যেকেই সালাত পড়ার বিষয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অনুসরণ করতে পারেন। এ সম্পর্কে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,

»صَلُّوْا كَمَا رَأَيْتُمُوْنِيْ أُصَلِّيْ »

“তোমরা সেভাবে সালাত আদায় কর, যেভাবে আমাকে সালাত আদায় করতে দেখ।”[1]

 পাঠকের উদ্দেশ্যে (নিম্নে) তা বর্ণনা করা হলো: [সুন্দররূপে অযু করা]

১. সুন্দর ও পরিপূর্ণভাবে অযু করবে: আল্লাহ তা‘আলা কুরআনে যেভাবে অযু করার নির্দেশ প্রদান করেছেন সেভাবে অযু করাই হলো পরিপূর্ণ অযু। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলা এ সম্পর্কে বলেন,

﴿يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُوٓاْ إِذَا قُمۡتُمۡ إِلَى ٱلصَّلَوٰةِ فَٱغۡسِلُواْ وُجُوهَكُمۡ وَأَيۡدِيَكُمۡ إِلَى ٱلۡمَرَافِقِ وَٱمۡسَحُواْ بِرُءُوسِكُمۡ وَأَرۡجُلَكُمۡ إِلَى ٱلۡكَعۡبَيۡنِ﴾ [المائ‍دة: ٦]

“হে মুমিনগণ! যখন তোমরা সালাতের উদ্দেশ্যে দণ্ডায়মান হও তখন (সালাতের পূর্বে) তোমাদের মুখমণ্ডল ধৌত কর এবং হাতগুলোকে কনুই পর্যন্ত ধুয়ে নাও, আর মাথা মাসেহ কর এবং পাগুলোকে টাখনু পর্যন্ত ধুয়ে ফেল।” [সূরা আল-মায়েদাহ, আয়াত: ৬] এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী হলো:

»لاَ تُقْبَلُ صَلاَةٌ بِغِيْرِ طَهُوْرٍ»

“পবিত্রতা ব্যতীত সালাত কবুল করা হয় না।”[2]

তাছাড়া নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক ব্যক্তিকে সালাতে ভুল করার কারণে বললেন:

«إذَا قُمْتَ إِلىَ الصَّلاَةِ فَأَسْبِغِ الْوُضُوْءَ»

“তুমি যখন সালাতে দাঁড়াবে (সালাতের পূর্বে) উত্তমরূপে অযু করবে।”[3]

 [কিবলামূখী হওয়া]

২. মুসল্লি বা সালাত আদায়কারী ব্যক্তি কিবলামুখী হবে: আর কিবলা হচ্ছে কা‘বা। যেখানেই থাকুক না কেন, সারা শরীর কিবলামূখী করবে। আর মনে মনে ফরয কিংবা নফল সালাত যা পড়ার ইচ্ছা করেছে সে সালাতে দৃঢ় ইচ্ছা করবে। তবে মুখে নিয়্যত উচ্চারণ করবে না। কেননা শরী‘আতে মুখে নিয়ত উচ্চারণ করার বৈধতা নেই। কারণ, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কিংবা সাহাবীগণ মুখে উচ্চারণ করে নিয়্যত করেন নি।

ইমাম কিংবা একাকী সালাত আদায়কারী সামনে (সুতরা) নিশান (চিহ্ন) দাঁড় করিয়ে এর দিকে সালাত পড়বে।

আর কিবলামূখী হওয়া সালাতের জন্য শর্ত। তবে কতিপয় মাসআলা এর ব্যতিক্রম, যার বিশদ বর্ণনা আলেমগণের কিতাবে রয়েছে।

 [তাকবীরে তাহরীমা ও তাকবীরের সময় হাত উঠানো]

৩. আল্লাহু আকবার বলে তাকবীরে তাহরীমা দিয়ে সালাতে দাঁড়াবে এবং দৃষ্টিকে সাজদার স্থানে নিবদ্ধ রাখবে।

৪. তাকবীরে তাহরীমার সময় উভয় হাতকে কাঁধ অথবা কানের লতি বরাবর উঠাবে।

৫. এরপর তার দু’হাতকে বুকের উপর রাখবে। ডান হাতকে বাম হাতের উপর রাখবে। কারণ এভাবে রাখাই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে সাব্যস্ত হয়েছে।

 [প্রারম্ভিক দো‘আ বা সানা পাঠ]

৬. সুন্নাত হচ্ছে দো‘আ ইস্তেফতাহ [সানা] পাঠ করা। আর তা হচ্ছে:

«اَللَّهُمَّ بَاعِدْ بَيْنِيْ وَبَيْنَ خَطَاياَيَ كَمَا بَاعَدتَّ بَيْنَ الْمَشْرِقِ وَالْمَغْرِبِ. اَللَّهُمَّ نَقِّنِيْ مِنْ خَطَايَايَ كَمَا يُنَقَّى الثَّوْبُ الْأَبْيَضُ مِنَ الدَّنَسِ. اَللَّهُمَّ اغْسِلْنِيْ مِنْ خَطَايَايَ بِالْمَاءِ وَالثَّلْجِ وَالْبَرْدِ «

উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা বা-‘ইদ বাইনী ওয়া বাইনা খাতাইয়ায়া, কামা বা‘আদ্তা বাইনাল মাশরিক্বী ওয়াল মাগরিবি, আল্লাহুম্মা নাক্কিনী মিন খাতাইয়ায়া কামা ইউনাক্কাছ ছাওবুল আবইয়াদু মিনাদ্দানাসি, আল্লাহুম্মাগছিলনী মিন খাতাইয়ায়া বিল মায়ি, ওয়াছ্ছালজি, ওয়াল বারাদি।

“হে আল্লাহ! তুমি আমাকে আমার পাপগুলো থেকে এত দূরে রাখ যেমন, পূর্ব ও পশ্চিমকে পরস্পরকে পরস্পর থেকে দূরে রেখেছ। হে আল্লাহ! তুমি আমাকে আমার পাপ থেকে এমনভাবে পরিষ্কার করে দাও, যেমন সাদা কাপড়কে ময়লা থেকে পরিষ্কার করা হয়। হে আল্লাহ! তুমি আমাকে আমার পাপ থেকে (পবিত্র করার জন্য) পানি, বরফ ও শিশির দ্বারা ধুয়ে পরিষ্কার করে দাও।”[4]

আর যদি কেউ চায় তাহলে পূর্বের দো‘আর পরিবর্তে নিম্নের দো‘আটিও পাঠ করতে পারে।

»سُبْحَانَكَ اللَّهُمَّ وَبِحَمْدِكَ وَتَبَارَكَ اسْمُكَ وَتَعَالَى جَدُّكَ وَلَا إِلَهَ غَيْرُكَ«

