মহিলাদের ঈদের নামাজে অংশগ্রহণ

বর্ণনা

ঈদের নামাজে নারীদের উপস্থিতি ইসলামি শরিয়ায় অনুমোদিত একটি বিষয়। তবে শর্ত হল যথার্থরূপে পর্দা বজায় রাখা, আল্লাহর নৈকট্য অর্জন ও ইসলামের আচার-অনুষ্ঠানের প্রদর্শনী প্রক্রিয়াকে উদ্দেশ্য হিসেবে নেয়া। সৌন্দর্য প্রদর্শন ও পুরুষ সম্প্রদায়কে আকৃষ্টকরণের মানসিকতা যেন কখনো স্থান না পায় সে ব্যাপারে সতর্ক দৃষ্টি রাখা। বর্তমান প্রবন্ধে এবিষয়গুলো নিয়েই আলোচনা করা হয়েছে।

Download
এ পেইজ এর দায়িত্বশীলের কাছে টীকা লিখুন

সম্পূর্ণ বিবরণ

    মহিলাদের ঈদের সালাতে অংশগ্রহণ

    حضور النساء في صلاة العيد

    < بنغالي >

    চৌধুরী আবুল কালাম আজাদ

    أبو الكلام أزاد

    —™

    সম্পাদক: ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া

    مراجعة: د/ أبو بكر محمد زكريا

    মহিলাদের ঈদের সালাতে অংশগ্রহণ

    আল্লাহ তা‘আলা নারী-পুরুষ উভয়কে সৃষ্টি করেছেন। তিনি তাদের দুনিয়া ও আখেরাতের কল্যাণ অর্জনের লক্ষ্যে সর্বযুগের সর্বশ্রেষ্ঠ ধর্ম ইসলাম দান করেছেন। তাদেরই মধ্য থেকে নির্বাচন করেছেন মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে, যিনি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন নারী-পুরুষের নিজস্ব গণ্ডিতে পূর্ণ অধিকার। হাতে গোনা কয়েকটি স্বতন্ত্র ইবাদত ব্যতীত সব ইবাদতে পুরুষ ও নারীকে সমান মর্যাদায় রেখেছেন। ইসলাম চায় নারী জাতি যাতে কোনো কল্যাণ থেকে বঞ্চিত না হয়। তাই-তো মুসলিমের উল্লেখযোগ্য ইবাদত আনন্দঘন পরিবেশ ও ইমামের দিক-নির্দেশনামূলক বক্তৃতা থেকে যাতে নারী-পুরুষ সমানভাবে উপকৃত হতে পারে সে মর্মে মানবতার মুক্তিদূত মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মহিলাদেরকেও আদেশ করেছেন ঈদগাহে উপস্থিত হতে।

    উম্মে আতিয়্যাহ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা বলেন,

    «أمرنا رسول الله صلى الله عليه وسلم أن نخرجهن في الفطر والأضحى العواتق والحيّض وذوات الخدور . فأما الحيّض فيعتزلن الصلاة. وفي لفظ : المصلى. ويشهدن الخير ودعوة المسلمين. (رواه الجماعة) وفي بعض ألفاظه : فقالت إحداهن : يا رسول الله لا تجد إحدانا جلباباً تخرج فيه، فقال صلى الله عليه وسلم : لتلبسها أختها من جلبابها».

    “রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহায় ঈদগাহে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। বৃদ্ধা, ঋতুবতী ও পর্দানশীল সকলের জন্য আদেশটি বহাল ছিল। তবে ঋতুবতী নারী ঈদের সালাত থেকে বিরত থাকবে এবং কল্যাণ (নসীহত শ্রবণ) ও মুসলিমদের সাথে দো‘আয় শামিল থাকবে। তিনি বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের মধ্যে কারো বড় চাদর না থাকলে সে কী করবে? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তার কোনো বোন তাকে নিজের চাদর পরিধান করতে দেবে”(সহীহ মুসলিম)

    অত্র হাদীস থেকে সুস্পষ্টভাবে বুঝা যায়, নারীদেরকেও ঈদের সালাতে শামিল হওয়া প্রয়োজন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুগে মহিলারা পাঁচ ওয়াক্ত সালাতে জামা‘আতে অংশগ্রহণ করতেন। তবে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে সে ব্যাপারে নিরুৎসাহিত করতেন। তিনি বলতেন, তাদের জন্য মসজিদে এসে জামা‘আতে সালাত পড়ার চেয়ে ঘরের কোণে নির্জন স্থানে সালাত আদায় অতি উত্তম। তাই পাঁচ ওয়াক্ত সালাতে তাদের জন্য মসজিদে যাওয়ার প্রয়োজন ছিল না। কিন্তু ঈদের সালাতের ক্ষেত্রে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এমনটি বলেন নি; বরং উম্মে আতিয়্যাহ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা-এর হাদীসে বুঝা যাচ্ছে আবাল, বৃদ্ধা, বণিতা সকলকেই নির্বিশেষে ঈদগাহে উপস্থিত হওয়ার আদেশ করা হয়েছিল। যেখানে ঋতুবতী নারীর ওপর থেকে পাঁচ ওয়াক্ত সালাতের দায়িত্ব রহিত করা হয়েছে, সেখানে তাকেও ঈদাগাহে উপস্থিত হয়ে মুসলিমদের কাতারে শামিল হওয়ার আদেশ করা হয়েছে। তাছাড়া পাঁচ ওয়াক্ত সালাত একাকীও আদায় করা সম্ভব। কিন্তু ঈদের সালাত জামা‘আত ছাড়া আদায় করা সম্ভব নয়। সুতরাং নারীরা এত বড় কল্যাণ থেকে বঞ্চিত হওয়া কোনো মতেই উচিৎ হবে না। তবে শর্তসাপেক্ষ যেমন, পূর্ণ পর্দার সাথে ঘর থেকে বের হতে হবে। ঈদগাহে তাদের জন্য আলাদা নিরাপদ ব্যবস্থা থাকতে হবে। এর জন্য সার্বিক প্রস্তুতি গ্রহণ করতে হবে। সৌদি আরবসহ আরব আমিরাতের অনেক মসজিদ ও ঈদগাহে মহিলাদের জন্য আলাদা ব্যবস্থা রয়েছে। সেখানে অযুখানা, টয়লেট ও সালাতের স্থানসহ সবকিছু, এমনকি প্রবেশ করারও পৃথক পৃথক গেইট রয়েছে। কিন্তু আমাদের দেশে সে রকম উল্লেখযোগ্য ব্যবস্থা নেই। আর এ জন্য মহিলারা এসব কল্যাণ থেকে বঞ্চিত হয়ে থাকে। আমাদের মুসলিম দেশগুলোতে এ বিষয়ে আরো উদারতার পরিচয় দেয়ার জন্য এগিয়ে আসা প্রয়োজন। আল্লাহ তা‘আলা আমাদের তাওফীক দান করুন। আমিন।

    সমাপ্ত

    আপনার মতামত আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