উচ্চারণ: সুবহানাকা আল্লাহুম্মা ওয়া বিহামদিকা, ওয়া তাবারাকাস্মুকা, ওয়া তা‘আলা জাদ্দুকা ওয়া লা-ইলাহা গাইরুকা।

“হে আল্লাহ! আমি তোমার পবিত্রতা বর্ণনা করছি। তুমি প্রশংসাময়, তোমার নাম বরকতময়, তোমার মর্যাদা অতি উচ্চে, আর তুমি ব্যতীত সত্যিকার কোনো মা‘বূদ নেই।”

পূর্বের দো‘আ দু’টি ছাড়াও যদি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে অন্যান্য যে সকল দো‘আয়ে ইস্তেফতাহ বা সানা বলা প্রমাণিত তা পাঠ করে তবে কোনো বাধা নেই। কিন্তু উত্তম হলো যে কখনও এটি আবার কখনও অন্যটি পড়া। কারণ, এর মাধ্যমে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পরিপূর্ণ অনুসরণ প্রতিফলিত হবে।

এরপর বলবে:

আঊযু বিল্লাহি মিনাশ শায়তানির রাজীম, বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম।

“আমি বিতাড়িত শয়তান থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করছি। রহমান, রহীম আল্লাহর নামে শুরু করছি।”

অতঃপর সূরা ফাতিহা পাঠ করবে। কেননা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:

» لاَ صَلاَةَ لِمَنْ لَمْ يَقْرَأْ بِفَاتِحَةِ الْكِتَابِ «

“যে ব্যক্তি (সালাতে) সূরা ফতিহা পাঠ করে না তার সালাত হয় না।”[5] সূরা ফতিহা পাঠ শেষে জাহরী সালাতে (মাগরিব, এশা ও ফজর) উচ্চস্বরে আর ছিররি সালাতে (জোহর ও আসর) মনে মনে আ-মীন বলবে।

এরপর পবিত্র কুরআন থেকে যে পরিমাণ সহজসাধ্য হয় তা পাঠ করবে। উত্তম হলো সূরা ফাতিহার পরে জোহর, আসর এবং এশার সালাতে কুরআন মাজীদের আওছাতে মুফাচ্ছাল (মধ্যম ধরনের সূরা) এবং ফজরে তিওয়াল (লম্বা ধরনের সূরা) আর মাগরিবের সালাতে কখনও তিওয়াল অথবা কিসার থেকে পাঠ করবে। তাতে এ ব্যাপারে বর্ণিত হাদীসের ওপর আমল করা হবে।

 [রুকু, তা থেকে মাথা উঠানো ও তাতে আরও যা রয়েছে]

৭. উভয় হাত দু’কাঁধ অথবা কান বরাবর উঠিয়ে আল্লাহু আকবার বলে রুকুতে যাবে। মাথাকে পিঠ বরাবর রাখবে এবং উভয় হাতের আঙ্গুলগুলোকে খোলাবস্থায় উভয় হাটুর উপরে রাখবে। রুকুতে ইতমিনান বা স্থিরতা অবলম্বন করবে। এরপর বলবে: “সুবহানা রাব্বিয়াল ‘আযীম” “আমার মহান প্রভূ পবিত্র-মহান।”

দো‘আটি তিন বা তার অধিক পড়া ভালো এবং এর সাথে নিম্নের দো‘আটিও পাঠ করা মুস্তাহাব।

»سُبْحَانَكَ اللَّهُمَّ وَبِحَمْدِكَ اَللَّهُمَّ اغْفِرْ لِيْ «

উচ্চারণ: সুবহানাকা আল্লাহুম্মা ওয়া বিহামদিকা, আল্লাহুম্মাগফিরলি।

“হে আল্লাহ! আমাদের রব, তোমার পবিত্রতা বর্ণনা করছি তোমার প্রশংসাসহ। হে আল্লাহ! আমাকে ক্ষমা কর।”

৮. উভয় হাত কাঁধ অথবা কান বরাবর উঠিয়ে “সামি‘আল্লাহু লিমান হামিদাহ” বলে রুকু থেকে মাথা উঠাবে। ইমাম হিসেবে সালাত আদায়কারী বা একাকী সালাত আদায়কারী উভয়ই দো‘আটি পাঠ করবে। রুকু থেকে খাড়া হয়ে বলবে:

»رَبَّنَاوَلَكَ الْحَمْدُ،حَمْدًا كَثِيْرًا طَيِّبًا مُبَارَكًا فيْهِ؛ مِلْءَ السَّمَاوَاتِ وَمِلْءَ الْأَرْضِ؛ وَمِلَءَ ماَ بَيْنَهُمَا ؛ وَمِلْءَ ماَ شِئْتَ مِنْ شَيْءٍ بَعْدُ»

উচ্চারণ: রাব্বানা ওয়া লাকাল হামদ, হামদান কাছিরান তাইয়্যেবাম মুবারাকান ফি-হ, মিলয়াস সামাওয়াতি ওয়া মিলয়াল আরদি, ওয়া মিলয়া মা বাইনাহুমা, ওয়া মিলয়া মা শি’তা মিন শাইয়িন বা‘দু।

“হে আমাদের রব! তোমার জন্যই সমস্ত প্রশংসা। তোমার প্রশংসা অসংখ্য, উত্তম ও বরকতময়, যা আকাশ ভর্তি করে দেয়, যা পৃথিবী পূর্ণ করে দেয়, উভয়ের মধ্যবর্তী স্থান পূর্ণ করে এবং এগুলো ছাড়া তুমি অন্য যা কিছু চাও তাও পূর্ণ করে দেয়।”

আর যদি মুক্তাদি হয়, তবে তিনি মাথা উঠানোর সময় বলবেন, রাব্বানা ওয়ালাকাল হামদু... থেকে বাকী অংশ।

পূর্বের দো‘আটির পরে (ইমাম হিসেবে সালাত আদায়কারী, একাকী সালাত আদায়কারী কিংবা মুক্তাদি হিসেবে সালাত আদায়কারী) সবাই যদি নিম্নের দো‘আটিও পাঠ করে তবে তাও ভালো:

»أَهْلُ الثَّنَاءِ وَالْمَجْدِ؛ أَحَقُّ مَا قاَلَ الْعَبْدُ؛ وَكُلُّناَ لَكَ عَبْدٌ؛ اَللَّهُمَّ لاَمَانِعَ لِمَا أَعْطَيْتَ وَلاَ مُعْطِىَ لِمَا مَنَعْتَ وَلاَ يَنْفَعُ ذَالْجَدِّ مِنْكَ الْجَدُّ «

উচ্চারণ: আহলুস্সানায়ি ওয়াল মাজদি,আহাক্কু মা ক্কালাল ‘আবদু ওয়া কুল্লুনা লাকা ‘আবদুন। আল্লাহুম্মা! লা- মানি‘আ লিমা আ‘তাইতা ওয়ালা মু‘তিয়া লিমা মানা‘তা, ওয়ালা ইয়ানফা‘উ যালজাদ্দি মিনকালজাদ্দু।

“হে আল্লাহ! তুমিই প্রশংসা ও মর্যাদার হক্কদার, বান্দা যা বলে তার চেয়েও তুমি অধিকতর হকদার এবং আমরা সকলে তোমারই বান্দা। হে আল্লাহ! তুমি যা দান করেছো, তার প্রতিরোধকারী কেউ নেই। আর তুমি যা নিষিদ্ধ করেছো তা প্রদানকারীও কেউ নেই এবং কোনো সম্মানী ব্যক্তি তার উচ্চ মর্যাদা দ্বারা তোমার দরবারে উপকৃত হতে পারবে না।”

কারণ তা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে সাব্যস্ত হয়েছে।

রুকু থেকে মাথা উঠানোর পর ইমাম ও মুক্তাদী সকলের জন্য দাঁড়ানো অবস্থায় যে ভাবে উভয় হাত বুকের উপর ছিল সে ভাবে বুকের উপর উভয় হাত রাখা মুস্তাহাব। কারণ; নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে ওয়ায়েল ইবন হুজর এবং সাহল ইবন সা‘দ রাদিয়াল্লাহু আনহুমার বর্ণিত হাদীস থেকে এর প্রমাণ রয়েছে।

 [সাজদাহ, তা থেকে মাথা উঠানো ও তাতে আরও যা রয়েছে]

৯. আল্লাহু আকবার বলে, যদি কোনো প্রকার কষ্ট না হয় তা হলে উভয় হাতের আগে দুই হাটু (মাটিতে রেখে) সাজদায় যাবে। আর যদি কষ্ট হয় তাহলে উভয় হাত হাটুর পূর্বে (মাটিতে) রাখবে। আর তখন হাত ও পায়ের আঙ্গুলগুলো কিবলামুখী থাকবে এবং হাতের আঙ্গুলগুলো মিলিত ও প্রসারিত হয়ে থাকবে।

আর সাজদাহ হবে সাতটি অঙ্গের উপর। অঙ্গগুলো হলো: নাকসহ কপাল, উভয় হাতুলী, উভয় হাটু এবং উভয় পায়ের আঙ্গুলের ভিতরের অংশ।

সাজদায় গিয়ে বলবে: “সুবহানা রাব্বিয়াল আ‘লা” “আমার সর্বোচ্চ রব্ব (আল্লাহ) অতি পবিত্র-মহান।” সুন্নাত হচ্ছে তিন বা তার অধিকবার তা পুনরাবৃত্তি করা। আর এর সাথে নিম্নের দো‘আটি পড়া মুস্তাহাব:

»سُبْحَانَكَ اللَّهُمَّ رَبَّناَ وَبِحَمْدِكَ اَللَّهُمَّ اغْفِرْ لِيْ «

উচ্চারণ: সুবহানাকা আল্লাহুম্মা রাব্বানা ওয়া বিহামদিকা আল্লাহুম্মাগফিরলি।

“হে আল্লাহ! আমাদের রব, তোমার পবিত্রতা বর্ণনা করছি তোমার প্রশংসা সহকারে। হে আল্লাহ! আমাকে ক্ষমা কর।”

আর সাজদায় বেশি বেশি দো‘আ করবেন। কারণ; নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:

»فأما الركوع فعظموا فيه الرب وأما السجود فاجتهدوا في الدعاء فقمن أن يستجاب«

“তোমরা রুকু অবস্থায় মহান রবের শ্রেষ্ঠত্ব ও মহত্ত্ব বর্ণনা কর আর সাজদারত অবস্থায় অধিক দো‘আ করার চেষ্টা কর, কেননা তা তোমাদের দো‘আ কবুল হওয়ার অধিক উপযোগী অবস্থা।”[6]

ফরয অথবা নফল উভয় সালাতে মুসলিম (সালাত আদায়কারী) সাজদার মধ্যে তার নিজের এবং মুসলিমদের জন্য আল্লাহর কাছে দুনিয়া ও আখেরাতের কল্যাণের জন্য দো‘আ করবে।

আর সাজদার সময় উভয় বাহুকে পার্শ্বদেশ থেকে, পেটকে উভয় উরু এবং উভয় উরু পিণ্ডলী থেকে আলাদা রাখবে এবং উভয় বাহু মাটি থেকে উপরে রাখবে; কেননা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:

«اِعْتَدِلُوْا فِي السُّجُوْدِ وَلاَيبسِطُ أَحْدُكُمْ ذِرَاعَيْهِ إِنْبِسَاطَ الْكَلْبِ»

“তোমরা সাজদায় বরাবর সোজা থাকবে। তোমাদের কেউ যেন তোমাদের উভয় হাতকে কুকুরের ন্যায় বিছিয়ে প্রসারিত না রাখে।”[7]

 [দু’ সাজদার মাঝখানে বসা ও তার পদ্ধতি]

১০. আল্লাহু আকবার বলে (সাজদাহ থেকে) মাথা উঠাবে। বাম পা বিছিয়ে দিয়ে তার উপর বসবে এবং ডান পা খাড়া করে রাখবে। দু’হাত তার উভয় রান (উরু) ও হাঁটুর উপর রাখবে এবং নিম্নের দো‘আটি বলবে।

»رَبِّ اغْفِرْلِيْ، وَارْحَمْنِيْ وَاهْدِنِيْ وَارْزُقْنِيْ وَعَافِنِيْ وَاجْبُرْنِيْ «

উচ্চারণ: রাব্বিগফিরলী, ওয়ারহামনী ওয়াহদিনী ওয়ারযুকনী ওয়া আ’ফিনী ওয়াজবুরনী।

“হে রব্ব আমাকে ক্ষমা কর, আমাকে রহম কর, আমাকে হিদায়েত দান কর, আমাকে রিযিক দান কর, আমাকে সুস্থ্যতা দান কর এবং আমার ক্ষয়ক্ষতি পূরণ কর।”

আর এ বৈঠকে ধীর স্থির থাকবে[8]

১১. আল্লাহু আকবার বলে দ্বিতীয় সাজদাহ করবে এবং দ্বিতীয় সাজদায় তাই করবে প্রথম সাজদায় যা করেছিল।

১২. সাজদাহ থেকে আল্লাহু আকবার বলে মাথা উঠাবে। ক্ষণিকের জন্য বসবে, যেভাবে উভয় সাজদার মধ্যবর্তী সময়ে বসেছিল। এ ধরনের পদ্ধতিতে বসাকে “জলসায়ে ইসতেরাহা” বা আরামের বৈঠক বলা হয়। আলেমদের দু’টি মতের মধ্যে অধিক সহীহ মতানুসারে এ ধরনের বসা মুস্তাহাব এবং তা ছেড়ে দিলে কোনো দোষ নেই। এ বসা “জলসায়ে ইস্তেরাহা”তে পড়ার জন্য কোনো যিকির বা দো‘আ নেই।

অতঃপর দ্বিতীয় রাকাতের জন্য যদি সহজ হয় তাহলে উভয় হাঁটুতে ভর করে উঠে দাঁড়াবে। কিন্তু কষ্ট হলে মাটিতে ভর করে দাঁড়াবে।

এরপর (প্রথমে) সূরা ফাতিহা এবং কুরআনের অন্য কোনো সহজ সূরা পড়বে। তারপর প্রথম রাকাতে যেভাবে করেছে ঠিক সেভাবেই দ্বিতীয় রাকাতেও করবে[9]

 [দুই রাকাত বিশিষ্ট সালাতের তাশাহহুদের জন্য বসা ও তার পদ্ধতি]

১৩. সালাত যদি দু’রাকাত বিশিষ্ট হয় যেমন, ফজর, জুমু‘আ ও ঈদের সালাত, তাহলে দ্বিতীয় সাজদাহ থেকে মাথা উঠিয়ে ডান পা খাড়া করে বাম পায়ের উপর বসবে। ডান হাত ডান উরুর উপর রেখে শাহাদাত বা তর্জনী আঙ্গুলি ছাড়া সমস্ত আঙ্গুল মুষ্টিবদ্ধ করে দো‘আ ও আল্লাহর নাম উল্লেখ করার সময় শাহাদাত আঙ্গুল দ্বারা নাড়িয়ে তাওহীদের ইশারা করবে। যদি ডান হাতের কনিষ্ঠা ও অনামিকা বন্ধ রেখে এবং বৃদ্ধাঙ্গুলি মধ্যমাঙ্গুলির সাথে মিলিয়ে গোলাকার করে শাহাদাত বা তর্জনী দ্বারা ইশারা করে তবে তাও ভালো। কারণ, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে দু’ধরনের বর্ণনাই প্রমাণিত। উত্তম হলো যে, কখনও এভাবে এবং কখনও ওভাবে করা।

আর বাম হাত বাম উরু ও হাঁটুর উপর রাখবে। অতঃপর এই বৈঠকে তাশাহহুদ (আত্তাহিয়্যতু..) পড়বে।

তাশাহহুদ বা আত্তাহিয়্যতু:

»اَلتَّحِيَّاتُ لِلَّهِ وَالصَّلَوَاتُ وَالطَّيِّبَاتُ، السَّلَامُ عَلَيْكَ أَيُّهَا النَّبِيُّ وَرَحْمَةُ اللَّهِ وَبَرَكَاتُهُ، السَّلَامُ عَلَيْنَا وَعَلَى عِبَادِ اللَّهِ الصَّالِحِيْنَ، أَشْهَدُ أَن لَّاإِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ»

উচ্চারণ: “আত্তাহিয়্যাতু লিল্লাহি ওয়াস্‌সালাওয়াতু ওয়াত্ তাইয়্যিবাতু আস্‌সালামু আলাইকা আইয়্যুহান্নাবিয়্যু ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু, আস্‌সালামু আলাইনা ওয়া আলা ইবাদিল্লাহিছ ছালিহীন। আশহাদু আল লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান্ আবদুহু ওয়া রাসূলুহু।

“যাবতীয় সম্মানের সম্ভাষণ, যাবতীয় সালাত ও পবিত্রতা কেবলমাত্র আল্লাহর জন্য। হে নবী! আপনার ওপর আল্লাহর শান্তি, রহমত ও বরকত অবতীর্ণ হোক। আমাদের ওপর এবং আল্লাহর সৎ বান্দাগণের ওপর সালাম। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া (সত্য) কোনো মা‘বূদ নেই এবং আরো সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল।”

অতঃপর বলবে:

»اَللَّهُمَّ صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ وَّعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ كَمَا صَلَّيْتَ عَلَى إِبْرَاهِيْمَ وَعَلَى آلِ إِبْرَاهِيْمَ إِنَّكَ حَمِيْدٌ مَجِيْدٌ, وبَارِكْ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ كَمَا بَارَكْتَ عَلَى إِبْرَاهِيْمَ وَعَلَى آلِ إِبْرَاهِيمَ إِنَّكَ حَمِْيدٌ مَجِيْدٌ «

উচ্চারণ: “আল্লাহুম্মা সাল্লি আলা মুহাম্মাদিও ওয়া ‘আলা আ-লি মুহাম্মাদিন কামা সাল্লাইতা আলা ইব্রা-হীমা ওয়া আলা আ-লি ইবরাহীমা ইন্নাকা হামীদুম মাজীদ। ওয়া বা-রিক আলা মুহাম্মাদিউঁ ওয়া আলা আ-লি মুহাম্মাদিন কামা বা-রাকতা আলা ইবরা-হীমা ওয়া আলা আলি-ইব্রা-হীমা ইন্নাকা হামীদুম মাজীদ।”

“হে আল্লাহ! মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসালাম ও তাঁর পরিবারবর্গের ওপর সালাত পেশ করুন। যেমন, আপনি ইবরাহীম ও তার পরিবারবর্গের ওপর সালাত পেশ করেছেন। নিশ্চয় আপনি প্রশংসিত ও গৌরবান্বিত। আর আপনি মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁর পরিবারবর্গের ওপর বরকত নাযিল করুন, যেমন আপনি ইবরাহীম ও তার পরিবারবর্গের ওপর নাযিল করেছেন। নিশ্চয় আপনি প্রশংসিত ও গৌরাবান্বিত।”

এরপর আল্লাহর কাছে চারটি বস্তু থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করবে।

»اَللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوْذُ بِكَ مِنْ عَذَابِ جَهَنَّمَ وَمِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ ومِنْ فِتْنَةِ الْمَحْيَا وَالْمَمَاتِ ومِنْ فِتْنَةِ الْمَسِيْحِ الدَّجَّالِ«

উচ্চারণ: আল্লা­হুম্মা ইন্নী আঊযুবিকা মিন ‘আযাবি জাহান্নাম, ওয়া মিন ‘আযাবিল ক্বাবরি, ওয়া মিন ফিতনাতিল্ মাহইয়া ওয়ালমামাতি ওয়া মিন ফিতনাতিল মাসীহিদ দাজ্জাল।

“আমি আল্লাহর আশ্রয় কামনা করি জাহান্নামের আযাব থেকে, কবরের শাস্তি থেকে, জীবন ও মৃত্যুর যন্ত্রণা থেকে এবং মাসীহ দাজ্জালের ফিতনা থেকে।”

এরপর দুনিয়া ও আখেরাতের মঙ্গল কামনা করে নিজের পছন্দমত যে কোনো দো‘আ করবে। যদি তার পিতা-মাতা ও অন্যান্য মুসলিমদের জন্য দো‘আ করে তাতে কোনো দোষ নেই। দো‘আ করার বিষয়ে ফরয অথবা নফল সালাতে কোনোই পার্থক্য নেই। কারণ, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কথায় ব্যাপকতা রয়েছে। ইবন মাসউদের হাদীসে যখন তিনি তাশাহহুদ শিক্ষা দিচ্ছিলেন তখন বলেছিলেন:

»ثُمَّ لِيَتَخَيَّرْ مِنَ الدُّعاَءِ أَعْجَبَهُ إِلَيْهِ فَيَدْعُوْا «

“অতঃপর তার কাছে যে দো‘আ পছন্দনীয়, তা নির্বাচন করে দো‘আ করবে।” অন্য এক বর্ণনায় আছে,

»ثُمَّ يَتَخَيَّرْ مِنَ الْمَسْأَلَةِ مَا شَاءَ «

 “অতঃপর যা ইচ্ছা চেয়ে দো‘আ করতে পারে।”

রাসূলের এ বাণী বান্দার দুনিয়া ও আখেরাতের সমস্ত উপকারী বিষয়ের দো‘আকে শামিল করে।

অতঃপর (সালাত আদায়কারী) তার ডান দিকে (তাকিয়ে) “আস্‌সালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ” “তোমাদের ওপর শান্তি ও আল্লাহর রহমত নাযিল হউক এবং বাম দিকে (তাকিয়ে) “আস্‌সালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ” বলে সালাম ফিরাবে।

 [তিন বা চার রাকা‘আত বিশিষ্ট সালাতের তাশাহহুদের জন্য বসা ও তার পদ্ধতি]

১৪. সালাত যদি তিন রাকাতবিশিষ্ট হয়, যেমন মাগরিবের সালাত অথবা চার রাকাতবিশিষ্ট হয় যেমন জোহর, আসর ও এশার সালাত, তাহলে পূর্বোল্লি­খিত “তাশাহহুদ” পড়বে এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি দুরূদও পাঠ করবে।

অতঃপর আল্লা­হু আকবার বলে হাটুতে ভর করে (সোজা হয়ে) দাঁড়িয়ে উভয় হাত কাঁধ বরাবর উঠিয়ে পূর্বের ন্যায় বুকের উপর রাখবে এবং শুধু সূরা ফাতিহা পড়বে। যদি কেউ জোহরের তৃতীয় ও চতুর্থ রাকআতে কখনও সূরা ফাতিহার অতিরিক্ত অন্য কোনো সূরা পড়ে তবে কোনো বাধা নেই। কেননা এবিষয়ে আবু সা‘ঈদ খুদরী রাদিয়াল্লাহু আনহু কর্তৃক নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত হাদীস প্রমাণ বহন করছে।[10]

অতঃপর মাগরিবের সালাতের তৃতীয় রাকাত এবং জোহর, আসর ও এশার সালাতের চতুর্থ রাকআতের পর দু’ রাকা‘আত বিশিষ্ট সালাতের ন্যায় তাশাহহুদ পড়বে।

তারপর মুসল্লি তার ডানদিকে ও বামদিকে সালাম ফিরাবে।

সালাতের শেষ বৈঠকে এবং এর পরবর্তী সময়ে সুন্নাতী কিছু দো‘আ:

আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অধিক সময় নিম্নের দো‘আটি পাঠ করতেন।

﴿رَبَّنَآ ءَاتِنَا فِي ٱلدُّنۡيَا حَسَنَةٗ وَفِي ٱلۡأٓخِرَةِ حَسَنَةٗ وَقِنَا عَذَابَ ٱلنَّارِ﴾ [البقرة: ٢٠١]

যেমন তা দু’রাকাত ওয়ালা সালাতে উল্লেখ হয়েছে। (অতঃপর শেষ বৈঠকের জন্য বসবে) তবে এ বৈঠকে তাওয়াররুক করে বসবে অর্থাৎ ডান পা খাড়া করে এবং বাম পা ডান পায়ের নিম্ন দিয়ে বের করে রাখবে। পাছা যমীনের উপর স্থির রাখবে। এ বিষয়ে আবু হুমাইদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে হাদীস বর্ণিত হয়েছে। এরপর সবশেষে “আস্‌সালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ” বলে প্রথমে ডান দিকে এবং পরে বাম দিকে সালাম ফিরাবে।

(সালামের পর) ৩ বার “আসতাগফিরুল্লাহ” পড়বে (আমি আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি) নিম্নের দো‘আগুলো (১ বার) পড়বে:

»اَللَّهُمَّ أنْتَ الّسَّلاَمُ وَمِنْكَ السَّلاَمُ تَبَارَكْتَ يَاذَاالْجَلاَلَِ واْلإِكْرَامِ-لاَإِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَحْدَهُ لاَشَرِيْكَ لَهُ ؛ لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيْرٌ- اَللَّهُمَّ لاَمَانِعَ لِمَا أَعْطَيْتَ وَلاَ مُعْطِىَ لِمَا مَنَعْتَ وَلاَ يَنْفَعُ ذَاالْجَدِّ مِنْكَ الْجَدُّ- لاَحَوْلَ وَلاَ قُوَّةَ إِلاَّ بِاللهِ ؛ لاإِلَهَ إ لاَّ اللهُ وَلاَ نَعْبُدُ إِلاَّ إِيَّاهُ؛ لَهُ النِّعْمَةُ ولَهُ الْفَضْلُ وَلَهُ الثَّنَاءُ الْحَسَنُ ؛ لاَ إِلَه اِلاَّ اللهُ مُخْلِصِيْنَ لَهُ الدِّيْنَ وَلَوْكَرِهَ الْكَافِرُوْنَ«

উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা আনতাছ ছালামু, ওয়া মিনকাছ ছালামু, তাবারাকতা ইয়া যাল জালালি ওয়াল ইকরাম।

লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা-শারীকালাহু, লাহুল মুল্কু অলাহুল হাম্দু ওয়াহুয়া আলা কুল্লি শাইইন ক্বাদীর। আল্লাহুম্মা! লা- মানি‘আ লিমা ‘আতাইতা ওয়ালা মু‘তিয়া

লিমা মানা‘তা ওয়ালা ইয়ানফা‘উ যালজাদ্দি মিনকাল্জাদ্দু। লা- হাওলা ওয়ালা কুওওয়াতা ইল্লা- বিল্লাহি, লা -ইলাহা ইল্লাল্লাহু,ওয়ালা না‘বুদু ইল্লা ইয়্যাহু, ল্লাহুননি’মাতু ওয়াল্লাহুল ফাদলু, ওয়াল্লাহুস্ সানাউল হাসানু, লা-ইলাহা ইল্লাল্লা­হু মুখলিসীনা লাহুদদীনা ওয়ালাউ কারিহাল কাফিরূন।

“হে আল্লাহ! তুমি শান্তি দাতা, আর তোমার কাছেই শান্তি, তুমি বরকতময়, হে মর্যাদাবান এবং কল্যাণময়।”আল্লাহ ছাড়া (সত্য) কোনো মা‘বূদ নেই , তিনি একক, তাঁর কোনো শরীক নেই, সকল বাদশাহী ও সকল প্রশংসা তাঁরই এবং তিনি সব কিছুর উপরেই ক্ষমতাশালী। একমাত্র অল্লাহ ছাড়া দুঃখ কষ্ট দূরিকরণ এবং সম্পদ প্রদানের ক্ষমতা আর কারো নেই।

হে আল্লাহ! তুমি যা দান করেছো, তার প্রতিরোধকারী কেউ নেই। আর তুমি যা নিষিদ্ধ করেছো তা প্রদানকারীও কেউ নেই এবং কোনো সম্মানী ব্যক্তি তার উচ্চ মর্যাদা দ্বারা তোমার দরবারে উপকৃত হতে পারবে না।”

আল্লাহ ছাড়া (সত্য) কোনো মা‘বূদ নেই। আমরা একমাত্র তাঁরই ইবাদত করি, নি‘আমতসমূহ তাঁরই, অনুগ্রহও তাঁর এবং উত্তম প্রশংসা তাঁরই। আল্লাহ ছাড়া কোনো (সত্য) মা‘বূদ নেই । আমরা তাঁর দেওয়া জীবন বিধান একমাত্র তাঁর জন্য একনিষ্ঠভাবে পালন করি। যদিও কাফিরদের নিকট তা অপছন্দনীয়।

“সুবহানাল্লাহ” ৩৩ বার (আল্লাহ পাক-পবিত্র) “আলহামদুলিল্লা­হ” ৩৩ বার (সকল প্রশংসা আল্লাহর) আল্লাহু আকবার” ৩৩ বার পড়বে (আল্লাহ সবচেয়ে বড়) আর একশত পূর্ণ করতে নিম্নের দো‘আটি পড়বে।

 »لاَإِلَهَ إِلاَّ اللهُ وَحْدَهُ لاَشَرِيْكَ لَهُ ؛ لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَعَلى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيْرٌ «

 উচ্চারণ: লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা-শারীকালাহু, লাহুল মুল্কু ওয়াল্লাহুল হামদু, ওয়াহুয়া আলা কুল্লি শাইইন ক্বাদীর।

“আল্লাহ ছাড়া (সত্য) কোনো মা‘বূদ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরীক নেই। সকল বাদশাহী ও সকল প্রশংসা তাঁরই জন্য। তিনিই সবকিছুর ওপর ক্ষমতাশালী।”

অতঃপর আয়াতুল কুরসী পাঠ করবে:

﴿ٱللَّهُ لَآ إِلَٰهَ إِلَّا هُوَ ٱلۡحَيُّ ٱلۡقَيُّومُۚ لَا تَأۡخُذُهُۥ سِنَةٞ وَلَا نَوۡمٞۚ لَّهُۥ مَا فِي ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَمَا فِي ٱلۡأَرۡضِۗ مَن ذَا ٱلَّذِي يَشۡفَعُ عِندَهُۥٓ إِلَّا بِإِذۡنِهِۦۚ يَعۡلَمُ مَا بَيۡنَ أَيۡدِيهِمۡ وَمَا خَلۡفَهُمۡۖ وَلَا يُحِيطُونَ بِشَيۡءٖ مِّنۡ عِلۡمِهِۦٓ إِلَّا بِمَا شَآءَۚ وَسِعَ كُرۡسِيُّهُ ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَٱلۡأَرۡضَۖ وَلَا يَ‍ُٔودُهُۥ حِفۡظُهُمَاۚ وَهُوَ ٱلۡعَلِيُّ ٱلۡعَظِيمُ ٢٥٥﴾ [البقرة: ٢٥٥]

উচ্চারণ: “আল্লাহু লা- ইলাহা ইল্লা হুঅ, আল হাইয়্যুল কাইয়্যুম, লা-তা’খুযুহু ছিনাতুউ অলা নাউম, লাহু মা ফিচ্ছামাওয়াতি ওয়ামা ফিল আরদি; মান্যাল্লাযী ইয়াশফা’উ ইন্দাহু ইল্লা বিইযনিহি, ইয়া‘লামু মা-বাইনা আইদীহিম ওয়ামা খালফাহুম, ওয়ালা ইউহীতূনা বিশাইয়িম মিন ইলমিহী, ইল্লা বিমা শা -য়া, ওয়াছিআ কুরছিইয়্যুহুচ্ছামাওয়াতি, ওয়াল আরদা, ওয়ালা ইয়াউদুহু হিফজুহুমা ওয়াহুয়াল আলিইয়ুল আযীম।”

“আল্লাহ তিনি ছাড়া অন্য কোনো (সত্য) মাবূদ নেই, তিনি চিরঞ্জীব, সবকিছুর ধারক, তাঁকে তন্দ্রা এবং নিদ্রা স্পর্শ করতে পারে না। আকাশ ও পৃথিবীতে যা কিছু আছে সবই তাঁর। কে আছে এমন

যে, তাঁর অনুমতি ব্যতীত তাঁর কাছে সুপারিশ করবে? তাদের সম্মুখে ও পশ্চাতে যা কিছু আছে তা তিনি অবগত আছেন। যতটুকু তিনি ইচ্ছে করেন, ততটুকু ছাড়া তারা তাঁর জ্ঞানের কিছুই আয়ত্ত করতে পারে না। তাঁর কুরসী সমস্ত আকাশ ও পৃথিবী পরিবেষ্টিত করে আছে। আর সেগুলোকে রক্ষণা-বেক্ষণ করা তাঁকে ক্লান্ত করে না। তিনি মহান শ্রেষ্ঠ।” [সূরা আল-বাকারাহ, আয়াত: ২৫৫]

প্রত্যেক সালাতের পর আয়াতুল কুরসী, সূরা ইখলাস, সূরা ফালাক এবং সূরা নাস পড়বে। মাগরিব ও ফজর সালাতের পরে এই সূরা তিনটি (ইখলাস, ফালাক এবং নাস) তিনবার করে পুনরাবৃত্তি করা মুস্তাহাব। কারণ, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে এ সম্পর্কে সহীহ হাদীস বর্ণিত হয়েছে।

একইভাবে পূর্ববর্তী দো‘আগুলোর সাথে ফজর ও মাগরিবের সালাতের পর নিম্নের দো‘আটি বৃদ্ধি করে দশবার করে পাঠ করা মুস্তাহাব। কারণ, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে এ সম্পর্কে (হাদীসে) প্রমাণিত আছে।

 »لاَإِلَهَ إِلاَّ اللهُ وَحْدَهُ لاَشَرِيْكَ لَهُ ؛ لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ يُحْييِ وَيُمِيْتُ وَهُوَعَلىكُلِّ شَيْءٍ قَدِيْرٌ «

উচ্চারণ: লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু,ওয়াহদাহু লা-শারীকাল্লাহু, ল্লাহুল মুলকু, ওয়াল্লাহুল হামদু, ইওহয়্যি ওয়া ইওমীতু ওয়াহুয়া আলা কুল্লি শাইইন ক্বাদীর।

“আল্লাহ ছাড়া (সত্য) কোনো মা‘বূদ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরীক নেই। সকল বাদশাহী ও সকল প্রশংসা তাঁরই জন্য। তিনিই জীবিত করেন ও মৃত্যু দান করেন। তিনিই সব কিছুর ওপর ক্ষমতাশালী।”

অতঃপর ইমাম হলে তিনবার “আসতাগফিরুল্লাহ”এবং “আল্লাহুম্মা আন্তাস সালামু, ওয়ামিনকাস সালামু, তাবারাকতা ইয়া যাল জালালি ওয়াল ইকরাম।” বলে মুকতাদীদের দিকে ফিরিয়ে মুখামুখী হয়ে বসবে। অতঃপর পূর্বোল্লি­খিত দো‘আগুলো পড়বে। এ বিষয়ে অনেক হাদীস বর্ণিত হয়েছে, এর মধ্যে সহীহ মুসলিমে আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা কতৃক নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত আছে। এই সমস্ত আযকার বা দো‘আ পাঠ করা সুন্নাত, ফরয নয়।

প্রত্যেক মুসলিম নারী এবং পুরুষের জন্যে জোহর সালাতের পূর্বে ৪ রাকাত এবং পরে ২ রাকাত, মাগরিবের সালাতের পর ২ রাকাত, এশার সালাতের পর ২ রাকাত এবং ফজরের সালাতের পূর্বে ২ রাকাত- মোট ১২ রাকাত সালাত পড়া মুস্তাহাব। এই ১২ (বার) রাকাত সালাতকে সুনান রাওয়াতিব বলা হয়। কারণ, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উক্ত রাকাতগুলো মুকীম অবস্থায় নিয়মিত যত্ন সহকারে আদায় করতেন। আর সফরের অবস্থায় ফজরের সুন্নাত ও (এশার) বিত্‌র ব্যতীত অন্যান্য রাকাতগুলো ছেড়ে দিতেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সফর এবং মুকীম অবস্থায় উক্ত ফজরের সুন্নাত ও বিতর নিয়মিত আদায় করতেন। তাই আমাদের জন্য নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আমলই হলো উত্তম আদর্শ। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

﴿لَّقَدۡ كَانَ لَكُمۡ فِي رَسُولِ ٱللَّهِ أُسۡوَةٌ حَسَنَةٞ﴾ [الاحزاب: ٢١]

“নিশ্চয় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মধ্যে তোমাদের জন্য রয়েছে উত্তম আদর্শ।” [সূরা আল-আহযাব, আয়াত: ২১]

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,

»صَلٌّوْا كَمَا رَأَيْتُمُوْنِيْ أُصَلِّيْ»

“তোমরা সেভাবে সালাত আদায় কর, যেভাবে আমাকে সালাত আদায় করতে দেখ।”[11]

এই সমস্ত সুনান রাওয়াতিব এবং বিতরের সালাত নিজ ঘরেই পড়া উত্তম। যদি কেউ তা মসজিদে পড়ে তাতে কোনো দোষ নেই। এ সম্পর্কে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,

» أَفْضَلُ صَلاَةِ الْمَرْءِ فِيْ بَيْتِهِ إِلاَّ الْمَكْتوبَةْ»

“ফরয সালাত ব্যতীত মানুষের অন্যান্য সালাত (নিজ) ঘরেই পড়া উত্তম।”

এই সমস্ত রাকাতগুলো (১২ রাকাত সালাত) নিয়মিত যত্ন সহকারে আদায় করা হলো জান্নাতে প্রবেশের একটি মাধ্যম।

সহীহ মুসলিমে উম্মে হাবীবাহ রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, তিনে বলেন যে, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি:

»مَا مِنْ عَبْدٍ مُسْلِمٍ يُصَلِّيْ لِلَّهِ كُلَّ يَوْمٍ ثِنْتَيْ عَشَرَةَ رَكْعَةً تَطَوُعًا إِلاَّ بَنَى اللَّهُ لَهُ بَيْتاً فِي الْجَنَّةِ «

“যে কোনো মুসলিম ব্যক্তিই আল্লাহর জন্য (খালেস নিয়্যতে) দিবা-রাত্রে ১২ (বার) রাকাত নফল সালাত পড়বে, আল্লাহ অবশ্যই তার জন্য একটি জান্নাতে ঘর বানাবেন।” আমরা যা পূর্বে উল্লে­খ করেছি ইমাম তিরমিযী তার বর্ণনায় অনুরূপ বিস্তারিত আলোচনা করেছেন।

যদি কেউ আসরের সালাতের পূর্বে ৪ (চার) রাকাত এবং মাগরিবের সালাতের পূর্বে ২ (দুই) রাকাত এবং এশার সালাতের পূর্বে ২ (দুই) রাকাত পড়ে, তাহলে তা উত্তম হবে। কেননা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:

»رَحِمَ اللَّهُ امْرَأً صَلَّى أَرْبَعًا قَبْلَ الْعَصْرِ «

“আল্লাহ ঐ ব্যক্তির ওপর রহম করুন,যে আসরের (ফরয) সালাতের পূর্বে চার রাকাত (নফল) সালাত পড়ে থাকে।”[12] রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,

»بَيْنَ كُلِّ أَذَانَيْنِ صَلاَةٌ ؛ بَيْنَ كُلِّ أَذَانَيْنِ صَلاَةٌ ؛ ثُمَّ قَالَ فِي الثَّالِثَةِ لِمَنْ شَاءَ «

“প্রত্যেক আযান ও ইকামতের মধ্যবর্তী সময়ে (নফল) সালাত, প্রত্যেক আযান ও ইকামতের মধ্যবর্তী সময়ে (নফল) সালাত।” তৃতীয় বার বলেন “যে ব্যক্তি পড়ার ইচ্ছে করে।”[13]

যদি কেউ জোহরের পূর্বে ৪ (চার) রাকাত এবং পরে ৪ (চার) রাকাত পড়ে তবে তা ভালো। এর প্রমাণে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,

»مَنْ حَافَظَ عَلَى أَرْبَعٍ قَبْلَ الظُّهْرِ وَأَرْبْعٍ بَعْدَهَا حَرَّمَهُ اللَّهُ تَعَالىَ عَلَى النّاَرِ «

“যে ব্যক্তি জোহরের পূর্বে ৪ (চার) রাকাত ও পরে ৪ (চার) রাকাত (সুন্নাত সালাত) এর প্রতি যত্নবান থাকে, আল্লাহ পাক তার ওপর জাহান্নামের আগুন হারাম করে দিবেন।” ইমাম আহমাদ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন এবং আহলে সুনান সহীহ সূত্রে উম্মে হাবীবাহ থেকে উল্লে­খ করেছেন। অর্থাৎ সুনানে রাতেবার সালাতে জোহরের পরে ২ রাকাত বৃদ্ধি করে পড়বে। কারণ, জোহরের পূর্বে ৪ রাকাত এবং পরে ২ রাকাত পড়া সুনান রাতেবাহ। অতএব, জোহরের পরে ২ রাকাত বৃদ্ধি করলে উম্মে হাবীবাহর হাদীসের প্রতি আমল হবে। আল্লাহই তাওফীকদাতা। দুরূদ ও সালাম বর্ষিত হোক, আমাদের প্রিয় নবী মুহাম্মাদ ইবন আব্দুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, তাঁর পরিবার-পরিজন এবং সাহাবীগণের প্রতি এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারা তাঁর ইত্তেবা‘ করবেন তাদের প্রতিও।

সমাপ্ত

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “তোমরা সেভাবে সালাত আদায় কর, যেভাবে আমাকে সালাত আদায় করতে দেখ।” তাই প্রত্যেক মুসলিম নারী ও পুরুষের উদ্দেশ্যে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সালাত আদায়ের পদ্ধতি সম্পর্কে সংক্ষিপ্তাকারে এ পুস্তকটির অবতারণা, যেন প্রত্যেকেই সালাত পড়ার বিষয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অনুসরণ করতে পারেন। আশা করি এতে সকলেই উপকৃত হবেন।



[1] সহীহ বুখারী।

[2] মুসলিম, তাহারাত, হাদীস নং ২২৪; তিরমিযী, হাদীস নং ১; ইবন মাজাহ, হাদীস নং ২৭২; মুসনাদে আহমাদ (২/৭৩) তার সহীহ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন।

[3] সহীহ বুখারী, কিতাবুল ইস্তেযান, হাদীস নং ৫৭৮২; আইমান ওয়ান নুযূর, হাদীস নং ৬১৭৪; আবু দাউদ, সালাত, হাদীস নং ৭৩০; ইবন মাজাহ, তাহারাত, হাদীস নং ৪৪১।

[4] সহীহ বুখারী ও মুসলিম।

[5] সহীহ বুখারী ও মুসলিম।

[6] সহীহ মুসলিম।

[7] সহীহ বুখারী ও মুসলিম।

[8] যাতে প্রতিটি হাড়ের জোর তার নিজস্ব স্থানে ফিরে যেতে পারে, রুকুর পরের ন্যায় স্থির দাঁড়ানোর মতো। কেননা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রুকুর পরে ও দু’সাজদার মধ্যবর্তী সময়ে স্থিরতা অবলম্বন করতেন।

[9] মুক্তাদী তার ইমামের পূর্বে কোনো কাজ করা জায়েয নেই। কারণ, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর উম্মতকে এ রকম করা থেকে সতর্ক করেছেন। ইমামের সাথে সাথে (একই সঙ্গে) করা মাকরূহ। সুন্নাত হলো যে, মুক্তাদীর প্রতিটি কাজ কোনো শিথিলতা না করে ইমামের আওয়াজ শেষ হওয়ার সাথে হবে। এ সম্পর্কে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “ইমাম এই জন্যই নির্ধারণ করা হয়, যাতে তাকে অনুসরণ করা হয়, তার প্রতি তোমরা ইখতেলাফ করবে না। সুতরাং ইমাম যখন আল্লাহু আকবার বলবে তোমরাও আল্লাহু আকবার বলবে এবং যখন তিনি রুকু করবেন তোমরাও রুকু করবে এবং তিনি যখন “সামি‘আল্লাহু লিমান হামিদাহ”বলবেন তখন তোমরা “রাব্বানা ওয়া লাকাল হামদ”বলবে আর ইমাম যখন সাজদাহ করবেন তোমরাও সাজদাহ করবে।”[সহীহ বুখারী ও মুসলিম]

[10] প্রথম তাশাহহুদে যদি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি দুরূদ পাঠ করা ছেড়ে দেয় এতেও কোনো ক্ষতি নেই। কারণ, প্রথম বৈঠকে দুরূদ পাঠ করা ওয়াজিব নয় বরং মুস্তাহাব।

[11] সহীহ বুখারী।

[12] হাদীসটি ইমাম আহমাদ, আবু দাউদ, তিরমিযী বর্ণনা করেছেন এবং ইমাম তিরমিযী হাদীসটিকে হাসান বলেছেন ও ইবন খুযায়মা সহীহ বলেছেন।

[13] সহীহ বুখারী।